• ই-পেপার

মসজিদে নামাজরত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

টেকনাফ

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছাড়ার আহ্বান

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছাড়ার আহ্বান
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো  হচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

সূত্র জানায়, রবিবার (২১ জুন) রাত থেকে চলা ভারি বৃষ্টি আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা।

এদিকে আজ সোমবার সকালে সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বৈরী আবহাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার এক বাসিন্দার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। মোহাম্মদ জসিম নামের ওই বাসিন্দার ট্রলারে থাকা জেলেরা সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও মাছ, জাল ও ট্রলার মিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

তবে অনেক বাসিন্দা জানান, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ই অবস্থান করছেন।

টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।’

সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাল দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণেও পানি জমছে।’

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনায় জেলেরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে ভারী বৃষ্টিতে উপকূলের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, ভারি বৃষ্টিতে নির্মীয়মান একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে ১৮ জন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে ১৮ জন গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টঙ্গী থানা পুলিশ।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিশেষ অভিযানে মাদক উদ্ধার, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, একই ধরনের অভিযানে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে টঙ্গী, পুবাইল, গাছা ও বাসন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি একটি মিছিল থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে হুমকির ঘটনা ঘটলে গাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

এ ঘটনায় এরই মাঝে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জিএমপি। এ অবস্থায় আগামীকাল ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নৈরাজ্য ও নাশকতা ঠেকাতে আজ সোমবার গাজীপুরসহ সারা দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষককে হেফাজতে নিল পুলিশ

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, মাদরাসা শিক্ষককে হেফাজতে নিল পুলিশ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আমির হোসেন নামের মাদরাসার এক শিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আমির হোসের ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষ পদে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার মাদরাসা ছুটির পর উপহার দেওয়ার প্রলোভনে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন শিক্ষক আমির হোসেন। বাসায় ফিরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়রা মাদরাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

শাহজালাল মাজারের দান বাক্সে পাওয়া গেল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাহজালাল মাজারের দান বাক্সে পাওয়া গেল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
সংগৃহীত ছবি

সিলেটে ৭০০ বছরের প্রথা ভেঙে মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করিয়েছেন সিলেটের সদ্য বদলি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সম্প্রতি সিলগালা করা দরগার দুটি ডেগ ও দরগার বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনের বসানো দানের বাক্সের টাকা সবার উপস্থিতিতে উন্মুক্ত করে গণনা করা হয়। গণনায় মাত্র সাড়ে ৩ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজারের অধিক টাকা, ৭ আনার মতো সোনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর দুইটার দিকে আকস্মিক দরগা চত্বরে যান সিলেটের সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তার সঙ্গে প্রশাসনের একটি দল ছিল।

দরগা চত্বরে গিয়ে সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে মাজারের দানের দুটি ডেগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা দানবাক্স খোলা হয়। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানের টাকা গণনা শুরু হয়। দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা গণনা কাজে অংশ নেন। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৭ আনা সোনার পাশাপাশি সৌদি রিয়ালও পাওয়া যায়। এরপর প্রশাসনের জিম্মায় সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, দানের অর্থ ও সোনা হযরত শাহজালাল (রহ.) সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জামা দেওয়া হবে।

দরগায় উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি মো. সারওয়ার আলম। পরে এসব বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহ প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

এদিকে গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তার সমর্থকেরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চলা এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সারওয়ার আলম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে সরানোর পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।