• ই-পেপার

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন এমপি জীবা আমিন খান

টাঙ্গাইলে জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা শাহ আলম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আলী আজগরের ছেলে এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদেবপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি আকাশমনি বাগানের জমি নিয়ে নবা সুতার ও বাদশা মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বৃষ্টির পানিতে নবা সুতারের বাড়ির মাটি ধুয়ে বাদশা মিয়ার জমিতে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শাহ আলমসহ কয়েকজন আহত হন।

শাহ আলমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুস ছালাম বলেন, যুবদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পারিবারিক বিরোধে জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
পারিবারিক বিরোধে জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাই আমির হোসেন সরদার (৪৫) মারা গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছোট ভাই জুয়েল সরদার (২৭) পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১০টার দিকে গোসাইরহাট পৌরসভার মিত্রসেনপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হোসেন সরদার ওই এলাকার মৃত গনি সরদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। ছোট ভাই সোহেল সরদারের তিন হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মেজ ভাই জুয়েল সরদারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে আসেন বড় ভাই আমির হোসেন।

একপর্যায়ে আমির হোসেন জুয়েলকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েল কিছু সময় পর একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ফিরে আসেন। পরে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সময় তার স্বামী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে জুয়েল এসে তার স্বামীর মাথায় আঘাত করেন।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্বপ্নে জীবিত দেখে দাফনের ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

ভোলা প্রতিনিধি
স্বপ্নে জীবিত দেখে দাফনের ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলা সদরে স্বপ্নে জীবিত দেখে দাফনের ১৮ দিন পর মরিয়ম (২০) নামের এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মরিয়ম ওই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক বছর আগে বাবার সংসারের অভাব দূর করতে চট্টগ্রামে যান মরিয়ম। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন তিনি। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন মরিয়ম। এরপর চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। ওইদিন ঈদের নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

দাফনের প্রায় ১৫ দিন পর কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে মরিয়মে এক ভাই ও বোন রাতে স্বপ্নে দেখেন কবরের মধ্যে মরিয়ম জীবিত রয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিন কবর ঘিরে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।

বিষয়টি নিয়ে পরিবারে সদস্যরা স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কবরের ওপর মাটি দিতে বলেন এবং কোনোভাবেই মরিয়ম কবরে জীবিত থাকতে পারে না বলে জানান। এক পর্যায়ে গত ১৬ জুন বিকেলে সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন মরিয়মের স্বজনরা।  

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম জানান, তিনি মরিয়মের জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন। সম্প্রতি মরিয়মের স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন, মরিয়ম তার ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন, তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদের জানালে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব। 

কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা তা দেখতে। আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি। 

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল। কবর খোঁড়ার পর তাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে তার স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল। কবর খোঁড়ার আগে তাদের আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা বলেছিলাম। 

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। ছবি : কালের কণ্ঠ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মুহূর্ত থেকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সেই মুহূর্ত থেকে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথমে যারা হতদরিদ্র তারা আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবে, পর্যায়েক্রমে সবাই এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এই কার্ড বিতরণের সময় কে কোন মতের, কে কোন পথের এটা বিবেচনা করা হয়নি। সবাই কার্ড পাবে।

এখানে ৪৮টি থেকে ৪৯টি ধারা বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে পূরণ করে অনলাইনে দাখিল করলে অটোমেটিকভাবে যারা কার্ড পাবে তাদের নাম চলে আসবে। তবে পর্যায়ক্রমে সবাই পাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ২ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।

বরগুনা বেতাগী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বুধবার (১৭ জুন) ৩টায় জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীপ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই- খুদা, বরিশাল বিভাগের সমাজসেবা পরিচালক শাহ মাে. রফিকুল ইসলাম ও  বেতাগী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কবির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিপ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। তিনি তার নিবার্চনী এলাকা বরগুনা-২ আসনের সব জণগণকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং একই  সঙ্গে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ ছাড়া এ সময় আরো বক্তব্য দেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জলিলুর রহমান খান নান্না, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ ফারুক, বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. কামাল হোসেন খান।