• ই-পেপার

বিভিন্ন খাতে ভাতা পুনর্নির্ধারণ, পরিপত্র জারি

১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার, সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার, সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জিটুজি (গভমেন্ট টু গভমেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০ কম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তেলের দাম পড়বে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার বা (বাংলাদেশি ২০ হাজার কোটি টাকার মতো)। এই তেল কেনায় সমঝোতা করতে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি দল।

সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, কম দামে তেল কেনায় সমঝোতা করতে এবারই প্রথম কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছেন। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানসহ মন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। 

বিপিসির একটি সূত্র জানায়, বছরে ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় দরপত্রের মাধ্যমে। বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সমঝোতা করে কেনা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার জন্য ১০ দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসির চুক্তি আছে। তার আওতায় ওইসব দেশের সরকারি-বেসরকারি কম্পানি বছরের জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর দুই ভাগে তেল সরবরাহ করে। 

সূত্রটি আরো জানায়, এবারের সমঝোতায় যে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সমঝোতা হবে, তাতে অংশ নেবে-ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি ও কিউ ট্রেডিং এবং পেটকো মালয়েশিয়া।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জিটুজি ভিত্তিতে তেল কেনার প্রক্রিয়ায় তেলের দাম নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না। প্ল্যার্টসের দামের ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি ওই তেলের দাম পরিশোধ করবে। জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমঝোতা হবে প্রিমিয়াম বা জাহাজ ও ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে। আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ টনের পরিশোধিত তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সম্পন্ন করেছে বিপিসি। এতে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম হবে ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনা করে ওই প্রিমিয়াম চেয়েছে তেল সরবরাহকারীরা। আগামী শুক্রবার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেই প্রিমিয়াম অনেক কমে আসবে বলে মনে করছে বিপিসির কর্মকর্তারা। 

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্বস্তি ফিরছে। মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধকালীন ৩০ হাজার টনের পরিশোধিত তেল কিনতে সরকারকে দিতে হয়েছিল ৫ কোটি ডলার। এখন সেটি সাড়ে তিন কোটি ডলারে নেমে এসেছে। সবশেষ প্ল্যার্টস ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি এখন ডিজেল কিনছে প্রতি লিটার ১৬৩ টাকায়। এর মধ্যে এনবিআরের আমদানি শুল্ক আছে ৩৬ টাকা।

দেশে ১৪ জুন পর্যন্ত অকটেন ৫১ হাজার ৭৮ টন, পেট্রোল ২৮ হাজার ৮৩২ টন, জেট ফুয়েল ৫২ হাজার ৯০৪ টন, ডিজেল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন এবং ফার্নেস অয়েল আছে ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন। এই তেল দিয়ে ৩২ দিনের বেশি চাহিদা মেটানো যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডা. শফিকুর রহমান ও ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস ও মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার (দোভাষী) মাহফুজুল হক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিনিময়, মেডিক্যাল টুরিজম এবং মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ইরান সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সাক্ষাতের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সাফল্য এবং ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত তাকে বিশেষ অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের সকল নাগরিকের জন্য গভীর দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন।

যুদ্ধ বিরতি ত্বরান্বিত করার স্বার্থে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, এই শান্তি চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং ইরান আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আলোচনাকালে উভয়পক্ষই ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন ও ঢাকা-তেহরান সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতকে সমন্বয় করতে হবে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

অনলাইন ডেস্ক
নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতকে সমন্বয় করতে হবে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারত। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বুধবার (১৭ জুন) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি মাসের ১ জুন থেকে বাংলাদেশে দুই শতাধিক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’-নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব ঠেলে পাঠানো বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এমন অন্তত ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে বিভিন্ন দলকে কাঁটাতারের বেড়া কেটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় গত ৫ জুন ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, ওই ব্যক্তিদের জিরো লাইনে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। একাধিক পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।

একইভাবে ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুইটি পরিবারের ছয় সদস্য এবং ৮ জুন এক গর্ভবতী নারী ও তার শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকা ছিলেন। পরে বিএসএফ তাদেরও ফিরিয়ে নেয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মার্চের নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনেকের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবার, যাদের কাছে ভারতের আধার কার্ড ছিল এবং যারা একাধিকবার ভোট দিয়েছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যাই এবং আক্ষরিক অর্থেই সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিই।’

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া সীমান্তে কাউকে ঠেলে দিলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই এবং নাগরিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কোনো মানুষ, তার নাগরিকত্ব যা-ই হোক না কেন, দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে পারে না। ভারতকে এই নির্মম ঠেলে পাঠানো বন্ধ করতে হবে এবং উভয় দেশকে নিশ্চিত করতে হবে; সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে মানবিক মর্যাদা যেন কখনো ক্ষুণ্ণ না হয়।

সূত্র : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

বাসস
কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান এক দশমিক পাঁচ শতাংশে উন্নীত করা এবং পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘ক্রিয়েটিভ হাব’বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে ‘ওয়ান-ভিলেজ, ওয়ান-প্রোডাক্ট’ বা ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় অঞ্চলভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যের প্রসারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এতে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের সৃজনশীল শিল্পখাতের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করা এবং সেগুলোকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই সম্ভাবনাময় খাতটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ব্র্যান্ডিং এবং ভবিষ্যতের কল্যাণমুখী বিনিয়োগ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

‘একগ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় সৃজনশীল অর্থনৈতিক পণ্যগুলো চিহ্নিত ও প্রসারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে তাঁত ও বয়ন শিল্প, মৃৎশিল্প, টেরাকোটা (পোড়ামাটির ফলক), শীতল পাটি, শতরঞ্জি ও কাঠের পুতুলের মতো ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, হাতে তৈরি গহনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিশেষ পণ্য।

পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ডিজাইন সেন্টারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপনকে অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বাজেটে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই হাবগুলো একাধারে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে থাকবে সাংস্কৃতিক ভেন্যু, পাঠ সুবিধাসহ বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ক্যাফেটেরিয়া এবং ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় চিহ্নিত আঞ্চলিক পণ্যগুলোর প্রদর্শনী, প্রচার ও বিপণনের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ হাব বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তুলতে একটি ১০ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল এবং সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কারওয়ান বাজার, তেজগাঁওয়ে সার্ভেয়ার জেনারেলের কার্যালয় সংলগ্ন অব্যবহৃত জমি এবং বিসিকের আওতাধীন খালি শিল্প প্লটগুলোতে এই হাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

রাজধানীর বাইরেও এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, দেশে একটি প্রাণবন্ত সৃজনশীল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এবং সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিতে ক্রিয়েটিভ হাবের উন্নয়নকে অপরিহার্য মনে করে সরকার।

ক্রিয়েটিভ হাব কর্মসূচির পাশাপাশি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে ইনোভেশন হাব (উদ্ভাবন কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশব্যাপী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতে এই সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য সৃজনশীল অর্থনীতির পণ্যের উৎপাদন, প্রচার ও বিপণন জোরদার করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে অর্থনৈতিক সুযোগের গণতান্ত্রিকীকরণ করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজে অর্থনৈতিক সুযোগের গণতন্ত্রীকরণ করতে চাই, যাতে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ুজনিত লভ্যাংশকে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশে রূপান্তর করা যায়।’

দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপকল্পের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য আমাদের।

সরকার আশা করছে, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি, ক্রিয়েটিভ হাব, ইনোভেশন হাব এবং ডিজাইন সহায়তা উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের অবদান বাড়বে। 

একই সঙ্গে এই খাতের মাধ্যমে ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে এর অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে।