• ই-পেপার

স্বপ্নে জীবিত দেখে দাফনের ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

অনলাইনে পাখি বিক্রি

টঙ্গীতে ৯৯৯-এর ফোনকলে ১৬ পাখি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
টঙ্গীতে ৯৯৯-এর ফোনকলে ১৬ পাখি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে অনলাইন চক্রের কাছ থেকে ১৫টি ময়না ও ১টি টিয়াসহ মোট ১৬টি বন্য পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের এক কর্মকর্তার ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশ এ অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে পাখি সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর রোডের ব্রাইট মডেল স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইব্রাহীম (৩৬) ও মাহিদুল ইসলাম (১৮)।

দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে নিষিদ্ধ বন্য পাখি বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বন্যপ্রাণী অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক নিশ্চিত হন যে, টঙ্গীর আরিচপুর রোডের একটি বাড়িতে বিক্রির জন্য প্রচুর পাখি জড়ো করা হয়েছে। পরে অভিযানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান।

৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল শাহিদা কলটি গ্রহণ করেন এবং ডিসপাচার এসআই আমানত হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টঙ্গী পূর্ব থানাকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে খাঁচাবন্দি অবস্থায় ১৫টি ময়না এবং ১টি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাখি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তীতে এগুলোকে অবমুক্ত করা হবে। 

টেকনাফে দুই নাইট গার্ড অপহরণ, বেধড়ক মারধরের অভিযোগ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে দুই নাইট গার্ড অপহরণ, বেধড়ক মারধরের অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকায় দুই নাইট গার্ডকে অপহরণ করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) ভোরে রঙ্গীখালী এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। আহতরা হলেন রঙ্গীখালী এলাকার বাসিন্দা মাঈনউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন।

ভুক্তভোগী মাঈনউদ্দিন জানান, তারা রঙ্গীখালী বাজারের একটি টমটম গ্যারেজে রাতের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড তাদের নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ফেলায় অস্ত্রের মুখে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের একটি নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে ওই দুজনকে ভয়ভীতি দেখাতে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। হামলাকারীরা বিভিন্ন মামলার আসামি এবং ভুক্তভোগীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাঈদ চৌধুরী জানান, বুধবার দুপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাঈনউদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন বলেন, “অস্ত্রধারী কয়েকজন লোক আমাদের তুলে নিয়ে যায়। মাঈনউদ্দিনকে লোহার রড দিয়ে বেশি মারধর করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।”

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “হ্নীলার রঙ্গীখালী এলাকায় দুজনকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটিয়ায় ৫ বছরের শিশু নিখোঁজ, ঘরেই মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় ৫ বছরের শিশু নিখোঁজ, ঘরেই মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিকের পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান নিখোঁজের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের ঘরের বিছানায় পাওয়া যায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি হাতের লেখা চিঠি। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিখোঁজ শিশুর নাম মো. জায়হান (৫)। সে স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাড়ির সামনে পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবার পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এদিকে একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হওয়ার খবরে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন।

পরিবারের দাবি, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এই ভিড়ের সুযোগে অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ ঘরের সামনের কক্ষে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিছানার ওপর চিঠিটি দেখতে পান। চিঠিতে শিশুর বাবা শাহজাহানকে সম্বোধন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি না জানানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

চিঠির একটি অংশে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের ওপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভেতর ঢুকে যাবি। ঢুকে গিয়ে দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দিবি।’

চিরকুটে আরো লেখা আছে, ‘যদি কোনো চালাকি করস তাহলে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। তোর ছেলেকে জীবনে খুঁজে পাবি না। মোবাইলটা তোর ছেলেকে তোকে দেখানোর জন্য... আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

এ ছাড়া চিঠির শেষ অংশে রহস্যজনকভাবে লেখা হয়, ‘মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

নিখোঁজ শিশুর বাবা শাহজাহান জানান, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, মুক্তিপণের চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। গতকাল রাত থেকে এখনো পর্যন্ত থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

খুলনায় দুই বাস ও তেলবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে আহত ৮

বিএল কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী হাসপাতালে

খুলনা অফিস
খুলনায় দুই বাস ও তেলবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে আহত ৮
ছবি: কালের কণ্ঠ

খুলনার ফুলতলা উপজেলার যুগ্নিপাশা বাজার এলাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি তেলবাহী ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুলতলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী রূপসা পরিবহনের একটি বাস, নওয়াপাড়া থেকে খুলনাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক এবং বিএল কলেজগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নওয়াপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইভা, সমাজকর্ম বিভাগের তামান্না জান্নাত, অর্থনীতি বিভাগের সাবরিনা, গণিত বিভাগের রন্তা রায়, মাইমুনা, বাংলা বিভাগের নাজমুন নাহার, যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান এবং বাসের হেলপার সাইফুল। তাদের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম তৌহিদ জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক করে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে যশোর থেকে খুলনাগামী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক চলাচলের সময় হঠাৎ এর একটি চাকা ফেটে যায়। এতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যশোরগামী রূপসা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পরপরই তেলবাহী ট্রাকটির পেছনে থাকা খুলনা সরকারি বিএল কলেজের যাত্রীবাহী একটি বাস সামনে থাকা ট্রাকটিকে এড়িয়ে যেতে না পেরে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তেই তিনটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাস দুটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।