প্রায় দুই বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির একটি পার্কে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সলেমান (৫০) ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা সুবর্ণা (২০)।
সোমবার (১৫ জুন) কনের নিজ বাড়িতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে কর্মসূত্রে মধ্যপ্রাচ্যে যান সুবর্ণা। সেখানে অবস্থানকালে আবুধাবিতে সলেমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি দুই পরিবারকে জানান। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়।
বিয়েকে ঘিরে মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। স্বজনরা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের জানা ছিল। পারস্পরিক আলোচনা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরের পারিবারিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কেও কনের পরিবার অবগত ছিল।
জানা গেছে, আমিরাতের নাগরিক সলেমান এর আগে বিয়ে করেছেন এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি জেনেশুনেই সুবর্ণা ও তার পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুবর্ণা বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে দুই পরিবারই জানে। সবার মতামত ও সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
তবে সলেমান গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে আগ্রহী নন।
বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা হিমেল আহমেদ অপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা রইল। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরো কিছু যাচাই-বাছাই করা হলে ভালো হতো। তবে যেহেতু দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হচ্ছে, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’
মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ‘মেয়েটি সাবালিকা এবং ছেলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তারা যেন সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারে, সেটিই কামনা করি।’




