• ই-পেপার

গাজীপুরে যুবলীগ নেতা বেলায়েত গ্রেপ্তার

সদরপুরে ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৪২টি চায়না দুয়ারি জব্দ

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুরে ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৪২টি চায়না দুয়ারি জব্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৪২টি চায়না দুয়ারি জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বাজারের দুটি দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি উদ্ধার করা হয়।

পরে সন্ধ্যায় সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওনের নেতৃত্বে জব্দ করা জাল ও দুয়ারিগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি ব্যবহারের ফলে নদী-নালা, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মৎস্যসম্পদ হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সরকার মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব জালের উৎপাদন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মৎস্য উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৎস্য আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে প্রচারণামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় বজ্রাঘাতে হাসমত শেখ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার সরসপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরসপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক হাসমত শেখ গরুর খাবারের জন্য মৎস্য ঘেরের পাড়ে ঘাস কাটতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে পুরো শরীর ঝলসে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত হাসমত শেখ দরিদ্র কৃষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। 

নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কুমিল্লা প্রতিনিধি
নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ছবি : কালের কণ্ঠ

পেশাদারি, বস্তুনিষ্ঠতা এবং উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রত্যয় নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা, র‍্যালি, কেক কাটা এবং দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালিত হয়।

নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক ও দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এটিএন বাংলার প্রতিনিধি খাইরুল আহসান মানিক, মানবাধিকারকর্মী আলী আকবর মাসুম, আগামীর সময় প্রতিনিধি মীর শাহ আলম, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধি সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাব নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন এখন টিভির ব্যুরো প্রধান খালিদ সাইফুল্লাহ, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, কালের কণ্ঠের কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিদ পাটোয়ারী, নয়া দিগন্তের কুমিল্লা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, এনটিভির প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পেশাগত সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি দায়িত্ববোধ, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সামাজিক অঙ্গীকার।

তারা আরো বলেন, পেশাগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাংবাদিকদের একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই। নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পেশাগত সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করবে।

আলোচনাসভা শেষে অতিথিরা প্রেসক্লাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। পরে প্রেস ক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
ছবি : কালের কণ্ঠ

যমুনা নদীর ওপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে ‘দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের গণসই সংবলিত এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপি পেশকালে কমিটির নেতারা উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো যমুনা নদীর দুই চ্যানেলে দুটি পৃথক সেতু (বেগম খালেদা জিয়া সেতু ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেতু) নির্মাণ এবং মাঝখানের স্থায়ী চরে ২০ ফুট উঁচুতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন। চরের উর্বর মাটিতে উৎপাদিত মরিচ, পেঁয়াজ, ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন রবি শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সর্বাধুনিক ‘কৃষিভিত্তিক ইপিজেড’ গড়ে তোলা। যমুনার বিশাল চরাঞ্চল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ‘চর ট্যুরিজম’ বা আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।

স্মারকলিপি দেওয়া শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্মারকলিপি পেশ ও গণদাবি আদায়ের সমাবেশে নেতৃত্ব দেন এবং বক্তব্য রাখেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুন নবী টিটুল এবং সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল, ফুলছড়ি গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহিন, আশরাফুল ইসলাম টিটু, মশিউর রহমান, সাদেকুল ইসলাম মনির, মাজেদুর রহমান মাজু ও জাহাঙ্গীর আলম।

সমাবেশে নেতারা বলেন, ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহাসিক যোগাযোগ রুটটি পুনরায় পুরোদমে চালু করা এখন সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেটের যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে।