কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা ৯ বাংলাদেশি ৩৮ ঘণ্টা ধরে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। নারী ও শিশুসহ এসব মানুষ ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিজিবি-বিএসএফের একাধিক পতাকা বৈঠকেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোর ৫টার দিকে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও মানকারচর সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুই দলে মোট ৯ জন বাংলাদেশিকে সীমান্তে এনে রেখে যায় বিএসএফ। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং মানকারচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশইন করা হয়।
পুশইনের পর নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত এসব মানুষকে দেখতে পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করা হয়।
গয়টাপাড়া সীমান্তে থাকা ৬ জনের সঙ্গে কথা বলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বংশেরকুল গ্রামের আবদুর রউফের ছেলে বিল্লাল হোসেন, একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে ছাব্বির হোসেন, মৃত শামসুল হকের ছেলে হিমেল, বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী সুমি আক্তার এবং তাদের দুই শিশু কন্যা ফাতেমা ও ফাহিমা রয়েছে।
অন্যদিকে মানকারচর সীমান্তে থাকা তিনজন হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং হালুয়াঘাট উপজেলার নাইম (২২)।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কোনো আশ্রয় না থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো সমাধান হয়নি।
সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।




