২০২৬-২০২৭ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার নিজস্ব মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময়সভায় বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ। বাজেটে আম চাষিদের জন্য বরেন্দ্রাঞ্চলে বিশেষ হিমাগার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আম সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনে বহুদিনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
মতবিনিময়সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই অর্থ কাজে লাগিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা এলাকায় কৃষিভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।
আরো পড়ুন
উপজেলা পর্যায়ে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন আপাতত হচ্ছে না
চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। রাজশাহীসহ সব বিভাগে এমন ল্যাবরেটরি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলে ব্যবহৃত ফ্রুট ব্যাগের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করায় স্থানীয় আম, পেয়ারাসহ ফলচাষিরা উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এবং রহনপুর রেলবন্দর নিয়ে চেম্বার সভাপতি বলেন, সোনামসজিদ বন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ১ হাজার ২ শত কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় সরকারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবিলম্বে সব পণ্য আমদানির জন্য বন্দরকে উন্মুক্ত করে একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে।
রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে নিয়মিত ভারতে থেকে ট্রেনে পণ্য আসে জানিয়ে তিনি বলেন, একে পূর্ণাঙ্গ বন্দর করা গেলে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে কম খরচে চতুর্দেশীয় ব্যবসা করা সম্ভব হবে। দুই বন্দর ও ইপিজেডের মাধ্যমে নতুন লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাজেটের বেশিরভাগ প্রস্তাবকে সমর্থন করে ওয়াহেদ বলেন, উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে ঘোষণা ইতিবাচক। তবে অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে বিক্রয়ের ওপর বিদ্যমান ন্যূনতম (টার্নওভার) কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হলে ব্যবসায়ীদের কর ভার কমে যেত। বিশেষ করে খাদ্য, মুদিসহ কিছু ব্যবসায়ী মাত্র ২-৩ শতাংশ মুনাফায় ব্যবসা করেন। টার্নওভার করের কারণে তারা বিপদ্গ্রস্ত।
সভায় চেম্বার সিনিয়র সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, পরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।