• ই-পেপার

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় : রুমিন ফারহানা

রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ

বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না : গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না : গোলাম পরওয়ার
সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে (শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি চত্বর) এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনের দিকে যায়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এ দেশের জনগণ সেটি মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না।’

ভারতের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীর সীমানা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু ভারত আমাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেনি। তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। এমনকি শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকে রাখার পরও ফেরত না দিয়ে বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশ ইন রুখে দিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু নতুন সরকারও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানাতে পারছে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার যদি মুজিববাদের পথে হাঁটে, তবে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’

সীমান্তে ভারতের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ও পুশ ইন চললেও সরকার উদ্বিগ্ন নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এটি নাকি বর্ডার কিলিং নয়! তাহলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।’

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। ভারতের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এ দেশে আর ফিরবে না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন এবং এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির প্রমুখ। বক্তারা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধের দাবি জানান।

আগে খরচ, পরে অনুমোদন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগে খরচ, পরে অনুমোদন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বিরোধীদের
সংগৃহীত ছবি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ সময়ে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন নেওয়ার প্রচলিত প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেছেন, সরকার আগে ব্যয় সম্পন্ন করে পরে সংসদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাইছে। এর ফলে সংসদের আর্থিক নজরদারি ও অনুমোদনের সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যত ‘লোক দেখানো’ বা আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (১৫ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের জিডিপির আকার প্রায় ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।’

আর্থিক খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততাও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।’ ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রকৃত সক্ষমতাহীনদের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদের ও ডলারের হার নির্ধারণ করায় এই বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থপাচারের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘শ্বেতপত্র অনুযায়ী গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। আর গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।’

নতুন সরকারের বৈদেশিক অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আইএমএফ আগের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি নতুন সরকারের জন্য বহাল থাকবে না বলে জানিয়েছে। ফলে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে চীন বা অন্য কোনো দেশের ঋণের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যেখানে সুদের হার ও পরিশোধের চাপ—দুই-ই বেশি।’

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অর্থপাচার এবং রপ্তানি খাতের দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়লেও রপ্তানি সেই হারে বাড়ছে না, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বরাদ্দ বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দেওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।’

একই দলের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর সম্পূরক বাজেটের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার ঘটনা সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই প্রতিফলন।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের হিমশিম খাওয়ার চিত্র তুলে ধরে আব্দুল গফুর বলেন, ‘সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু কার্যকর বাজার তদারকির পরিবর্তে সরকার অতিরিক্ত বরাদ্দ চাইছে। অতিরিক্ত অর্থের কতটুকু বাজার মনিটরিংয়ে ব্যয় হবে?’ তিনি সম্পূরক বাজেটের একটি অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি খাতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন।

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুতেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন খরচের পর অনুমোদন নেওয়ার প্রচলিত রীতির সমালোচনা করে এই ‘প্র্যাকটিস’ বন্ধের দাবি জানান।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদের আওতায় সরকার অতিরিক্ত ব্যয় করে পরে তা সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে আনে। খরচ হয়ে যাওয়ার পর তা সংসদে আসায় অনুমোদন দেওয়া ছাড়া সংসদের সামনে আর কোনো বাস্তব বিকল্প থাকে না। সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশোধিত বাজেট যথাসম্ভব মার্চ মাসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘আগে খরচ, পরে অনুমোদন নয়; ‘আগে অনুমোদন, পরে খরচ’—এই নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ব্যয় করার প্রবণতা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।’

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আগে সংসদের অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতো।

স্পিকার বলেন, ‘আমিও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রীয় খরচ যা কিছু, সেটা আগেই সংসদে অনুমোদন নেওয়া উচিত। তবে নানা কারণে এটা হয়তো সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূরক বাজেট একই পদ্ধতিতে পাস হয়ে আসায় এটি এক ধরনের সংসদীয় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সংসদের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার জন্য বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন।

তিনি ঘটনাটিকে জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেন, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি থাকার পরও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তীব্র অপমানবোধ থেকে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

সাইফুল আলম খান মিলন প্রশ্ন তোলেন, এ ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এটি পুরো দেশের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সংসদে ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

তবে উত্থাপিত বিষয়টিকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তবে সংসদ সদস্য চাইলে এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পৃথক নোটিশ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

রাশেদ খান

হান্নান মাসউদের হলফনামায় মিথ্যা তথ্য, বাতিল হচ্ছে এমপি পদ!

অনলাইন ডেস্ক
হান্নান মাসউদের হলফনামায় মিথ্যা তথ্য, বাতিল হচ্ছে এমপি পদ!
হান্নান মাসউদ।

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। এই অপরাধে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কিনা, প্রশ্ন করেন তিনি।

আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন অভিযোগ করেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ? সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ।

হান্নান মাসউদ তার আইনজীবীর পরামর্শে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেন। এমপি হান্নান মাসউদ এবিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানান রাশেদ খান। বলেন, ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে বলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা হান্নান মাসউদকে তার আইনজীবী করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রাশেদ খান বলেন, তিনি (হান্নান মাসউদ) দাবি করেছেন, তার স্থাবর সম্পদ নাই। তার মানে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

হলফনামার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর ২০২৫ সালের ১১ আগস্টের একটি বক্তব্য কোড করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, 'কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে বিধান আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।'

রাশেদ খান বলেন, আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা সত্য না কি মিথ্যা, তা হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলেও উত্তর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না, একজন এমপি এতো গরিব, এতো সৎ! আহারে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?