• ই-পেপার

মহানবী (সা.)-এর শানে বেয়াদবির ভয়াবহ পরিণতি

পর্তুগালের ঐতিহাসিক লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
পর্তুগালের ঐতিহাসিক লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদ
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপের অন্যতম নান্দনিক দেশ পর্তুগাল। আর সেই দেশের রাজধানী লিসবনের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য ইসলামী স্থাপত্য—লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদ। এটি শুধু পর্তুগালের বৃহত্তম মসজিদই নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবসেবা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্য, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং উদার ইসলামী মূল্যবোধের কারণে মসজিদটি মুসলিম-অমুসলিম সবার হৃদয় জয় করেছে।

লিসবনে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের স্বপ্নের সূচনা হয় ১৯৬৬ সালে। সে সময় পাঁচজন মুসলিম ও পাঁচজন অমুসলিম নাগরিকের একটি প্রতিনিধিদল মসজিদ নির্মাণের অনুমতি চাইলেও পৌরসভা তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে মোজাম্বিকসহ বিভিন্ন পর্তুগিজ উপনিবেশ থেকে বহু মুসলিম শিক্ষার্থী লিসবনে উচ্চশিক্ষার জন্য আসতে শুরু করলে একটি মসজিদের প্রয়োজনিয়তা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৭৩ সালের আরব তেলসংকটের পর মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ১৯৭৭ সালে লিসবনের তৎকালীন মেয়র মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দেন। ১৯৭৮ সালে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় এবং ১৯৭৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সাত বছরের নির্মাণকাজ শেষে ১৯৮৫ সালে উদ্বোধন করা হয় এই ঐতিহাসিক মসজিদ।

মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত সহযোগিতা
এই মসজিদ নির্মাণে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লিবিয়া, মিসর, পাকিস্তান ও ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। বিশেষভাবে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ খালিদ বিন আবদুল আজিজের নির্দেশনায় বড় অঙ্কের অনুদান আসে। পরে তৎকালীন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ (বর্তমান সৌদি বাদশাহ) নিজে লিসবন সফর করে অনুদানের শেষ কিস্তি হস্তান্তর করেন এবং পবিত্র কাবার গিলাফের (কিসওয়া) একটি অংশ উপহার দেন। সেই ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও মসজিদের দেয়ালে সংরক্ষিত রয়েছে। তারপর মসজিদের সম্মানে ১৯৮১ সালে পাশের সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘রুয়া দেল মস্কিতো’ (মসজিদ সড়ক)।

ইসলামি ও পর্তুগিজ স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয়
লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদটি বিখ্যাত স্থপতি আন্তোনিও মারিয়া ব্রাগা ও জোয়াও পাওলো কনসেইসাওয়ের যৌথ নকশায় নির্মিত হয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্য ও পর্তুগিজ স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার সংমিশ্রণ এই মসজিদকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। সুউচ্চ মিনার, তিনটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ, প্রশস্ত নামাজের হল, অভ্যর্থনা কক্ষ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সুবিশাল অডিটোরিয়াম—সব মিলিয়ে এটি এক মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যকীর্তি। ভেতরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে নয়নাভিরাম আরবি ক্যালিগ্রাফি ও সূক্ষ্ম অলংকরণ। একসঙ্গে এক হাজারেরও বেশি মুসল্লি এখানে সালাত আদায় করতে পারেন। ২০১৫ সাল থেকে হাফেজ শায়খ ডেভিড মুনির এই মসজিদের প্রধান ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মানবতার সেবায় এক আলোকবর্তিকা
পর্তুগাল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ায় সরকার এই মসজিদকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেয় না। তবুও স্থানীয় মুসলিম সমাজ ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের সহযোগিতায় এটি মানবসেবার এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। ২০১১ সাল থেকে প্রতিমাসে নির্ধারিত দিনে অভাবী মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। বড়দিনের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রায় ২০০ জন অমুসলিম দরিদ্র মানুষের জন্য প্রতিদিন খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর বক্স বিতরণ করা হয়। সারা বছরই অসহায় মানুষের মাঝে পোশাক বিতরণ অব্যাহত থাকে।

রমজান মাসে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করা, হালাল ভোজের ব্যবস্থা, মরদেহ গোসল, জানাজা এবং পর্তুগাল সরকারের দেওয়া মুসলিম কবরস্থানে দাফনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধাও রয়েছে এখানে।

জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র
লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদের অন্যতম বড় শক্তি এর বিস্তৃত শিক্ষামূলক কার্যক্রম। এখানে শিশুদের জন্য ইসলামি শিক্ষা ও আরবি ভাষা শেখানোর পৃথক বিদ্যালয় পরিচালিত হয়, যেখানে প্রায় ৩০০ শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নৈশকালীন আরবি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে বহু অমুসলিমও রয়েছেন, যারা আরবি ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। নবমুসলিমদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্লাস, নারীদের জন্য পৃথক ইসলামি শিক্ষা বিভাগ এবং শিশু ও বড়দের জন্য কোরআন হিফজ কর্মসূচিও নিয়মিত পরিচালিত হয়।

প্রতিবছর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী এই মসজিদ পরিদর্শনে আসেন। পর্তুগালের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মসজিদ পরিদর্শন করেন—যা দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে মসজিদটির মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। ২০০৮ সালে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও এই মসজিদ সফর করেন। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম কোনো মসজিদ পরিদর্শন। সফর শেষে তিনি এটিকে তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।

লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদ আজ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; এটি মানবতা, সহমর্মিতা, শিক্ষা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। ধর্ম, জাতি কিংবা বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যকে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই মসজিদ। 

পরস্পর উঠাবসায় যে তিনটি কাজ হারাম

মুফতি ওমর বিন নাছির
পরস্পর উঠাবসায় যে তিনটি কাজ হারাম
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম মানুষের ইবাদতের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ককেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই একজন মুসলমান তার উত্তম চরিত্র, সুন্দর আচরণ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং অন্য মুসলমানের সম্মান রক্ষার মাধ্যমেও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে অনেক সময় মানুষ না বুঝেই অন্যকে উপহাস করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, দোষ খুঁজে বেড়ায় কিংবা অপমানজনক নামে ডাকে। অথচ এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ। পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতিমালা প্রদান করেছেন। 

মুমিনের জন্য পরস্পর উঠাবসায় তিনটি কাজ হারাম

১. অন্যকে উপহাস করা হারাম
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে, তারা তাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, উপহাস হলো এমনভাবে কারো দোষ, দুর্বলতা বা ত্রুটি তুলে ধরা, যাতে অন্যরা হাসাহাসি করে এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। এটি কুরআনের ভাষায় স্পষ্ট হারাম। আজ অনেকেই কারো চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং, অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা বা শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে হাসাহাসি করে। অথচ আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা তার তাকওয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, বাহ্যিক রূপ বা সম্পদের ভিত্তিতে নয়।

২. অন্যের দোষ তালাশ ও দোষারোপ করা হারাম
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)

অর্থাৎ অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো, তাকে অপমান করা বা তার দুর্বলতা প্রকাশ করা একজন মুসলমানের কাজ নয়। তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ যখন অন্যের দোষ প্রকাশ করে, তখন অপর পক্ষও তার দোষ প্রকাশ করে। কারণ দোষ থেকে কোনো মানুষই সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। তাই মুসলমানের কর্তব্য হলো অন্যের দোষ গোপন রাখা, সংশোধনের চেষ্টা করা এবং নিজের দোষ সংশোধনে ব্যস্ত থাকা।

৩. অপমানজনক নামে ডাকা হারাম
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১১)

কাউকে খোঁড়া, কানা, অন্ধ, কালা, বোবা কিংবা তার অপছন্দনীয় কোনো নামে সম্বোধন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন গুনাহ দ্বারা লজ্জা দেয়, যা থেকে সে তাওবা করেছে, আল্লাহ তাকে সেই গুনাহে লিপ্ত করে ইহকাল ও পরকালে অপমানিত করবেন।’ (তাফসিরে কুরতুবি)
এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের অতীত গুনাহ বা দুর্বলতা নিয়ে তাকে অপমান করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।

আমাদের করণীয় হলো-

১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিটি মুসলমানকে সম্মান করা।
২. কাউকে উপহাস না করা।
৩. কারো দোষ খুঁজে বেড়ানোর বদলে নিজের সংশোধনে মনোযোগী হওয়া।
৪. কাউকে কষ্ট দেয় এমন নামে না ডাকা।
৫. গীবত, অপবাদ ও কটু ভাষা বর্জন করা।
৬. মুসলিম ভাই-বোনের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
৭. বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
৮. হিংসা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতার মনোভাব গড়ে তোলা।

আমরা যদি উপহাস, দোষারোপ ও অপমানজনক নামে ডাকা থেকে বিরত থাকি, তবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক মুসলমান যদি অপর মুসলমানের সম্মানকে নিজের সম্মানের মতো রক্ষা করে, তবে উম্মাহর ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হবে। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার, মুসলিম ভাই-বোনদের সম্মান রক্ষা করার এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাদিসের বাণী

ইসলামে যে দুই ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা প্রশংসনীয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামে যে দুই ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা প্রশংসনীয়
সংগৃহীত ছবি

সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মহানবী (সা.) বলেছেন, দুটি বিষয়ে ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা যায় না। দুটি বিষয় হলো—
১. ওই ব্যক্তির প্রতি (ঈর্ষা করা প্রশংসনীয়), যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দান করেছেন, তারপর সে তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার সক্ষমতাও দান করেছেন। 
২. ওই ব্যক্তির প্রতি (ঈর্ষা করা প্রশংসনীয়), যাকে আল্লাহ তাআলা জ্ঞান দান করেছেন আর সে তার জ্ঞানের মাধ্যমে (মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে) মীমাংসা করেন এবং অন্যকে জ্ঞান শিক্ষা দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৭৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৮৯৬)

হাদিসের শিক্ষাসমূহ :
১. কল্যাণকর বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা বৈধ ও প্রশংসনীয়। তাই দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসে নয়; বরং নেক আমল, জ্ঞান ও দানশীলতায় একে অপরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করা উচিত।
২. এখানে ঈর্ষা বলতে ‘গিবতাহ’ (غِبْطَة) বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ অন্যের নিয়ামত দেখে তার ক্ষতি কামনা না করে নিজের জন্যও এমন নিয়ামত কামনা করা। এটি বৈধ ও উত্তম।
৩. আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করা সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ সঠিক পথে ব্যয় করে, সে প্রশংসার যোগ্য।
৪. সম্পদ আল্লাহর আমানত। ধন-সম্পদ শুধু ভোগের জন্য নয়; বরং দীন, সমাজ ও মানবকল্যাণে ব্যয় করার জন্যও।
৫. ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) মহান নিয়ামত। আল্লাহ যাকে উপকারী জ্ঞান দান করেন, তিনি বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত।
৬. জ্ঞান অনুযায়ী বিচার করা ও আমল করা অপরিহার্য। শুধু জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই জ্ঞান দিয়ে ন্যায়বিচার ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
৭. সম্পদ ও জ্ঞানের প্রকৃত মর্যাদা তাদের সঠিক ব্যবহারে। যে সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় হয় এবং যে জ্ঞান মানুষের উপকারে আসে, সেটিই প্রকৃত সফলতা।
৮. মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। তাই দুনিয়ার মর্যাদা, পদ-পদবি বা ধন-সম্পদের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা করা উচিত।

অতএব, এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মানুষের প্রতি ঈর্ষা নয়; বরং নেক কাজে অনুপ্রাণিত হওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর দেওয়া সম্পদ তাঁর পথে ব্যয় করা এবং উপকারী জ্ঞান অর্জন করে তা অনুযায়ী আমল করা ও অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা। এ দুটি গুণই দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।

রাতে ছোট শিশুদের অতিরিক্ত কান্না থামাতে যা করবেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
রাতে ছোট শিশুদের অতিরিক্ত কান্না থামাতে যা করবেন
সংগৃহীত ছবি

রাতে ছোট বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করা এটি অনেক পিতা-মাতার জন্য চিন্তার বিষয়। সাধারণভাবে প্রতিটি শিশুই রাতে কাঁদে। তাই এতে বেশি দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। যদি বাচ্চা অতিরিক্ত কান্না করে এবং তাতে কোনো অসুস্থতার আশঙ্কা হয়, তাহলে প্রথমত, কোনো ভালো চিকিৎসককে দেখিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।

তবে এই কান্না দেহগত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ দুটি কারণেই হতে পারে। সম্ভবনাময় কিছু কারণ যেমন, ক্ষুধা বা বুকের দুধ না পাওয়া, পেটব্যথা / গ্যাস / কোষ্ঠকাঠিন্য, গরম বা ঠান্ডা লাগা, পিপাসা লাগা, ডায়াপার ভেজা থাকা, দাত উঠার ব্যথা, অস্বস্তি লাগা-এই সব দেহগত কারণের দিকে সর্বপ্রথম খেয়াল রাখতে হবে। এরপর যদি কোনো দৃশ্যমান কারণ না পাওয়া যায়, তাহলে অদৃশ্যগত দিক বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন, জ্বিন ও শয়তানী কুপ্রভাব। কেননা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন রাতের আধার নেমে আসবে অথবা বলেছেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন তোমরা তোমাদের শিশুদের (ঘরে) আটকিয়ে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে যাবে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩০৪)
এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, সন্ধ্যার সময় থেকে কিছু সময় পর্যন্ত জ্বিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ছোট বাচ্চাদের বেশি ক্ষতি করতে পারে। এজন্য সন্ধার সময় আজানের পরপর কিছু সময়ের জন্য দরজা বন্ধ করে রাখা এবং শিশুদের বাইরে বের হতে না দেয়া। অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন কোন নবজাতক নেই যাকে শয়তান খোঁচা না দেয়। যাকে শয়তান খোঁচায় সে চিৎকার করতে শুরু করে। শুধু মরিয়ম তনয় এবং তাঁর মাতা ছাড়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৬৬)

এক্ষেত্রে করণীয় কিছু আমল:
১. সন্ধ্যার আগে দরজা-জানালা বন্ধ করা।
২. সন্ধ্যার সময় (মাগরিব) শিশুকে বাইরে না নেওয়া।
৩. রাতে ঘুমানোর সময় কিছু দোয়া ও আমল করা:

ক. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, প্রতিদিন রাতে-বিশেষ করে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর আগে পড়ে বাচ্চার গায়ে ফুঁ দেয়া।
খ. রাসুল (সা.) নিজের নাতি হাসান ও হুসাইনকে এই দুআটি পড়ে ফুঁ দিতেন,

أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ


উচ্চারণ : উয়িজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।
অর্থ : ‘আমি তোমাদের দু’জনকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি-প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং সকল অনিষ্টকারী বদনজর থেকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৭১)

গ. সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে বাচ্চাকে ফুঁ দেয়া।
ঘ. রাতে ঘুমানোর আগে (সম্ভব হলে) পুরো ঘরে সুরা বাকারার রেকর্ড চালিয়ে রাখা।
ঙ. বাচ্চার নাম রাখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা: ভালো ও অর্থপূর্ণ ইসলামি নাম রাখা জরুরী। কেননা নামের প্রভাব শিশুর মানসিকতা ও আত্মগঠনে খুবই প্রভাবক। বিশেষ করে ঘুমানোর পূর্বে নিজের রুমকে বন্ধ করে নেয়া। আয়াতুল কুরসি ও তার পরের দুই আয়াত পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সজোরে তিনটি তালি দিন। ইনশাআল্লাহ বাচ্চাসহ সবাই রবের জিম্মায় নিরাপদ থাকবেন।