• ই-পেপার

সর্বপ্রথম হিজরতকারী মহীয়সী চার নারী

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কোনো পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কোনো পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

ব্যবসা-বাণিজ্য ইসলামে একটি সম্মানজনক পেশা। তাই হালাল উপার্জনকে ইসলামে বিশেষভাবে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে সততা, আমানতদারিতা এবং আইন মেনে চলার বিষয়েও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কেউ যদি সরকারি ট্যাক্স বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসে, তাহলে সে কি গুনাহগার হবে? আর সেই পণ্য বিক্রি করে অর্জিত অর্থ কি হারাম হবে?

ইসলামে আইন মেনে চলার গুরুত্ব
ইসলাম মুসলমানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হতে শিক্ষা দেয়। যে দেশে একজন মুসলমান বসবাস করে, সে দেশের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত আইন মেনে চলা তার কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদেরও আনুগত্য কর।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, শরিয়তবিরোধী নয় এমন রাষ্ট্রের আইন ও বিধান মান্য করা মুসলমানের দায়িত্ব।

ট্যাক্স প্রদান সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা
যদি কোনো মুসলিম সরকার বা রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণ, নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবার জন্য ন্যায্য ও বৈধ কর বা শুল্ক নির্ধারণ করে, তাহলে তা পরিশোধ করা উচিত। কারণ এটি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার একটি অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানরা তাদের চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর অটল থাকবে।’ (সুনানে আবু দাউদ)
যেহেতু একজন নাগরিক রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর অধীনে বসবাস করে, তাই সেই আইনি দায়িত্ব পালন করাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া কি গুনাহ?
সাধারণভাবে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী। একজন মুসলমানের উচিত আইনসম্মত পাওনা গোপন না করা এবং রাষ্ট্রকে প্রতারণা না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা মানুষের প্রাপ্য বস্তু কমিয়ে দিও না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৫)

এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম)
সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে শুল্ক বা ট্যাক্স গোপন করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে তা এড়িয়ে যাওয়া একজন মুসলমানের আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্য কি হারাম?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার কাজটি যদি অন্যায় বা গুনাহ হয়ও, তবুও এর কারণে পণ্যটি নিজে হারাম হয়ে যায় না। কারণ পণ্যের বৈধতা নির্ভর করে পণ্যের প্রকৃতির উপর। যদি পণ্যটি মূলত হালাল ও বৈধ হয়, তবে ট্যাক্স না দেওয়ার কারণে তা হারাম বস্তুতে পরিণত হয় না। ফোকাহায়ে কেরাম বলেন যে, কোনো লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুনাহ থাকলে সেটি সব সময় পণ্যের মূল বৈধতাকে নষ্ট করে না। তাই ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা বৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা মূলত বৈধ থাকবে এবং সেই পণ্যের ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ও মূলত হালাল হিসেবে গণ্য হবে। (বাদাইউস সানায়ে, ৫/১২৯, বুহুস ফি কাদায়া ফিকহিয়্যা মুয়াসারাহ, পৃষ্ঠা : ১৬৬)

একজন মুসলমান ব্যবসায়ীর করণীয়
১. ব্যবসায় সততা বজায় রাখা।
২. রাষ্ট্রের বৈধ আইন মেনে চলা।
৩. প্রতারণা ও গোপনিয়তা পরিহার করা।
৪. হালাল উপার্জনের প্রতি যত্নবান হওয়া।
৫. সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে দূরে থাকা।
৬. আল্লাহর ভয়কে ব্যবসার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা।

ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে, কিন্তু সেই সঙ্গে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আইনানুগ আচরণের ওপর জোর দিয়েছে। তাই কোনো রাষ্ট্রের বৈধ ও ন্যায্য ট্যাক্স বা শুল্ক থাকলে তা পরিশোধ করা একজন মুসলমানের জন্য উত্তম ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তবে যদি কেউ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বৈধ কোনো পণ্য আমদানি করে, তাহলে তার এই কাজটি নৈতিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে; কিন্তু এর ফলে পণ্যটি নিজে হারাম হয়ে যায় না। তাই সেই বৈধ পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় এবং তা থেকে অর্জিত উপার্জনও মূলত হারাম বলে গণ্য হবে না।

তবুও একজন মুত্তাকি মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম পথ হলো—সন্দেহ ও বিতর্কিত বিষয় থেকে দূরে থেকে স্বচ্ছতা, সততা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা। কেননা হালাল উপার্জনের বরকত শুধু সম্পদ বৃদ্ধি করে না; বরং তা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের সফলতার পথ সুগম করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক উপার্জন, সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা এবং সকল প্রকার প্রতারণা ও অন্যায় থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আগে অর্ডার নিয়ে পরে পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রির হুকুম

মুফতি ওমর বিন নাছির
আগে অর্ডার নিয়ে পরে পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রির হুকুম
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই ইসলাম ব্যবসাকে উৎসাহিত করলেও এর ক্ষেত্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারিতা এবং ওয়াদা রক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

বর্তমান যুগে অনেকেই মধ্যস্থতাকারী বা সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন। তারা প্রথমে ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণ করেন, তারপর অন্য উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত মূল্যে ক্রেতার নিকট সরবরাহ করেন। যেমন—বালি, ইট, পাথর, নির্মাণসামগ্রী কিংবা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এ ধরনের ব্যবসা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না, লাভের অর্থ হালাল কি না, অগ্রিম টাকা নেওয়া যাবে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বৈধ ব্যবসা ইসলামে অনুমোদিত এবং সম্মানজনক উপার্জনের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১২০৯)

আগে অর্ডার নিয়ে পরে পণ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করা
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্রেতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে অর্ডার গ্রহণ করে এবং পরে সরবরাহকারীর কাছ থেকে কমমূল্যে পণ্য সংগ্রহ করে ক্রেতার নিকট সরবরাহ করে, তাহলে এই ব্যবসা মূলত বৈধ। কারণ এখানে ব্যক্তি তার শ্রম, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকির বিনিময়ে লাভ করছে। 

উদাহরণস্বরূপ, একজন ক্রেতার সঙ্গে প্রতি ঘনফুট বালি ৬ টাকা দরে চুক্তি করা হলো এবং পরে ড্রেজার মালিকের কাছ থেকে ৪ টাকা দরে বালি সংগ্রহ করা হলো। অতিরিক্ত ২ টাকা ব্যবসায়িক লাভ হিসেবে গ্রহণ করা সম্পূর্ণ বৈধ। ক্রেতা বা বিক্রেতাকে লাভের পরিমাণ জানানো শরিয়তের দৃষ্টিতে আবশ্যক নয়, যদি কোনো প্রকার প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া হয়। ফিকহশাস্ত্রে এ ধরনের লেনদেনের সঙ্গে ‘ইস্তিসনা’ ও বৈধ বাণিজ্যিক চুক্তির মিল পাওয়া যায়। ইসলামী আইন অনুযায়ী, পণ্যের ধরন, পরিমাণ, গুণগত মান এবং মূল্য স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলে এ ধরনের চুক্তি বৈধ বলে গণ্য হয়। (আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, ৩/২০৭, জাদিদ ৩/১৯৫)

অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিধান
ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়াও বৈধ। ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও চুক্তির বাস্তবায়নের স্বার্থে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। তবে শর্ত হলো, চুক্তির শর্তাবলি স্পষ্ট থাকতে হবে এবং উভয়পক্ষের সম্মতি থাকতে হবে।

ব্যবসায় মিথ্যা বলা ও ওয়াদা ভঙ্গের বিধান
যদিও ব্যবসার মূল কাঠামো বৈধ, তবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বা জেনেশুনে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর গুনাহ। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায়ী জানেন যে ৮ বা ১০ দিনের আগে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়, কিন্তু ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যেই কাজ হয়ে যাবে।’ এটি স্পষ্ট মিথ্যাচার এবং ইসলামে হারাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি : যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩)

অতএব, ক্রেতাকে ধরে রাখার জন্য জেনেশুনে মিথ্যা বলা বা অবাস্তব সময়সীমা নির্ধারণ করা বৈধ নয়। তবে যদি বাস্তব ধারণা অনুযায়ী সময় বলা হয়, পরে অনিবার্য কারণে বিলম্ব ঘটে, তাহলে তা গুনাহ হবে না। এক্ষেত্রে ক্রেতার কাছে ক্ষমা চেয়ে অতিরিক্ত সময় নেওয়া উচিত।

মিথ্যা বললে কি পুরো লাভ হারাম হয়ে যাবে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মিথ্যা বলা হারাম এবং এর জন্য গুনাহ হবে; তবে শুধু এই কারণে পুরো ব্যবসার লাভ হারাম হয়ে যাবে না, যদি মূল ব্যবসা ও পণ্যের লেনদেন বৈধ হয়। অর্থাৎ ব্যবসার উপার্জন হালাল থাকবে, কিন্তু মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা বা ওয়াদা ভঙ্গ করার কারণে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট গুনাহগার হবে এবং তাকে তওবা করতে হবে।


ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে এবং বৈধ উপার্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। আগে অর্ডার গ্রহণ করে পরে অন্য উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে লাভসহ বিক্রি করা মূলত বৈধ ও হালাল ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত। ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করাও শরিয়তসম্মত। তবে ব্যবসায়িক সফলতার জন্য মিথ্যা বলা, ভুল প্রতিশ্রুতি দেওয়া, প্রতারণা করা বা ওয়াদা ভঙ্গ করা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর প্রকৃত পরিচয় হলো তার সততা, বিশ্বস্ততা এবং অঙ্গীকার রক্ষা।

তাই ব্যবসায় বরকত, আস্থা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইলে আমাদের উচিত সত্যবাদিতা অবলম্বন করা, বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ক্রেতার হক যথাযথভাবে আদায় করা। কেননা সততার উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাই দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের মুক্তির অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যসূত্র : (বাদাইউস সানাই, ৪/৯৩, কারতাশি ৫/২, তাবয়িনুল হাকাইক, ৪/৫২৬, রাদ্দুল-মুহতার, ৭/৪৭৫, আল-মাওসুআতুল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ৩/৩২৬)
 

শত্রুর বিরুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
শত্রুর বিরুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানবজীবনে এমন সময় আসে, যখন মানুষ অন্যায়, জুলুম, শত্রুতার আঘাত কিংবা অত্যাচারীদের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়। কখনো ব্যক্তি, কখনো সমাজ, আবার কখনো সমগ্র মুসলিম উম্মাহ শত্রুদের অন্যায় আগ্রাসন ও নিপীড়নের শিকার হয়। এমন কঠিন মুহূর্তে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি অটল ভরসা এবং তাঁর দরবারে আন্তরিক দোয়া। কেননা শক্তি ও সামর্থ্যের সীমা শেষ হয়ে গেলেও আল্লাহর সাহায্যের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। ইতিহাস সাক্ষী যে, বহুবার সংখ্যায় ও শক্তিতে দুর্বল মুমিনরা আল্লাহর সাহায্যে শক্তিশালী শত্রুদের পরাজিত করেছে। তাই বিপদ, শত্রুর আক্রমণ বা জুলুমের সময় মহানবী (সা.)-এর শিখানো দোয়া করা উচিত। দোয়াটি হলো-

اَللّٰهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، سَرِيْعَ الْحِسَابِ، اِهْزِمِ الْأَحْزَابَ، اَللّٰهُمَّ اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা মুনজিলাল কিতাবি, সারিআল হিসাবি, ইহজিমিল আহজাব। আল্লাহুম্মাহজিমহুম ওয়া জালজিলহুম।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি কিতাব নাজিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আপনি শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ! তাদের পরাভূত করুন এবং তাদের মধ্যে ভীতি, ত্রাস ও কম্পন সৃষ্টি করে দিন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৭৪২)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জুলুম ও অত্যাচার থেকে হেফাজত করুন, সত্যের ওপর অটল রাখুন এবং সকল শত্রুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন। 

হাদিসের বাণী

মহানবী (সা.) যে সাত কাজের আদেশ ও নিষেধ করেছেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মহানবী (সা.) যে সাত কাজের আদেশ ও নিষেধ করেছেন
সংগৃহীত ছবি

আবু ওমারাহ বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আমাদের সাতটি কাজ করার আদেশ এবং সাতটি কাজ করতে বারণ করেছেন। 
আদেশকৃত কাজগুলো হলো-

১. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, ২. জানাজার অনুসরণ করা, ৩. হাঁচির জবাব দেওয়া, ৪. কসম রক্ষা করা, ৫. মাজলুমকে সাহায্য করা, ৬. দাওয়াত কবুল করা, ৭. সালামের প্রচার-প্রসার ঘটাতে আদেশ করেছেন।

নিষেধকৃত কাজগুলো হলো-
 ১. স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে, ২. রুপার পাত্র ব্যবহার করতে, ৩. রেশমের পোশাক, ৪. কাসসি, (এক ধরনের সিল্ক কাপড়) ৫. ইস্তাবরাক, (রেশম) ৬. দিবাজ (সর্বপ্রকার রেশমি পোশাক) ব্যবহার করতে বারণ করেছেন।
অন্য বর্ণনায় আছে-যে সাতটি জিনিস আদেশ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো, হারানো বস্তুর সন্ধান দেওয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৫৬৩৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৩৮৮)

হাদিসের শিক্ষাসমূহ
এই হাদিসে মহানবী (সা.) একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। হাদিসের শিক্ষা হলো- ইসলাম শুধুমাত্র কিছু ইবাদতের নাম নয়; বরং এটি মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও উত্তম চরিত্রের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার অনুসরণ করা, হাঁচির জবাব দেওয়া, দাওয়াত কবুল করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে আসার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে হারানো বস্তুর সন্ধান দেওয়ার নির্দেশ মানুষের মধ্যে সততা, আমানতদারিতা ও মানবকল্যাণের চেতনাকে জাগ্রত করে। অন্যদিকে স্বর্ণের আংটি, স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্র এবং রেশমি পোশাক ব্যবহার থেকে পুরুষদের বিরত থাকার নির্দেশ ইসলামের সরলতা, বিনয় ও অপচয়বিরোধী আদর্শকে তুলে ধরে। এ হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে একজন প্রকৃত মুমিন শুধু নিজের ইবাদত নিয়েই ব্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করে, মানুষের উপকারে আসে, অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ায় এবং অহংকার ও বিলাসিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখে। সর্বোপরি, এই হাদিস ইসলামী সমাজব্যবস্থার এমন এক সুন্দর চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ভালোবাসা, সহযোগিতা, মানবতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে ব্যক্তি ও সমাজ গড়ে ওঠে।