• ই-পেপার

হাদি হত্যা: ১৬ বারের মতো পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন

মাদরাসা শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলেসহ ৩ জন ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদরাসা শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলেসহ ৩ জন ফের গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গুলশান থানায় করা মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে শাহেদ আহমেদ মজুমদারসহ তিনজনকে ফের গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখাতে বলেন।

অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ যোগানদাতা সেলিম প্রধান ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু সাঈদ।  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মোশারফ আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। 

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ যোগানদাতা। আসামিরা অত্যন্ত সুকৌশলে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন এবং মামলার ঘটনায় অর্থ যোগান দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেন। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানার দক্ষিণে বাঁশতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আসামিরা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাদরাসাছাত্র নাজিম উদ্দিন। পরবর্তীতে সিটিস্ক্যান করলে তার মাথায় ১৮০টি ছররা গুলি দেখতে পান কর্তব্যরত চিকিৎসক। যার মধ্যে ১২৭টি গুলি বের করা হয়। 

ওই ঘটনায় ভিকটিমের খালা গুলশান থানায় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগেও এসব আসামিরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আছেন।

তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক
তরুণকে টহল পুলিশের গুলি : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জে শাহাদাত হোসেন শ্যামল (২০) নামের এক যুবকের পায়ে পুলিশের গুলি করার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৭ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেনো দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৯ সালে মুন্সীগঞ্জের কামারকান্দা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে শাহাদাত হোসেনকে গুলি করা হয়। সে সময় শ্যামল এবং সঙ্গে থাকা তার বন্ধুরা অভিযোগ করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্যামলের পায়ে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনার দিন প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পর দিন শ্যামলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।
 
ওই বছরের ৪ এপ্রিল শ্যামল ছাড়া মামলার অন্য ৫ আসামি আদালত থেকে জামিনে বের হন।

শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা পাঁচ বছর বয়সী আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় বলে তদন্তে উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের বিচার শুরু
আবেদ আলী এবং তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে আলোচিত  ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর ফলে মামলাটির বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের দুর্নীতি দমন কমিশনের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

তিনটি মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা ও ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ২৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়াও আবেদ আলীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

অন্যদিকে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা ও ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।