• ই-পেপার

হামে আক্রান্ত মালিহা

সবার ওপরে

১৮ গোল

শাহজাহান কবির, ডালাস থেকে
সবার ওপরে

ভামোস ভামোস সেলেসিওন, হোয়ে তে ভিনিমোস, আলেন্তের পারা... ডালাস স্টেডিয়ামকে এক টুকরা আর্জেন্টিনা বানিয়ে গাইছিলেন সমর্থকরা। ম্যাচ শুরুর আগেই আকাশি-নীলে আবিষ্ট পুরো মাঠ। খেলা শুরু হলে তা নিমগ্ন লিওনেল মেসিতে। শুরুতেই যে পেনাল্টি স্পটে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এলএম টেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর এ ম্যাচের শুরুতেই আবার গোলের সুযোগ তাঁর সামনে। তবে মহাকাব্যে যেমন নানা বাঁক থাকে, এখানেও থাকল, লিওনেল মেসির সেই শট ফিরিয়ে দিলেন অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক
আলেক্সান্ডার শ্লাগার।

কিন্তু এই গল্পে অস্ট্রিয়া তো উপলক্ষ মাত্র। তাই ম্যাচ এগোয়, আকাশি-সাদারা ফের গোলের জন্য ঝাঁপায়। ৩৮ মিনিটে সেই মেসির পায়েই গোল, মঞ্চ সাজানো যে তাঁর জন্য। থিয়াগো আলমাদা বল নিয়ে উঠে বাঁদিকে বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনাকে, সেখান থেকে মেদিনার কাট ব্যাক বক্সের ভেতর লিওর বাঁ পায়ের সীমানায়। পেনাল্টি মিস তো ছিল অঘটন। এমন মুভের পর সুযোগ নষ্ট হয় নাকি আর্জেন্টিনা তারকার। শ্লাগার হিসাবে ভুল করলেন অথবা হিসাব মেলানো সম্ভব ছিল না। মেসি এত দ্রুত বক্সে ঢুকে চোখের পলকে শট নিলেন যে অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে দেখলেন বল জালে। আর এই গোলেই মিরোস্লাভ ক্লোজাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে যান মেসি। আসর শুরু করেছিলেন ক্লোজার থেকে তিন গোলে পিছিয়ে থেকে, দুই ম্যাচ না পেরোতেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেন আগামীকালই ৩৯-এ পা রাখতে যাওয়া এই তারকা। মেসি এই আসরে ঠিক আক্রমণ সাজাচ্ছেন না, অপেক্ষা করছেন বলের জন্য। আর বল পেলেই গোলের জন্য এমন সব মুভ নিচ্ছেন যে মুহূর্তের সেই ঝলক প্রতিপক্ষের জন্য সামলানো বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তেমনি ম্যাচের একেবারে শেষ প্রান্তে তাঁর বাড়ানো বলে হুলিয়ান আলভারেস যখন পারলেন না, আবার সেই তিনিই এগিয়ে এসে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটাও করে ফেললেন। ১-০-তেই জয়ের পথে এগোচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা। শেষের ওই গোল আরো রং যোগ করল। বিশ্বকাপের শুরুর দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল! নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এমন চিত্রনাট্য ধরে এগোবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি কেই বা ভেবেছিল!

এদিন শুরুটা করেছিলেন অবশ্য লাউতারো মার্তিনেস। বল নিয়ে এমন দুর্দান্তভাবে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন যে অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার একযোগে ট্যাকল করেন তাঁকে। রেফারি মাঠের পাশের ক্যামেরা দেখে এসে সিদ্ধান্ত দেন পেনাল্টির। ম্যাচের তখন কেবল ৭ মিনিট। মেসির সেই পেনাল্টি মিস হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলায় এর পরও এমন একটা প্রত্যয় ছিল যে গোলের সম্ভাবনা তাতে কমে না। ১৯ মিনিটে মার্তিনেস থেকেই মেসির বক্সের ভেতর বল পেলে আতঙ্ক ছড়ায় অস্ট্রিয়ান ডিফেন্সে। ডেভিড আলাবা মেসির পায়ের নাগাল থেকে বল সরাতে পোস্টের দিকেই ক্লিয়ার করেন, গোলরক্ষক ফেরান সেই বল।  অন্য প্রান্তে মার্সেল সাবিটজারের শট ব্লক করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এরপর ৩২ মিনিটে বাঁদিক দিয়ে আলমাদা, ফাকুন্দোর সেই মুভ। বার্সেলোনায় ইহোর্দি আলাবার এমন কত মুভে গোল করেছেন মেসি, এ তো তাঁর মুখস্থ পাঠ। যখন পেনাল্টি মিস করেছিলেন গ্যালারির দর্শকরা দাঁড়িয়ে গেয়েছিলেন মেসি মেসি। যখন গোল পেলেন আরো একবার সেই নাম ধরে তাদের আনন্দ যাপন।

আর্জেন্টিনা এই গোলটি ধরে রেখেই ম্যাচ এগিয়ে নেয়। বাড়তি সতর্ক হয় রক্ষণে।  বিরতির পর অস্ট্রিয়া বক্সের খুব কাছে ফ্রিকিক পেলে এমিলিয়ানো মার্তিনেসেরও নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পেলে। সাবিটজারের শট হিরোর মতো ঝাঁপিয়ে তা ফিরিয়েও দিয়েছেন গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস জেতা এই তারকা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি স্কালোনি প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনেন। লাউতারোকে তুলে হুলিয়ান আলভারেস আর আলমাদাকে তুলে নামান নিকো গনসালেসকে। এই দুজন আগের ম্যাচেও বদলি নেমে ভালো খেলেছিলেন, তাতে আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রবল ধারণা ছিল, তাঁরা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশেই থাকবেন। কিন্তু স্কালোনি ৩-০ গোলের জয়ের পরও এমন বদলের যৌক্তিকতা দেখেননি, মার্তিনেস, আলমাদা দুজনকেই রেখে দেন শুরুর একাদশে। এদিন শুরু থেকে ধারালোও ছিল তাঁদের পারফরম্যান্স। মেসির সঙ্গে বোঝাপড়াও ছিল বেশি। পরে নিকো নেমে মেসির কর্নারেই গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় তাঁর সেই হেডার। ওদিকে ম্যাচ যখন শেষের পথে, আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ দেখায় দৃঢ়তা একমাত্র গোলটা ধরে রাখতে। সেই গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হতো, হয়তো বা নকআউটও। তবে মেসি এবার প্রত্যাশার পেয়ালা ভরিয়ে দেবেন বলেই যেন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। শেষ সময়ে তাই আরো এক গোল তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ে।

 

উক্তি

উক্তি

বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি সম্পদের উপস্থিতি আছে নিশ্চিত, উত্তোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন, নৌ ও সেতু মন্ত্রী

ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশও ছাড় করা হয়েছে। লেবানন যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। রবিবার সুইজারল্যান্ডের স্টান্সস্ট্যাডের কাছে লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি ওই পোস্টে। এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।

এর আগে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি  এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে আরো লিখেছেন, পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দৌত্যে লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সামনে প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। দেশ দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি অটুট রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (গঠনে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠন করা হবে। বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে এই কমিটি। সেই লক্ষ্যে এই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে। বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে যুক্ত করে একটি ডি-কনফ্লিকশন সেল গঠনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সূত্র : আল জাজিরা

প্রস্তাব যাবে আইটিএফসির কাছে

তেল, এলএনজি ও সার কিনতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
তেল, এলএনজি ও সার কিনতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেবে সরকার

দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ সরকার। তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির জন্য সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারিত হতে পারে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২.০১ বিলিয়ন ডলার, এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলা ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং সার আমদানির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা নিতে চায়। গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব চাহিদা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার কারণে বিপিসি চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে বেশি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। চলতি অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিপিসির চাহিদা ছিল ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে। তবে নতুন অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে বিপিসি আইটিএফসির অর্থায়নের মুনাফার হার কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ রাখার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সদস্য দেশসহ যেকোনো জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে তারা ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এলএনজি পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির আওতায় পুরো ৬০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রয়োজন বাড়তে পারে। এ কারণে অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য অর্থায়ন ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ, কার্গো বাতিলের ঝুঁকি এবং সরকারের আর্থিক চাপ মোকাবেলাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে সার আমদানির অর্থায়ন নিয়ে নমনীয়তা চেয়েছে বিএডিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্ববর্তী চুক্তির আওতায় ১০০ মিলিয়ন ডলার শুধু সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত ছিল; কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সেই অর্থ এখনো ছাড় হয়নি। এ অবস্থায় বিএডিসি অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন ডলার দ্রুত ছাড় করার পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো দেশ, বিশেষ করে আইএসডিবি সদস্য দেশগুলো থেকে সার আমদানির সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতের অর্থায়ন চুক্তিতেও কোনো নির্দিষ্ট দেশের বাধ্যবাধকতা না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইটিএফসি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ১৯৯৭ সালে বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতে অর্থায়ন শুরু হয় এবং ২০০৮ সাল থেকে আইটিএফসির মাধ্যমে সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি প্রায় ২১.৭৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির চাহিদা বিবেচনায় সরকার শুধু ২.৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়নই নয়, আইটিএফসির সামগ্রিক অর্থায়নসীমা ৩.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করারও অনুরোধ জানিয়েছে। বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।