• ই-পেপার

ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন, জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আট দিন পর এক নিরাপত্তারক্ষীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দিনের এই কঠিন উদ্ধার অভিযানকে অনেকেই আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। তার বয়স ৪৩ বছর। গত ২৪ জুন উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং সেন্টার ধসে পড়ার পর থেকেই তিনি ভবনের বেইসমেন্টে আটকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকর্মীরা তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অক্সিজেন মাস্ক পরা ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা হাততালি দিয়ে এবং উল্লাস করে এই সফল উদ্ধার অভিযান উদ্‌যাপন করেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, গত সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো তারা গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর তাকে নিরাপদে বের করে আনতে টানা ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করেন তারা। উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়া ভবনের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আটকে পড়া ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে হয়েছে। এ সময় অত্যন্ত অস্থিতিশীল কাঠামো, মুষলধারে বৃষ্টি এবং একটানা আফটারশক উদ্ধারকাজকে আরো কঠিন করে তোলে।

গিল ফ্লোরেসকে উদ্ধার করার পর বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল আনন্দ প্রকাশ করে। স্ট্রেচার বহন করা চিলির এক উদ্ধারকর্মী মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কোস্টারিকার রেড ক্রসের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকেই হাততালি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের অভিনন্দন জানান। কোস্টারিকার রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মী মিনিয়ার কোলিয়াদো বলেন, প্রথমবার গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তিনি জীবিত আছেন—এ কথা যেন তার স্ত্রীকে না জানানো হয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত যদি তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরিবার আরো বেশি কষ্ট পাবে। তবে কোলিয়াদো বলেন, উদ্ধারকারী দল শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কোনো অবস্থাতেই তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেলে রাখা হবে না। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় নিয়মিত গিল ফ্লোরেসের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পেরেছেন। সাধারণভাবে কোনো দুর্যোগে আটকে পড়া ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে আট দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা বিরল ঘটনা।

গিল ফ্লোরেস ওই শপিং সেন্টারে রাতের শিফটের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। প্রথম ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের ছোট নিরাপত্তাকক্ষে ছিলেন। ভবনের বড় অংশ ধসে পড়লেও তার কক্ষটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। এতে তিনি ধ্বংসস্তূপের চাপ থেকে রক্ষা পান এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাসও ছিল। কোস্টারিকার রেড ক্রসের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল প্রথম তার জীবিত থাকার লক্ষণ শনাক্ত করে। পরে রবিবার তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। গিল ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গনসালেস বলেন, কয়েক দিন ধরে তিনি স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা জানালেন যে তিনি জীবিত আছেন, তখন নতুন করে আশা ফিরে পান। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স আট ও দশ বছর।

চিলির দমকল বাহিনীর নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীদল পুরো অভিযান পরিচালনা করে। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারীদল দিন-রাত কাজ করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস এই সফল উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানবতার সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। তিনি দেশি-বিদেশি সব উদ্ধারকর্মীকে ধন্যবাদ জানান। উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একটি দূরনিয়ন্ত্রিত লম্বা ক্যামেরার মাধ্যমে সারাক্ষণ গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। অভিযানের শেষ তিন দিনে একটি সরু ছিদ্র দিয়ে তাকে পানি ও তরল পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এতে তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়নি। চিলির অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারিয়া পাস কাম্পোস পুরো সময় গিল ফ্লোরেসের সঙ্গে কথা বলে তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে উদ্ধারের শেষ কয়েক ঘণ্টায় তিনি তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেন। উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সময় কাটানোর জন্য গিল ফ্লোরেস ছবি আঁকছেন। পরে মারিয়া পাস কাম্পোস তাকে সুরক্ষার চশমা পরে থাকতে বলেন, যাতে ওপর থেকে পড়া ধুলাবালি বা কংক্রিটের ছোট টুকরো তার চোখে না লাগে।

উল্লেখ্য যে, ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া (ডাবলেট) ভূমিকম্পে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, ১১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি আহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অগভীর কেন্দ্রে হওয়া এই ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী কম্পনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে দেশটিতে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, যেখানে আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস।

ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক
ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ শেষ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ছবি : রয়টার্স

একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীর (ক্রুজ শিপ) যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অবশেষে শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সর্বশেষ ব্যক্তিটি তার কোয়ারেন্টাইন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। পরীক্ষায় তার করোনা বা হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং তিনি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছেন। গত ২৫ মে-র পর থেকে আর কোনো নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

ডব্লিউএইচও জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে মোট ১৩ জন যাত্রী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’, যা হান্টাভাইরাসের একটি অত্যন্ত বিরল স্ট্রেইন (ধরন)

‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের প্রমোদতরীটি ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রথম যে দুজন যাত্রী আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সফরের কিছু এলাকায় হান্টাভাইরাস বহনকারী বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। সেখান থেকেই মূলত ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ানোর পর জাহাজের ভেতর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে থাকতে পারে। এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ৩৩টি দেশ ও অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ ৬৫০ জনেরও বেশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করে কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছিল। যেসব যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য আগে নামানো হয়নি, তারা মে মাসে স্পেনের টেনেরিফে জাহাজ থেকে নামেন এবং সেখান থেকে বিমানে করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

ডব্লিউএইচও-এর চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ডায়ানা রোজাস আলভারেজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসসহ অন্যান্য হান্টাভাইরাসগুলো এখনো দক্ষিণ আমেরিকা এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জন্য জনস্বাস্থ্যের বড় ঝুঁকি। আমাদের কাজ হলো এই ভাইরাসের ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা এবং এর যেকোনো ধরনের বিস্তার মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মূত্র, মল বা লালা থেকে ছড়ায়। বাতাসে মিশে থাকা এই ভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশি ও পেটেব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে (কখনো এক মাসেরও বেশি সময় পর) এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এই দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার কারণেই যাত্রীদের দীর্ঘদিন আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

সিরিয়ায় ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৯

অনলাইন ডেস্ক
সিরিয়ায় ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৯
সংগৃহীত ছবি

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি ক্যাফেতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২০ জন। দেশের প্রধান আদালত চত্বরের কাছাকাছি অবস্থিত ওই ক্যাফেটিতে মূলত স্থানীয় আইনজীবীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়া নেটওয়ার্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ওই ক্যাফেতে পৌঁছায় এবং তদন্তের জন্য পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। দামেস্কের গভর্নর মাহের ইদলিবী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই এই হামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিস্ফোরক যন্ত্রটিকে সাধারণ মানের বলে উল্লেখ করে তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের সাহায্য করছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জালাল আলজানানি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভয়াবহ শব্দ শুনে আমি ক্যাফেটির দিকে ছুটে যাই। সেখানে মেঝেতে মানুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ট্রাফিক পুলিশ আসার আগে পর্যন্ত আমরা সাধারণ মানুষরাই আহতদের নিজেদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। প্রায় সবার শরীর থেকেই রক্ত ঝরছিল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক আকস্মিক বিদ্রোহের মাধ্যমে আসাদ রাজবংশকে উৎখাত করে সিরিয়ার ক্ষমতা নেয় নতুন শাসকরা। এরপর থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে চরমপন্থী ‘দায়েশ’ (আইএস) গোষ্ঠীর জঙ্গিদের ওপর কঠোর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি আহমদ আল-শারা অতীতে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘হায়াত তাহরির আল শাম’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

বর্তমানে আল-শারা চরমপন্থী গোষ্ঠী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছ থেকে দেশের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে দেশকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে তিনি এখনো বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই আইএস আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বড় বড় হামলা নস্যাতের দাবি করে আসছে, তবুও ২০১৫ সালের জুলাইয়ে একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলা এবং বৃহস্পতিবারের এই বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ সিরীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

হরমুজে নির্ধারিত পথ ছাড়লেই ‘কঠোর জবাব’, সতর্ক করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে নির্ধারিত পথ ছাড়লেই ‘কঠোর জবাব’, সতর্ক করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী জাহাজের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তারা জানায়, সব জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত ও অনুমোদিত পথ ব্যবহার করতে হবে। এই নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ‘কঠোর সামরিক জবাবের’ মুখে পড়তে হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ঘোষণার পর আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে হয়। ফলে ইরানের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া যৌথ সামরিক কমান্ড এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর এক দিন আগে, বুধবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিবিদদের মধ্যে বৈঠক হয়। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি কফিনের ছবি প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কফিনটিতে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য সেটি ইমাম খোমেনি হুসাইনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজ কাপড়ে ঢাকা কফিনের পাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন এবং শোক প্রকাশ করছেন। সপ্তাহজুড়ে সরকারি জানাজা ও শোক কর্মসূচি শনিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

তেলবাহী জাহাজ নিয়ে ইরান কেন এই সময়ে নতুন সতর্কবার্তা দিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বাহরাইনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নেতারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল অবাধ রাখার ব্যাপারে নিজেদের যৌথ অঙ্গীকারের কথা আবারও জানিয়েছেন।’ ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্যেই অসন্তুষ্ট হয়েছে ইরান। ইরানের সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম না মানা, অনুমোদিত পথ থেকে সরে যাওয়া অথবা ইরানের নৌচলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করলে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তারও দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। 

এর আগে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ইরান স্পষ্ট জানায়, কোন পথে জাহাজ চলবে, সেই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। পরে ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়া হবে বলেও জানায় তেহরান। এতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের ফি আদায়ের পরিকল্পনা তারা মেনে নেবে না। একই সময়ে ওমান এবং জাতিসংঘের একটি সংস্থা ওমান উপকূলের কাছে বিকল্প একটি নৌপথ চালুর চেষ্টা করছে। এর জেরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার বাড়তে শুরু করেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে অন্তত ২৫৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১৩৮টি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড বৃহস্পতিবার এক অনলাইন আলোচনায় বলেন, ২৫ ও ২৭ জুন ইরানের হামলার ঘটনাগুলো যেন এখন অনেকেই ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, হামলার পর জাহাজ চলাচল কিছুটা ধীর হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে সেই তুলনায় চলাচল কম রয়েছে। জাহাজ পরিচালনাকারীদের এখন দুটি পথের মধ্যে একটি বেছে নিতে হচ্ছে। হয় ইরানের শর্ত মেনে চলতে হচ্ছে, নয়তো ওমানের দিকের সেই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নজরদারি করছে। রিচার্ড মিড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই স্থিতিশীল নয়। প্রতি ঘণ্টায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে জাহাজের রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এটিকে নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বলা যাবে না।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশ অমান্য করায় একটি বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটির অবস্থান, আকৃতি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কয়েক মাস ধরেই সেখানে অবস্থান করছিল। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বুধবারের বৈঠকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী দফার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করছে পাকিস্তান।