• ই-পেপার

৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে কঠোরভাবে সতর্ক করল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে কঠোরভাবে সতর্ক করল পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে ইসলামাবাদ আবারও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, দেশটির প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তারের ন্যায্য পানির অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার খর্বের যে কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। ডন-এর বরাতে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের নেতৃত্ব এমন বক্তব্য দিয়েছে যে পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রচলিত নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। ফলে পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তার দাবি, দেশের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে কৃষি খাত জড়িত। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার কঠোর পরিণতি হবে। তার ভাষায়, ‘কেউ যদি আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ায়, সেই হাত কেটে ফেলা হবে।’

আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক নদীতেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও উজান থেকে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সেখানে সিন্ধু নদীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কীভাবে- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসব বক্তব্য প্রকাশিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে। তার ভাষায়, সিন্ধু নদীর পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়েছে। আতাউল্লাহ তারার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তানের জন্য পানি শুধু একটি সম্পদ নয়, এটি দেশের ‘রেডলাইন’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে এবং ভারতের জন্য বরাদ্দ এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না। এর পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো। এদিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে সিন্ধ ও বেলুচিস্তানে পানির ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন, জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাপে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পানির সংকটের প্রভাব ভোগ করছে। যদিও পাকিস্তান এ পরিস্থিতির জন্য ভারতের পদক্ষেপকে দায়ী করছে, বিভিন্ন বিশ্লেষণে দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ বণ্টন ব্যবস্থার সমস্যাকেও সংকটের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হব না—সাফ কথা মেলোনির

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হব না—সাফ কথা মেলোনির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি : রয়টার্স

একসময় ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে সম্পর্কটা একটু বেশিই ভালো ছিল। দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্পের অভিষেকের সময়ও উপস্থিত ছিলেন মেলোনি। ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিরও প্রশংসা করেছেন খোলা মনে। কিন্তু ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ন্যাটোর সহায়তা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। মেলোনিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।

এ মাসের মাঝামাঝি ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতা, বিশেষ করে মেলোনির সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল ট্রাম্পের সামনে। কিন্তু যথারীতি ট্রাম্প করেছেন উল্টোটা। তার এক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইতালির সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গেছে।

সোমবার ইতালির রেতে ৪ চ্যানেলের ‘১০ মিনিট’ অনুষ্ঠানে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সময় জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘আমি আজ আমেরিকাবিরোধী নই; আবার গতকালও আমি কারো সামনে নতজানু ছিলাম না।’ ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দিয়ে মেলোনি বলেন, ‘আমি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরো শক্তিশালী হয় এবং একটি ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা বিশ্বে ইতালি আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। আমি এই লক্ষ্যের জন্যই কাজ করেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। তবে এর পাশাপাশি, দৃঢ় সম্পর্ক সব সময় স্পষ্টবাদিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং আমি একজন স্পষ্টভাষী মানুষ।’

জি-৭ সম্মেলনের সময় ইতালির লা ৭ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মেলোনি আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে ছবি তুলতে এতটাই মরিয়া ছিলেন যে আমি হয়তো ছবি তুলতামই না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার মায়া লেগেছিল।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি একে গালগল্প বলে উড়িয়ে দেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন। উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা না করে ট্রাম্প তাতে ঘি ঢেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আবার মেলোনির ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতির ব্যাপারটি পুনরুল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যাকুল ছিলেন। ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মেলোনি বলেছিলেন, তার জনপ্রিয়তা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। ইতালির স্বার্থরক্ষায় অনড় অবস্থানের কারণেই তিনি জনপ্রিয়।

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ ৫৮ হাজারের বেশি ভবন

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ ৫৮ হাজারের বেশি ভবন
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৭০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক জানান, ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা অনুমান করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

তারা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের উচ্চ-রেজোলিউশনের রাডার চিত্র ব্যবহার করে এই হিসাব করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং এখনো মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। তাই এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়, একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেখা উচিত।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নাসা বলেছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধারকর্মীদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।

লেবাননে আমিরাতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার , ইরান–ইরাকে বহাল

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে আমিরাতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার , ইরান–ইরাকে বহাল
ছবি: রয়টার্স

প্রায় দুই মাসের বিরতির পর লেবাননে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফলে এখন থেকে দেশটির নাগরিকরা আবারও লেবানন সফর করতে পারবেন। আজ মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে যাত্রার আগে সকল আমিরাতি নাগরিককে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই শর্ত রাখা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একই সময়ে ওই তিন দেশে অবস্থানরত আমিরাতি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে শুধু লেবাননের ক্ষেত্রে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান ও ইরাকের ওপর আগের বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরান ও দুবাইয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে।