• ই-পেপার

রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগালের একাদশ ঘোষণা

প্রথম সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনের ফুটবলার ও গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার। গত বুধবার (২ জুলাই) ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) এক বিবৃতিতে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটির দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতেই প্রাণ গেছে সালিমের। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পিএফএ।

মাঠের বীরত্ব ছাপিয়ে ব্যক্তিগত জীবনেও এক বুক স্বপ্ন আর বেদনাদায়ক অধ্যায় রেখে গেছেন সালিম আল-আশকার। মাত্র পাঁচ মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছিল পরিবারটি, কিন্তু নিজের প্রথম সন্তানের মুখ দেখার আর সৌভাগ্য হলো না এই গোলরক্ষকের। তার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে স্বজন, সতীর্থসহ ফিলিস্তিনের পুরো ক্রীড়াঙ্গনে এখন শোকের ছায়া।

সালিমের এই অকাল মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শোকের ঢল নেমেছে। চিলির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ‘দেপোর্তিভো প্যালেস্তিনো’ এক বিবৃতিতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। ক্লাবটি এই মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান এই প্রাণহানির ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করলেও, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দাপুটে জয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
দাপুটে জয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

শেষ ষোলোর টিকিটের জন্য লড়াইয়ে ভক্তদের এক দাপুটে জয় উপহার দিয়েছে স্পেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামালরা পেয়েছেন ৩-০ গোলের সহজ জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে স্পেন। তবে অস্ট্রিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পোহাতে হয় তাদের।

গোলের খোঁজে থাকা স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া বল একবার জালে জড়ালেও গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল হয়েছে জানিয়ে বাঁশি বাজান রেফারি। 

তবে ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় আবারও এগিয়ে আসেন কুকুরেয়া। তার বাড়ানো দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগার ও গোলপোস্টের বাধায় আর গোল না হওয়ায় এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।

তবে বিরতির পর আর আঁটকে রাখা যায়নি স্পেনকে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে অ্যালেক্স বায়ানার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে ২ গোলের লিড এনে দেন পেদ্রো পোরো।

এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার কুকুরেয়ার বাড়ানো বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওইয়ারসাবাল। এতেই ৩-০ গোলের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে স্প্যানিশদের শেষ ষোলোর টিকিট।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

শেষ ষোলোর টিকিটের জন্য মাঠে লড়াইয়ে স্পেন-অস্ট্রিয়া। এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গিয়েছে মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে স্পেন। তবে অস্ট্রিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পোহাতে হয় তাদের।

গোলের খোজে থাকা স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া বল একবার জালে জড়ালেও গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল হয়েছে জানিয়ে বাঁশি বাজান রেফারি।

তবে ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় আবারও এগিয়ে আসেন কুকুরেয়া। তার বাড়ানো দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল।

অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজেন্ডার শ্লাগার ও গোলপোস্টের বাধায় আর গোল না হওয়ায় এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে গিয়েছে স্পেন।

জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণ তাহলে এই

ক্রীড়া ডেস্ক
জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণ তাহলে এই
ছবি : রয়টার্স

মাঠের লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তো একটা ধাক্কা ছিলই, কিন্তু পর্দার আড়ালের যে সত্যটি এবার সামনে এল, তা রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। ফুটবলীয় পরাশক্তি জার্মানির এমন ভরাডুবির পেছনে কাজ করেছে দলের ভেতরকার চরম আত্মবিশ্বাসের অভাব আর বড় মঞ্চে দায়িত্ব এড়ানোর মানসিকতা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারের লটারিতেই কপাল পোড়ে ডাই মানশাফটদের।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহ-এর একটি দর্শনীয় হেডার গোল ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির বেড়াজালে আটকে বাতিল হলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে প্রথম পাঁচটি করে শটে স্কোর ৩-৩ সমতায় থাকার পর শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী ‘সাডেন ডেথ’। আর এই সাডেন ডেথেই জার্মানির বর্তমান দলটির ভেতরে লুকিয়ে থাকা কঙ্কালটা বেরিয়ে পড়ে।

বিখ্যাত জার্মান গণমাধ্যম ‘বিল্ড’ এক প্রতিবেদনে ড্রেসিংরুমের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে। তাদের দাবি, টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচটি শট শেষে যখন সাডেন ডেথ শুরু হয়, তখন জার্মানির অন্তত চারজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার ষষ্ঠ শটটি নিতে সাফ অস্বীকৃতি জানান! চাপের মুখে বুক কাঁপতে থাকা সেই চার সতীর্থের অনীহার পর বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত সেই কঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ।

অথচ বিশ্বকাপের শুরুটা কী দুর্দান্তই না করেছিল জার্মানি! নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শক্তির জানান দিয়েছিল তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর থেকেই দলের ফাটলগুলো স্পষ্ট হতে থাকে। গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে নকআউটে পা রাখে নাগেলসম্যানের দল।

শেষ ৩২-এর মঞ্চে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে অতিরিক্ত সময়েও যখন সমাধান মেলেনি, তখন ভাগ্য নির্ধারণের ভার যায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে প্রথম ১০টি শটের পর দুই দলের স্কোর যখন ৩-৩, তখনই আসে সেই নাটকীয় মোড়। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে এগিয়ে আসেন তাহ। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম পেনাল্টি শট! আর এমন অতি-চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতার অভাবটাই কাল হলো; লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে বসেন তাহ। এরপর প্যারাগুয়ে নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়ে উল্লাসে মাতে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাহ মূলত স্পট কিকে এসেছিলেন বাধ্য হয়ে। তার আগে লিওন গোরেৎসকা, ভালডেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াওয়ের মতো চার তারকা পেনাল্টি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। সাডেন ডেথের চরম মুহূর্তে তারা কেউই শট নেওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারেননি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে লিওন গোরেৎসকাকে নিয়ে। ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে স্বয়ং অধিনায়ক যশুয়া কিমিখ দুইবার পেনাল্টি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি এগিয়ে আসেননি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়া এই অভিজ্ঞ তারকার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ফুটবল মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়।

শেষ পর্যন্ত কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডে এবং জোনাথন তাহ—এই তিনজনের পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির। এই লজ্জার হারে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।