• ই-পেপার

হারারে টেস্ট

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪০ রানেই শেষ বাংলাদেশ

ইতিহাস সৃষ্টি করে উল্লাসে মেতেছেন কেপ ভার্দিয়ানরা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতিহাস সৃষ্টি করে উল্লাসে মেতেছেন কেপ ভার্দিয়ানরা

বিশ্বকাপেই অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দল। গ্রুপ ‘এইচ’য়ের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ০-০ গোলে ড্র করার পর ঐতিহাসিক অর্জন নিশ্চিত করে এই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটি। 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে পৌঁছানো সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে মাত্র সাড়ে ৫ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্রটি। 

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা মাঠে ও গ্যালারিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

দেশটির রাজধানী প্রাইয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটন পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দিয়ানপ্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দমিছিল শুরু হয়।

এ সময় স্থানীয় এক নারী সমর্থক বলেন, ‘আমরা অনেক খুশি। আমদের কেউ রুখতে পারবে না। আমরা সেরা।’

‘আমরা প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি’ বলেন আরেক সমর্থক।

এমনকি কিছু সমর্থক ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভো জিনহার প্রতি সম্মান জানিয়ে মাঠে সত্যিকারের ছাগল নিয়ে এসে উদযাপন করেন।

কোচ বুবিস্তা এই অর্জনকে পুরো আফ্রিকার জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, রাউন্ড অব থার্টি টুতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হলেও, ভয় না পেয়ে লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়া হবে।

আগামী ৪ জুলাই ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ছবি : এএফএ

আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়ার পর জর্দান—টানা তিন জয়ে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আগামী ৪ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ আসরের চমক কেপ ভার্দে। 

তবে নকআউট পর্বের আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভাবনার কারণ হতে পারে একটি ইতিহাস। গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। এর আগে চার আসরে এমন কীর্তি গড়ার পরও সোনালি ট্রফি ধরা দেয়নি তাদের।  

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালেও উঠেছিল তারা। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডকে বিদায় করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়।

ডিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে ২০১০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ ব্যবধানে হারের লজ্জায় শেষ হয় তাদের যাত্রা।

এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান এবং নাইজেরিয়াকে হারালেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জার্মানির কাছে হারতে হয়। 

এবারো গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন দেখার বিষয়, কেপ ভার্দের বাধা পেরোনোর পর মেসি-মার্তিনেজরা পুরনো সেই ইতিহাস বদলে বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান সফলভাবে শেষ করতে পারে কি না।

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়
৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে দক্ষিণ আফ্রিকার ডের্কসেন। ছবি : আইসিসি

টুর্নামেন্টের নাম আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু বাংলাদেশ দল যেন ওয়ানডে খেলতে গিয়েছিল।

যদিও গ্রুপের অপেক্ষাকৃত সহজ দুই প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হলো না। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের পর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। 

ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে আজই প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে নতুন অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হলো না। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ১১৭ রান করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জবাবে ৪ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছান প্রোটিয়া মেয়েরা। 

সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশাল ব্যবধানে হারাতে হতো। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের পরাজয় কামনা করতে হতো। কিন্তু শক্তিশালী প্রোটিয়াদের রান তাড়ার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি বাংলাদেশ। 

ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ড হন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আরেক ওপেনার তাজ নেহার যেন টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। ১ রান করতে তিনি ‘গিলে ফেলেন’ ১২ বল। 

এরপর সোবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার ৫৬ রানের জুটি গড়লেও তা টি-টোয়েন্টি দাবি মেটাতে পারেনি। পাঁচে নামা অধিনায়ক জ্যোতির ২০ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসটাই মূলত বাংলাদেশকে কিছুটা মার্জিত স্কোরে পৌঁছে দেয়।

Bowled
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ভলভার্টকে বোল্ড করার মুহূর্তটা অনেক দিন মনে রাখবেন মারুফা। ছবি: সংগৃহীত

বোলিংয়ে বাংলাদেশের বলার মতো মুহূর্ত একটাই। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে প্রথম বলেই বোল্ড হন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা ভলভার্ট। তবে এরপর ৫২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন তাজমিন ব্রিটস ও আনেরি ডের্কসেন। 

নাহিদা আক্তার এই দুজনকে ফেরালেও মারিজেন ক্যাপ ও নাদিন ডি ক্লার্কের ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামলে নেন। পরে চোল ট্রাইয়ন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। 

তবে গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচেরে চারটিতে জিতলেও সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। অস্ট্রেলিয়া ভারতকে হারাতে পারলেই কেবল শেষ চারে জায়গা করে নেবেন প্রোটিয়া মেয়েরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১১৭/৫ [মোস্তারি ৪২, জ্যোতি ৩২*, শারমিন ২২; এমলাবা ২/২২, ক্যাপ ১/৯)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৯.২ ওভারে ১১৮/৬ [ড্রেকসেন ৪৫, ব্রিটস ২০, ক্যাপ ১৬, ক্লার্ক ১৫; নাহিদা ২/২৪)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : মারিজেন ক্যাপ।

বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর দিলেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর দিলেন রোনালদো

বিশ্বকাপ শেষে দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে থাকেন রোনালদো ও জর্জিনা। ২০১৬ থেকে সম্পর্কে রয়েছেন তারা। তাদের দুই সন্তানও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল ছিল ভক্তদের মধ্যে।

রোনালদোর মোট পাঁচ সন্তান। তাদের দুজনের মা জর্জিনা। রোনালদোর-জর্জিনার সঙ্গেই থাকে পাঁচজন। তাঁদের সুখের সংসার সম্ভবত এবার পূর্ণতা পেতে চলেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁদের চার হাত সরকারিভাবে এক হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী-স্ত্রী হতে পারেন সিআর সেভেন ও জর্জিনা।

স্পেনের পত্রিকা ‘হোলা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদো-জর্জিনা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত। যদিও তাঁরা নিজেরা এ ব্যাপারে কিছু জানাননি। গত বছর আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন রোনালদো। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার কথা জানান জর্জিনা।

রোনালদোর উপহার দেওয়া বহুমূল্য হীরার আংটির ছবিও ভালো করে নিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো মজা করে বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের পর বিয়ে করব। আশা করি, বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে বিয়ে করতে যেতে পারব।’

বিশ্বকাপের মাঝে স্পেনের পত্রিকাটির প্রতিবেদন নিয়ে মুখ না খুললেও প্রতিবাদও করেননি রোনালদো বা জর্জিনা। তাতে মনে করা হচ্ছে, প্রতিবেদনের দাবি সম্পূর্ণ অসার নয়। ফুটবলজীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে আসা ৪১ বছরের পর্তুগিজ তারকা হয়তো এবার সত্যিই বিয়ে করবেন। ‘হোলা’র প্রতিবেদন নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও।