• ই-পেপার

মেসিকে বোঝার চেষ্টা বৃথা : থিয়েরি অঁরি

বিশ্বকাপে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন কুরাসাও

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন কুরাসাও
ছবি : টিওয়াইসি স্পোর্টস

বিশ্বকাপে কুরাসাও জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে একটি অনন্য ইতিহাস গড়েছেন ড. সুজান হুরম্যান। চলমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে প্রধান চিকিৎসক নারী হিসেবে রয়েছেন তিনি। পুরুষতান্ত্রিক ফুটবল সংস্কৃতির প্রতিবন্ধকতা ভেঙে ড. সুজান এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক এই আসরের ৯৬ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় নারী চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে কুরাসাও হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ।

এর আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ফুটবল দলে প্রথম নারী প্রধান চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন ডা.সেলেস্তে গিয়ার্টসেমা। অন্যদিকে ডা. সিলজা শোয়ার্জ ২০২৩ সাল থেকে জার্মানি পুরুষ দলের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিফা যখন ডা.সুজানকে বলেছিলো চলতি বিশ্বকাপে তিনি একমাত্র নারী চিকিৎসক, বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দেননি।  

ফুটবলে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ, সুযোগ এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিবিসিকে হুরম্যান বলেন,‌‘শুরুতে আমি বুঝতে পারিনি, কারণ এতগুলো দলে একজন নারী হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি আশা করি শীঘ্রই আরো বেশি নারীকে দেখতে পাব, কারণ এমন অনেক সক্ষম নারী রয়েছেন যারা পুরুষ ফুটবলারদের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।’

কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশনের খেলোয়াড় এবং স্টাফসহ পুরো ৪৯ জনের বহরে তিনিই একমাত্র নারী।

ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত ও ডাচ নাগরিক ৩৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসক এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দহোভেন এবং গো অ্যাহেড ইগলসের মতো নামী ক্লাবে কাজ করেছেন।

স্কালোনির নয়া কৌশলে কপাল খুলতে পারে তরুণ তারকাদের

ক্রীড়া ডেস্ক
স্কালোনির নয়া কৌশলে কপাল খুলতে পারে তরুণ তারকাদের

বিশ্বকাপে গ্রুপের দুই ম্যাচে জয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে আর্জেন্টিনা দল। তাই জর্দানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের শুরুর একাদশে দেখা না-ও যেতে পারে। এতে স্কোয়াডে থাকা দলের সাত খেলোয়াড়ের অভিষেক হতে পারে বিশ্বকাপে। যারা বিশ্বকাপে আগে এক ম্যাচও খেলেননি।

টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ডান হাতের আঙুলের চোটের কারণে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে বিশ্রাম দিলে বদলি হিসেবে হুয়ান মুসো বা হেরেনিমো রুলি যেকোনো একজনের বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে। 

রক্ষণভাগের ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডান হাঁটুর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় জর্দানের বিপক্ষে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো খেলতে পারবেন না। এতে রাইট-ব্যাক হিসেবে নিকোলাস ওটামেন্ডি, লেফটেও আসতে পারে পরিবর্তন। সে ক্ষেত্রে লিওনার্দো বালের্দির জায়গায় আসা মার্কোস সেনেসিকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।

এদিকে মাঝমাঠে দুটি পরিবর্তন আসতে পারে।  লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে সুযোগ পেতে পারে অভিজ্ঞ জিওভানি লো সেলসো, তরুণ প্রতিভাবনা ভালেন্তিন বার্কো।

উইংয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং হোসে মানুয়েল লোপেজ শুরু করতে পারেন। তবে জর্দানের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজ শুরুর একাদশে থাকলে সিমিওনেকে সাইড বেঞ্চেই কাটাতে হতে পারে। সাব হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ পেতে পারে তিনি।

তবে তা নির্ভর করছে একান্ত মেসির ওপর। তাকে বিশ্রাম দেওয়া হবে না নাকি বেঞ্চে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামবেন—তা এখনও নিশ্চিত নয়।

দলটিতে নিজেদের অবস্থানের কারণে দিবু এবং ‘পুলগা’ (মেসি) উভয়েই বিশেষ বিবেচনার দাবিদার। তবে তাঁদের উপস্থিতি ব্যতিক্রমীই হবে। কারণ স্কালোনি একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। যেখানে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন নিকো পাজ, ভ্যালেন্টাইন বার্কো ও জুলিয়ানো সিমিওনেরা। 

ইতিমধ্যে ফাকুন্দো মেদিনা, নিকো গঞ্জালেজ এবং নিকোলাস পাজের অভিষেক হয়ে গেছে বিশ্বকাপে। আগামী ২৮ জুন জর্দানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।

ট্রাম্পের চোখে সকারই আসল ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পের চোখে সকারই আসল ফুটবল
ফুটবল হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

৪৮ দেশ নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। যার মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। 

কিন্তু মার্কিন মুলুকে সকার বনাম ফুটবল বিতর্কটা এখনো রয়ে গেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে খেলাটিকে ফুটবল বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয় সকার।

দেশটির মানুষের কাছে ফুটবল মানে আমেরিকান ফুটবল। আর এই খেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)। অথচ নামে আমেরিকান ফুটবল হলেও এটি মূলত হাত দিয়ে খেলা হয়; পায়ের ব্যবহার করা হয় কম। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনলেন। তিনি এনএফএলের নাম বদলে ফেলে সকারকে সত্যিকারের ফুটবল হিসেবে তার দেশে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। 

ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এনএফএলের জন্য আমাদের অন্য একটি নাম খুঁজে বের করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যেটিকে সকার বলি, বাস্তবে এর নাম ফুটবল। এটিই আসল ফুটবল। একে সকার নামে ডাকার কোনো মানেই হয় না।’ 

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমেরিকান ফুটবল নামটি অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। যে খেলায় খেলোয়াড়রা বেশিরভাগ সময় হাতে বল বহন করেন, সেটিকে ফুটবল বলা যৌক্তিক নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যদিও এনএফএল বা আমেরিকান ফুটবলের নাম পরিবর্তনে এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে আগামীকাল সকালে ‘ডি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হবে মার্কিনরা। 

রেকর্ড গড়া ম্যাচে ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
রেকর্ড গড়া ম্যাচে ফুটবলকে বিদায় জানালেন তারকা গোলরক্ষক

বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেক্সিকোর তারকা গোলরক্ষক গিয়ের্মো ‘মেমো’ ওচোয়া। গড়লেন ছটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য ইতিহাস।

খেলা শুরুর আগেই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়েছিলেন এই তারকা। আসর শেষ হলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়। তবে বিদায়ের ঘোষণায় গড়লেন ইতিহাস। চেকিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে নেমে মেক্সিকোর জার্সিতে নতুন রেকর্ড গড়লেন ওচোয়া। ৪০ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে দেশের হয়ে মাঠে নেমে হয়ে গেলেন মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের সম্মান। 

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ওচোয়া। তাতেই গড়েন ইতিহাস, ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ১৩৯ দিন বয়সে মাঠে নেমে রাফা মার্কেসের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। সঙ্গে আরো একটি বিশেষ কৃতিত্ব যোগ হয়। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার নজির গড়েন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ২০০৬ ও ২০১০ সালে বদলি গোলরক্ষক ছিলেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে প্রথম একাদশে খেলেছেন। এবারও সুযোগ এল লুইস আঞ্জেল মালাগনের চোটের কারণে। তার জায়গায় প্রথম গোলরক্ষক হন রাউল র‌্যাঙ্গেল, আর শেষ ম্যাচে ওচোয়াকে নামিয়ে বিশেষ সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় কোচিং স্টাফ।

তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় চেকিয়াদের। আর ওচোয়া? ১৩ নম্বর জার্সি গায়ে শেষ ১৩ মিনিট খেলে শেষ করলে দীর্ঘ ক্যারিয়ার। সংখ্যার এই কাকতালীয় মিল পরিকল্পিত নয়। কিন্তু মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে তাঁর নাম যে অনেক দিন অমলিন থাকবে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।