• ই-পেপার

বিশ্বকাপের মাঠে সবার নজর কাড়া কে এই নারী চিকিৎসক

নেইমারের ছেলেকে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা, অতঃপর...

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমারের ছেলেকে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা, অতঃপর...
নিরাপত্তাকর্মীর বাধার সম্মুখীন হয় দাভি লুকা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেওয়ার পর গ্যালারির দিকে যান নেইমার জুনিয়র, যেখানে ছিল তার পরিবারের সদস্যরা। 

বাবাকে দেখতেই গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসার চেষ্টা করে নেইমারের ছেলে দাভি লুকা। কিন্তু ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরকে চিনতেই পারেননি নিরাপত্তাকর্মীরা। 

একবার নয়; দুইবার লুকাকে আটকে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ছেলেকে বারবার আটকা যেতে দেখে ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেই এগিয়ে যান এবং পরিচয় জানিয়ে ছাড়িয়ে নেন। 

এরপর নেইমারের ডাকে ছুটে আসে দাভি লুকা। আবেগঘন এক আলিঙ্গনে মেতে ওঠেন বাবা-ছেলে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে এই ঘটনা ঘটে। 

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপের সেরা হয়েই নকআউট পর্বে উঠেছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। 

এই ম্যাচ দিয়েই ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে নেমেছেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে তাকে বদলি নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গোল না পেলেও অল্প সময়ে তিনটি সুযোগ সৃষ্টি করেন নেইমার। এর মধ্যে একটি শট ছিল লক্ষ্যে। বলে মোট স্পর্শ করেন ২৪ বার। 

নেইমারের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় দাভি লুকা। ব্রাজিলিয়ান তারকার সাবেক প্রেমিকা কারোলিনা দান্তাস লুকাকে জন্ম দেন। 

নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন তরুণ ফরাসি ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
নদীতে ডুবে প্রাণ হারালেন তরুণ ফরাসি ফুটবলার

ফ্রান্সের লিওঁ শহরের রোন নদীতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ফরাসি ফুটবলার কেনজো কিস। দেশটির চলমান তীব্র তাপদাহে শরীর শীতল করতে তিন বন্ধুর সঙ্গে নদীটিতে নেমেছিলেন ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। গেল সোমবার গুরুতর অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করেন জরুরিসেবা কর্মীরা। পরে হাসপাতালে নিলে প্রাণ হারান তিনি। ফরাসি লিগ টুয়ের দল গুইনগাম্পের হয়ে খেলতেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী,  ফ্রান্সে বেশ কয়েকদিন ধরেই তীব্র গরম অনুভূত হয়। দেশটির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। গরমে শীতল হতে নদীতে নেমে নিখোঁজ হন কিসসহ তিন বন্ধু। 

পরে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তার বাকি তিন বন্ধুকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও কিস পানির নিচে তলিয়ে যান এবং তাকে সবার শেষে উদ্ধার করা হয়। 

আশঙ্কাজনক অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

 জানা যায়, দূর্ঘটনা ঘটা পার্ক দে লা ফেইসিন অংশে তীব্র স্রোতের কারণে সাঁতার কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। নদীর ওই অংশ কিস ও তার তিন বন্ধু নামলে তীব্র স্রোতের মুখে তলিয়ে যায়। 

চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু জানিয়েছেন, গেল বৃহস্পতিবার থেকে ফ্রান্সে তীব্রদাবদাহে শরীর শীতল করতে নদীতে নেমে চল্লিশ জন ডুবে মারা গেছে।

এদিকে গত বছর গুইনগাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কিয়েস লিওঁ এবং সাঁ-এতিয়েনের যুব দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে গুইনগাম্পে  এবং সেন্ট-এতিয়েন ক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বাগদান সারলেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে আবেদনময়ী’ ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
বাগদান সারলেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে আবেদনময়ী’ ফুটবলার
আলিশা লেহমানকে বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী ফুটবলার মনে করা হয়। ছবি : ইনস্টাগ্রাম

তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা আবেদনময়ী ফুটবলার। হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলেন বলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও তিনি পরিচিত নাম।

সেই আলিশা লেহমান এবার বাগদানের ঘোষণা দিলেন। প্রেমিক মন্টেল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে গতকাল শুভ কাজ সেরে ফেলেছেন আলিশা। ২৭ বছর বয়সী এই সুইস ফুটবলারের ‘হবু স্বামী’ ম্যাকেঞ্জি ইংল্যান্ডের একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব; একই সঙ্গে আধা-পেশাদার ফুটবলার। 

এ বছরের শুরুর দিকে আলিশা ও ম্যাকেঞ্জির মন দেওয়া-নেওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিলেন।  

২৮ বছর বয়সী ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে বাগদানের ছবি গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন আলিশা। লিখেছেন, ‘চিরদিনের জন্য, সব সময়।’

Engage
ম্যাকেঞ্জির প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেন আলিশা। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

সমুদ্রসৈকতে এক রোমান্টিক মুহূর্তে হাঁটু গেড়ে বসে আলিশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ম্যাকেঞ্জি। বিশেষ সন্ধ্যায় আলিশা কালো রঙের একটি ছোট জামা পরেন, যেটিতে ছিল সাদা বর্ডার। পায়ে ছিল সাদা স্যান্ডেল। তার সোনালি চুল ছিল খোলা। 

অন্যদিকে ম্যাকেঞ্জিকে দেখা যায় ক্রিম রঙের হাতাকাটা জাম্পার, শর্টস ও ট্রেইনার্স পরে বেশ স্টাইলিশ লুকে।

ম্যাকেঞ্জির প্রস্তাবে আলিশা ‘হ্যাঁ’ বলতেই একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের সেই রোমান্টিক মুহূর্তের ছবিগুলো ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

একসময় সুইজারল্যান্ড দলের সতীর্থ রামোনা বাচমানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল আলিশার। পরবর্তীতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার দগলাস লুইজের প্রেমে পড়েন।
লুইজ যখন যে ক্লাবে খেলতেন, আলিশাও সেই ক্লাবের নারী দলে চুক্তিবদ্ধ হতেন। অ্যাস্টন ভিলার পর জুভেন্টাসে একসঙ্গে ছিলেন তারা। তবে গত বছর তারা আলাদা হয়ে যান। 

PIC
হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলেন আলিশা লেহমান। ছবি: সংগৃহীত

আলিশা এ বছরই হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটিতে যোগ দেন। 

বিশ্বকাপের নকআউটে উঠায় দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বইছে উৎসবের জোয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউটে উঠায় দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বইছে উৎসবের জোয়ার

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা নকআউট উত্তীর্ণ হওয়ায় দেশজুড়ে উৎসবের জোয়ার বইছে। গ্রুপ ‘এ’তে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই গৌরব অর্জন করে বাফনারা।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ভক্তরা ভুভুজেলা বাজিয়ে ও গান গেয়ে রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে।

মেক্সিকোর গুয়াদালুপের মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে উইঙ্গার থাপেলো মাসেকের করা একমাত্র গোলটি দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই নকআউট পর্বের যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বাফনাদের। প্রথম ম্যাচে
সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে চেকিয়াদের সঙ্গে কষ্টার্জিত ড্র,দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে মেক্সিকোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নকআউট রাউন্ডে পা রাখল তারা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ম্যাচটি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জোহানেসবার্গ, সোয়েটো, ডারবান এবং ব্লুমফন্টেইনের মতো প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে।

ভোরবেলার তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে অনেক সমর্থক নিজেদের রাতের পোশাক (পায়জামা ও ড্রেসিং গাউন) পরেই রাস্তায় নেমে আসে।

দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের প্রতীক ঐতিহ্যবাহী প্লাস্টিকের শিঙা ‘ভুভুজেলা’ বাজিয়ে, ভুভুজেলার শব্দে চারপাশ মুখরিত করে তোলে সমর্থকরা। একই সাথে আতশবাজি ফুটিয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে।

সোয়েটোর রাস্তায় সাধারণ মানুষকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত জুলু গান গেয়ে নাচতে দেখা যায়।

ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে দলটির প্রশংসা করে লিখেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং আশাবাদী... এক জাতি, এক স্বপ্ন, এক লক্ষ্য।’

এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে ঘরের মাঠে খেললেও কখনো গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দেশটি।