• ই-পেপার

গোলাম মাওলা রনি

‘ইউনূস কম্পানি’র একটি অংশ চেহারা পাল্টে ফেলেছে, অন্য অংশ পালিয়েছে

দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে : গোলাম মাওলা রনি

অনলাইন ডেস্ক
দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে : গোলাম মাওলা রনি
ফাইল ছবি

ক্ষমতা হারানোর পর বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে দলটির নেতাকর্মীদের বিদেশে বসে রাজনীতি না করে দেশে ফিরে আসতে হবে। তা না হলে আওয়ামী লীগ একসময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে ‘মুসলিম লীগ’-এ পরিণত হবে বলে বন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি কিংবা বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় এসেছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু, এরশাদ সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুতি কিংবা এক-এগারোর (১/১১) পটপরিবর্তনের সময়ও বিএনপি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বিএনপির তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দলের শীর্ষ নেতারা দেশেই ছিলেন, অনেকে জেল খেটেছেন। কিন্তু দলটির তৃণমূল ও নেতৃত্ব মাঠ ছাড়েনি। একইভাবে জাসদ, সর্বহারা পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোও চরম বিপদে কৌশলগত কারণে নেতৃত্ব বদল করলেও তাদের বড় একটি অংশ মাঠেই ছিল।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে প্রায় দু বছর হতে চলল। কিন্তু এই সময়ে দলটির ভেতর কোনো ইতিবাচক বিবর্তন বা নেতৃত্বের পরিমার্জন দেখা যাচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির সিংহভাগ নেতাই এখন ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দিল্লি, কলকাতা, নিউইয়র্ক বা কানাডায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে দূর দেশে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ফাঁকা আওয়াজ বা হুমকি দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করা হলো কি না—সেটি বড় বিষয় নয়। মূল সংকট হলো দলটির মাঠপর্যায়ের অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, সব পরিণতি মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে না আসে, তবে দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘মুসলিম লীগ’-এর মতো বিলুপ্তির পথে হেঁটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীপু মনি, শাহজাহান খান বা আনিসুল হকদের মতো নেতাদেরও ভবিষ্যতে জামিন হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, যারা স্রেফ আতঙ্কের কারণে দেশ ছেড়েছেন, তাদের ভয় ও দুর্নাম দিন দিন বাড়তেই থাকবে। বিদেশে বসে থাকলে একসময় রাজনৈতিক অস্তিত্বের পাশাপাশি তাদের অর্জিত সম্পদও শেষ হয়ে যাবে। তাই এ দেশে রাজনীতি করতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ফিরে আসতে হবে।

গোলাম মাওলা রনি

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা করলে কপাল পুড়বে

অনলাইন ডেস্ক
রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা করলে কপাল পুড়বে

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা যারা করবেন, তাদের সকলেরই কপাল পুড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, ‘যারা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা করবেন, তারা দলের ভেতরে মার খাবেন, দলের বাইরেও মার খাবেন। যারা নিয়োগ দিয়েছে তাদের হাতেও মার খাবেন, পাবলিকের হাতেও মার খাবেন।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘পরিশুদ্ধ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ আসলে হয় না। গৃহপালিত কখনো বিরোধী দল হয় না। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ছোট শক্তি যেভাবে আপনি যুক্ত করেন না কেন, মুহূর্তের মধ্যে সেটা শেষ হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে এভাবে যারা তাঁবেদারি করার চেষ্টা করেছে, জাতীয় পার্টি, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, মইন উদ্দীন খান বাদল- এ সমস্ত বড় বড় নেতার দল, রাজনীতি, ব্যক্তিত্ব সব শেষ হয়ে গেছে। সেই তুলনায় বর্তমান সরকারের সঙ্গে যারা তেলবাজি করছেন, যারা সরকারের পার্ট হয়েছেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে যারা দালালি করছেন, তারা কিছুই না। মাছিও না মশাও না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে যত কথাই বলুক না কেন- সেটা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হোক, সেটা ডিজিএফআইয়ের কথা হোক, এনএসআইয়ের কথা হোক, ভারতের রয়ের দালালিতে হোক, রয়ের প্রলোভনে হোক, তারেক রহমান সাহেবের দয়ায় হোক, কোনোভাবে নিজেদেরকে রিফাইনড পরিচয় দিয়ে তারা যদি ক্ষমতায় আসতে চায়, কারো কাছে দস্তখত দিয়ে যদি ক্ষমতায় ফিরতে চায়, কারো কাছে শৃঙ্খলিত হয়ে যদি ক্ষমতায় ফিরতে চায়, রাজনীতিতে ফিরতে চায়- এটা হবে না। এটা বরং আরো শেষ হয়ে যাবে।’

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘যখন কোনো কিছু রিফাইন্ড করেন, তখন আর সেটার অরিজিনালিটি থাকে না। আপনি ধরেন পানি- পানিকে আপনি যখন ডিস্টিল ওয়াটার করেন, সেটাকে আর মিনারেল ওয়াটার বলে না, সেটা ডিস্টিল ওয়াটার হয়ে যায়। ডিস্টিল ওয়াটার খাওয়া যায় না। প্রত্যেকটা রিফাইন্ড জিনিস এরকম- এগুলোর মধ্যে যে প্রাকৃতিক ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে, সেই ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে না। প্রাকৃতিক যে বৈশিষ্ট্য, সেটা থাকে না। সেদিক থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কতগুলো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটা যদি না থাকে আওয়ামী লীগের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয়, আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে : মাসুদ কামাল

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় নির্বাচন হবে নির্দলীয়, আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে : মাসুদ কামাল
সংগৃহীত ছবি

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই  নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে, মানে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। সেটা মেয়র নির্বাচন হোক, সিটি করপোরেশন নির্বাচন হোক কিংবা ইউপি নির্বাচন হোক। সব নির্বাচনেই প্রার্থী থাকবে নির্দলীয়। মানে দলীয় প্রার্থী হতে পারে কিন্তু কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগও অংশ নিতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক মাসুদ কামাল।       

আজ বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সব নির্বাচনই নির্দলীয় হয়। একমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনটাই দলীয়ভাবে নির্বাচন হয়। যখন নির্দলীয় নির্বাচন হবে তখন প্রশ্ন উঠবে সেই নির্বাচনে কি যারা একসময় আওয়ামী লীগ করতেন তারা অংশ নিতে পারবেন? কারণ আওয়ামী লীগের তো এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন তো আছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ মানে আওয়ামী লীগ তাদের ব্যানারে  কিছু করতে পারবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের ব্যানারে বাইরে থাকে তারা কি তাহলে বিয়েশাদি করতে পারবে না? পারবে। তারা কি কোনো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারবে না? তাও পারবে। পারা উচিত বলে তিনি মনে করেন।   

তিনি আরো বলেন,  ‘যখন তাকে পারতে দেওয়া না হয়, তখন বুঝতে মব হচ্ছে। আর সে মব থামানো একটা বৈধ সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সরকার যদি না থামাতে পারে দুটো অর্থ হবে। একটা অর্থ হলো সরকার এই মবকে মদদ দিচ্ছে অথবা আরেকটা অর্থ হতে পারে যে সরকার মবকারীদের কাছে অসহায়। এই দুটোর একটা। দুটোর কোনোটাই সরকারের জন্য সম্মানজনক নয়।’ 

মাসুদ কামাল বলেন,  ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে এর একটা প্রাতিষ্ঠানিক  জবাব পাওয়া গেছে। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা  ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলন এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে ক্লিয়ার করেছেন। জাহেদ উর রহমান বলেছেন,  কোনোরকম সমস্যা নেই।  একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, যদি আওয়ামী লীগেরও হয় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। কারণ এটা নির্দলীয়, কেউ দলের কথা বলবেন না। তবে নির্দলীয় ব্যক্তি যদি প্রচারে আওয়ামী লীগ বা তাদের যা যা বলার সেটা বলেন তাহলে সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্বাচনের যে ক্রাইটেরিয়া আছে সেটি যদি পূরণ করতে পারেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই নির্বাচন করতে পারবেন।’ 

পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

পুলিশের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্যদের হাতাহাতির এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত সোমবার দুই তরুণের সঙ্গে এক পুলিশ সদস্যের হাতাহাতির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ লাঠি হাতে নিয়ে সামনের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করছেন এক পুলিশ সদস্য। কিন্তু সে কোনো কিছুতেই মানছে না, পরে পুলিশ সদস্য তার কাছ থেকে লাঠিটা কেড়ে নেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেন। এসময় পাশে থাকা আরেক তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেন।

ভিডিওর কমেন্টে অনেকেই ওই তরুণদের কিশোর গ্যাং বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে।

আরেকজন লিখেছেন, কিশোর গ্যাংদের ছাড় দেওয়ার মানে কি? বেয়াদবির উচিৎ শাস্তি হওয়া জরুরি নয় কি?

এই ভিডিওটি কোন জায়গা থেকে ধারণ করা হয়েছে এবং ওই তরুণদের পরিচয় কালের কণ্ঠ নিশ্চিত হতে পারেনি।