• ই-পেপার

বাংলাদেশে নেপালের ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি আটকে দিল ভারত

মাদক মামলার বিচারে হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মাদক মামলার বিচারে হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫টি বেসরকারি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান মাদক আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। কারণ মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। আর আমাদের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই।

তিনি বলেন, অনেকটা ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারে’র মতো। এজন্য আমরা মাদক আইনটা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। একটা আইনি কাঠামোর দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। হয়তো এই সংসদেই সেটা উঠবে।

মাদকের অনেক মামলা আদালতে ঝুলছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকায় মাদকের ৮০ হাজার মামলা পেন্ডিং আছে। বিভিন্ন জেলায় আরো অনেক মামলা ঝুলছে।

এ বিপুলসংখ্যক মামলার বিচার প্রথাগতভাবে করা কঠিন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মাদক মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রথাগত আদালতেও এর বিচার কাজ চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ১৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বেসরকারি মাদক নিরাময়কেন্দ্রগুলোকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে ৭৩টি কেন্দ্রকে এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী

বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পকে বর্তমান সরকার ‘গলার কাঁটা’ মনে করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্বে এসে ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প পেয়েছি। এগুলো আমাদের জন্য বোঝা। না গিলতে পারছি, না ফেলতে পারছি। এসব প্রকল্প পর্যালোচনা করেছি। আমরা ডিরেগুলেশনে যাচ্ছি। সব প্রকল্প কাছ থেকে মনিটর করা হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে মৃৎশিল্প, শীতলপাটিসহ বিভিন্ন খাতের যেসব কারিগররা রয়েছেন তাদের এগিয়ে নিতে সৃজনশীল অর্থনীতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা তাদের কাজ আরো মার্কেট অ্যাবল করতে চাই। যা এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা ২০০০ টাকায় বিক্রি হবে। তাদের আয় বাড়লেই তো জিডিপি বাড়বে।’

লোকসংগীতের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘আমরা গান, কালচার, চলচ্চিত্র—সবই মনিটাইজ করতে চাই। বিনোদন একটি আয়ের উৎস।’

দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে পর্যটন খাতে যুক্ত করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, তাই আমরা সৃজনশীল অর্থনীতিতে বরাদ্দ দিতে।

আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হয়নি দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একজন ছাড়া আমি কাউকেই চিনি না।’ এ সময় তিনি কৃষি খাতকে সরকার সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলেও জানান।

কৃষি জমি ভরাট করা ব্যবসায়ীদের শাস্তি চাইলেন এমপি দিপু ভূঁইয়া

অনলাইন ডেস্ক
কৃষি জমি ভরাট করা ব্যবসায়ীদের শাস্তি চাইলেন এমপি দিপু ভূঁইয়া
ভিডিও থেকে নেওয়া

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন অসৎ কম্পানি কৃষিজমি ভরাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে এ দাবি তোলেন তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, রূপগঞ্জে বিভিন্ন অসৎ কম্পানি বালু দিয়ে কৃষিজমি ভরাট করে ফেলছে। আমি আশা করব তাদের বিরুদ্ধে যেন শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হয়।

এসব জমি ভরাটের কারণে রূপগঞ্জের মানুষ তাদের বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলেও জানান এই সংসদ সদস্য।

এ সময় তিনি গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ দূষণ এবং নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে নারায়ণগঞ্জ। এরপরও নারায়ণগঞ্জকে ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা করে রেখেছে। আমি চাই শিগগির নারায়ণগঞ্জকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলাতে পরিণত করা হোক।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন সিটি করারও দাবি জানান মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি
সংগৃহীত ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দ প্রদানসহ ২১ দফা প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে গবেষণা সংস্থা ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’।

একই স্মারকলিপি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।

ডিআরডিএফ’র সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, উপকূলের সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে উপকূলের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবসহ বেশকিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা সংসদে বাজেট আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বাজেট আলোচনায় তুলে ধরেছেন। বাজেট পাসের আগে উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ওই সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ২১ দফায় বলা হয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

এ বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রত্যন্ত এলাকা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উপকূলের সংকট এখন শুধু দুর্যোগের বিষয় নয়; এটি জেলে, কৃষক, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রশ্ন। সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা সময়ে যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। সরকার বাজেট পাসের আগেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।