• ই-পেপার

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাফনারা। গ্রুপ ‌‘এ’তে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র ও শেষ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তিদের হারিয়ে রাউন্ড থার্টি টুতে জায়গা করেছে নিয়েছে হুগো ব্রুসের শিষ্যরা। 

স্বাগতিক হিসেবে ২০১০ বিশ্বকাপের পর এবার আবার সুয়োগ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই লেখলেন রূপকথার গল্প। হতাশাজনক শুরুর পর দুর্দান্তভাবে ফিরে জায়গা করে নিলেন নকআউটে।

মেক্সিকোর মন্টেরিতে গতকাল দ্বিতীয়ার্ধে থাপেলো মাসেকোর গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করার পাশাপাশি মেক্সিকোর পর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানও দখল করে বাফনারা।

দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং মায়াং-বো এশিয়ান অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত অধিনায়ক সন হেয়াং-মিনকে বদলী বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন। যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। এশিয়ান পরাশক্তিরা ম্যাচটা দারুনভাবে শুরু করেছিল। অস্থায়ী অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের শক্তিশালী হেড গোললাইনের উপর থেকে ব্লক করেন অব্রে মোডিবা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নেয়। আক্রমনাত্মক কৌশলে খেলতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাফানারা। ৩০ মিনিটে থালেন্টে এমবাথার শট কোনোমতে রক্ষা করেন দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেয়াং-গিউ। পোস্টের খুব কাছে থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মাগোপা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সন। এ সময় কোচ হং তিনটি পরিবর্তন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড ওহ হায়েয়ন-গিউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরীক্ষায় ফেলেন। 

৬৩ মিনিটে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। সেপাং মোরেমির ক্রসে মাসেকোর গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফিরে আসার জোড় চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।

এই পরাজয়ে দক্ষিণ কোরিয়ারও অবশ্য স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের সামনে এখনো নক আউট পর্বে যাবার আশা টিকে আছে।

আগামী ২৮ জুন লস এ্যাঞ্জেলসে শেষ ৩২’এ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ সহআয়োজক কানাডা।

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে টানটান উত্তেজনা। চলমান টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্ট। আর তাতেই ফুটবলবিশ্বে নতুন করে রোমাঞ্চের হাওয়া বইতে শুরু করেছে— আবারও কি দেখা হচ্ছে এই দুই চিরশত্রুর?

চলমান আসরে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপ এবং ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট কেটেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউটের এই ধাপ পার হতে পারলে দলগুলোকে খেলতে হবে শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের বৈতরণী। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর খবর হলো, ফাইনালের আগেই মাঠে গড়াতে পারে ‘সুপার ক্লাসিকো’।

অবশ্য হাইভোল্টেজ এই মহারথ দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজ নিজ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সফলভাবে টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নকআউট নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ মেলাতে আলবিসেলেস্তেদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত। মেসিরা যদি গ্রুপসেরা হতে পারে, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল।

অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপপর্বের শুরুটা করেছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে। তবে পরের দুই ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফেরে সেলেসাওরা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে পা রেখেছে তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ (নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে যেকোনো একটি দল)।

পরিসংখ্যানের পাতায় দুই দলের লড়াই সবসময়ই সেয়ানে সেয়ানে। এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল ১০৬টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জয় ৪১টি ম্যাচে, আর ব্রাজিল জিতেছে ৩৯টিতে। বাকি ২৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। এবার সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির দেখা হলে সেই লড়াই যে আরও জমজমাট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপসেরা হয়ে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বের টিকিট কেটে ফেলেছে। ফলে রবিবার জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য স্রেফ নিয়মরক্ষার। আর এমন এক সমীকরণের ম্যাচে শুরুর একাদশে বড়সড় ওলটপালটের আভাস দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশেষ করে দলের দুই প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে নতুন ছক কষছেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের জোরালো গুঞ্জন, নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বাড়তি চাপ থেকে দূরে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামাটা প্রায় নিশ্চিত। ধাপে ধাপে ফিটনেস ধরে রাখার পরিকল্পনায় মেসিকে হয়তো পুরো ম্যাচ খেলানো হবে না। তিনি কি শুরুর একাদশে থাকবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন—সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচ শুরুর আগেই নেবেন স্কালোনি। চলমান বিশ্বকাপে ৫ গোল করে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন বুটের রেসে সবার ওপরে আছেন এই কিংবদন্তি।

মেসির পাশাপাশি অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়েও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ। সম্প্রতি ডান হাতের অনামিকায় চোট পেয়েছিলেন এই বাজপাখি। অবশ্য চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে গ্লাভস হাতে মাঠে নামার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এমি। শেষ পর্যন্ত স্কালোনি তাকে সবুজ সংকেত দেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে নিয়মিত একাদশের একঝাঁক তারকাকে বিশ্রামে দেখা যেতে পারে।

অস্ট্রিয়া ম্যাচে হালকা চোটের কারণে বাইরে থাকা গঞ্জালো মন্তিয়েল ফিরতে পারেন রক্ষণভাগে। নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে সেন্টার ব্যাকে জুটি বাঁধতে পারেন মার্কোস সেনেসি কিংবা ফাকুন্দো মেদিনা। আর বাঁ প্রান্ত সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগেও বড় পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের আগের প্রস্তুতি ম্যাচের কৌশলকে মাথায় রেখে সাজানো হতে পারে রবিবারের একাদশ।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন এজেকিয়েল পালাসিওস অথবা ভ্যালেন্তিন বারকো। উইংয়ে গতি বাড়াতে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমিওনে ও জিওভানি লো সেলসো।

আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে সুযোগ মিলতে পারে হোসে লোপেজেরও।

আর যদি মেসিকে শুরুর একাদশে না রাখা হয়, তবে মাঠে তার চেনা ভূমিকা ও সৃজনশীলতা সামলানোর গুরুদায়িত্ব পড়তে পারে তরুণ তুর্কি নিকোলাস পাজের কাঁধে। 
 

ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন
ছবি : রয়টার্স