• ই-পেপার

ডিসি সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে উভয় দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে। দক্ষতার উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শিক্ষার উন্নয়নে একত্রে কাজ করছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

এ সময় তিনি পাকিস্তানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার এ সময় শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। 

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের হাইকমিশনার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ফুটবল মন্ত্রীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াজিফ।

এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ—হান্নান মাসউদকে স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ—হান্নান মাসউদকে স্পিকার
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

সংসদ অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বসুন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার এ কথা বলেন।

হান্নান মাসউদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘হান্নান মাসউদ আপনি বসুন। সংসদে কথা বলার জন্য আপনি যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, দিস ইস নট দ্য নর্ম। মাননীয় সদস্য দয়া করে আপনি বসুন।’

স্পিকার হান্নান মাসউদকে বারবার বসতে বললেও তিনি না বসে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে হান্নান মাসউ চেয়ার ছেড়ে দুই হাত উঁচিয়ে সংসদে চিৎকার করতে থাকেন।

বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশেল সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য এক হাজার ফুটবল উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। রবিবার (২১ জুন) শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এই উপহারের কথা জানান।

পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় হাইকমিশনার শিক্ষামন্ত্রীকে ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর’-এর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

বৈঠকে শিক্ষা ছাড়াও যুব উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের বিশ্ববিখ্যাত শিয়ালকোটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’-এর তৈরি একটি ফুটবল শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, একই মানের এক হাজার ফুটবল এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এগুলো দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে বিতরণ করা হবে।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, উন্নতমানের এসব ফুটবল বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস চর্চা উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে গভীর আগ্রহ ও আবেগ রয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিতে এটি সহায়ক হবে।

আলোচনার একপর্যায়ে হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের শিয়ালকোট বিশ্বব্যাপী মানসম্মত ফুটবল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফুটবল সেখানেই তৈরি হয়। এমনকি ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল—২০১৪ সালের ‘ব্রাজুকা’, ২০১৮ সালের ‘টেলস্টার’, ২০২২ সালের ‘আল রিহলা’ এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’ও শিয়ালকোটে উৎপাদিত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন পাকিস্তানের এই ক্রীড়াসামগ্রী উপহারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংসদে আইনমন্ত্রী

গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলা, রায় হয়েছে ৭টির

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলা, রায় হয়েছে ৭টির
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামি ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হলেও ২৮৮ জন এখনো পলাতক।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে ৭৩টির কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের বিভাগভিত্তিক হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনবোধে দেশের যেকোনো স্থানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারেন। ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ইতোমধ্যে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগ ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে।

সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে বলে সংসদে জানান আইনমন্ত্রী। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ৯ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই রূপান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর ফলে ঢাকার বাইরে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় স্থাপন এবং মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনি সেবা সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরো জানান, সরকার নির্ধারিত ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দক্ষ আইনজীবী লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত হতে আগ্রহী হন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যতে তা আরো যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।

তবে সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির কাঠামোগত পার্থক্য, সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা দূর করে একটি সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।