• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘আজ আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন, আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি; যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয় আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনেই সিলেটের জনসভা শেষ করে আমি হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় ইনশাল্লাহ তাহলে আমরা আমাদের চাবাগান শ্রমিকে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজকে হ্যাঁ আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি কিন্তু ইনশাল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে চা বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিব ইনশাল্লাহ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে এই বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছিল। কেন? কারণ আমরা সেই সময় মানুষকে বলেছিলাম যে আপনারা যদি আমাদেরকে নির্বাচিত করেন আমরা জনগণের জন্য কাজ করব। প্রথম একটি কাজের কথা বলেছিলাম। সেটি হচ্ছে যে আমরা বিশ্বাস করি এই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহ করতে হবে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা মনে করি যে পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এবং সেই জন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় চার কোটির মতন পরিবার রয়েছে আমরা বলেছিলাম যে আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে পরিবারের যে নারী প্রধান তার কাছে।’

 তিনি নতুন বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমুখী বরাদ্দ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই বোনেরা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে এই কাজ আমরা এই দেশের কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই এবং এই যে বর্তমান বাজেট যেটা আমরা কয়েকদিন আগে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা অর্থ বরাদ্দ করেছি আগামী বছর এই যে সামনে এখন জুলাই মাস থেকে আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের ৪০ লক্ষ কৃষক ভাইয়ের হাতে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিব। ঠিক একইভাবে আগামী এক বছরে ৪০ লক্ষ পরিবারের কাছে যেমন ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব, ৪০ লক্ষ কৃষকের কাছে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিব। যেভাবে আমরা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিচ্ছি ধীরে ধীরে যেভাবে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইভাবে ইমাম-মুয়াজ্জেম খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন তাদের হাতেও সম্মানের ব্যবস্থা তুলে দিচ্ছি। সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় মানুষকে সহযোগিতা করতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষকে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। কিন্তু কয়েকদিন ধরে দেখুন পত্রপত্রিকাগুলো আমরা দেখছি আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটের মধ্যে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সংসদে সেই বাজেটের মধ্যে আমরা কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই ফ্যামিলি বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা স্টুডেন্টরা যাতে স্কুল কলেজে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারে  এবং খেলাধুলা করতে পারে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট পেশ করেছি জাতীয় সংসদে সেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে সেইজন্যই প্রত্যেক উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ বেডের হসপিটাল আছে সেগুলোকে আগামী পাঁচ বছর আমরা ১০০ বেড করব তার জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। যাতে করে গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  যে বাজেটে অর্থবরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’ এসময় তিনি জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এই সকল লোকেরা যদি দেশে অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজ যে সকল কর্মসূচী উদ্ধোধন করা হলো তা বাস্তবায়ন আটকে যাবে। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দিবে  তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে তাদের এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই এই বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয় করেছে। এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট স্কুল কলেজ দেখেছেন খোঁজ করে দেখুন এগুলো সব বিএনপি মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময়  কাজগুলো হয়েছিল। সাফ কথা যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে যদি কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয় তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করে আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীনের সময় দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারী গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সবগুলো একসাথে ছিল মুখে মুখে বলত আমরা একসাথে নাই কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবসময় একসাথে কাজ করেছে এবং সকল সময় প্রতিটি সময় বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি সেইজন্য বিএনপি সকল সময় বলে থাকে বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’ 

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করে।  দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না।’

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন  প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এসময় সময় উপকারভোগী নারী চা শ্রমিক ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাস প্রান্তিক অসহায় মানুষের জন্য নেওয়া এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব করতে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ এবং উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার্থে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও ভারসাম্য রক্ষা পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও ভারসাম্য রক্ষা পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো একক শক্তিকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্বাধীন ও বাস্তবভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি নতুন নতুন অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন ইস্যু আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গবেষণা ও উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং ব্লু ইকোনমির মতো নতুন খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

রপ্তানি বাজার ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকাকে রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং কার্যকর বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বপরিসরে তার অবস্থান সুদৃঢ় করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পাট ও বস্ত্র সচিব হলেন শরফ উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
পাট ও বস্ত্র সচিব হলেন শরফ উদ্দিন
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। 

বুধবার (১৭ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে গত ৯ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, আলোচনায় সিডনির সেই বৈঠক

শিপন আহমদ (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া
বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, আলোচনায় সিডনির সেই বৈঠক
ফাইল ছবি

দুবাইয়ে বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তার অবস্থান ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা। ২০২৪ সালে সিডনিতে বেনজীর আহমেদকে দেওয়া একটি সংবর্ধনা বা বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবেশবাদী লেখিকা ড. নার্গিস বানু সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অবশেষে বেনজীরকে নাকি দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য উদঘাটন হলে ফেঁসে যেতে পারে কমিউনিটির কিছু পরিচিত মুখ।’

অন্য এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে লেখেন, ‘বেনজীরের নামে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে মহিলাসহ ২-১টা সাদা মানুষ নিয়ে সেই একই এইডের ধান্দাবাজি শুরু। সাবধান!’ মন্তব্যের ঘরে তিনি আরো অভিযোগ করেন, সিডনিতে বেনজীরকে সেবাদানকারী চক্রটি এখন দেশে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছে।

ড. নার্গিস বানুর এসব পোস্টের নিচে প্রবাসীদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই চক্রের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বিদেশে পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়— সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দুবাই হয়ে বেনজীর আহমেদ পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিলেন। ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সিডনিতে তার একটি ব্যক্তিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ওই বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ্যে আসে।

সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়েন। প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং পরে মালয়েশিয়ায় ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচির আওতায় কেনা বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখান থেকে দুবাই ও পর্তুগাল হয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান।

বেনজীরের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’–তে (change.org) ‘ইনভেস্টিগেট অ্যান্ড ডিপোর্ট বেনজীর আহমেদ ফ্রম সিডনি’ শিরোনামে একটি পিটিশন চালু করা হয়। স্বাধীন বাংলা পডকাস্টের পক্ষে তৌহিদ হোসেনের উদ্যোগে শুরু হওয়া ওই আবেদনে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফেডারেল পুলিশ, নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, স্ত্রী জীশান মির্জা ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসার ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা রয়েছে।

এ ছাড়া কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে ঢাকার গুলশানে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসে বেনজীর আহমেদের নাম।

প্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আবিদ আহমদ বলেন, ‘অতীতে সিডনিতে বেনজীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এখন নতুন রাজনৈতিক ছায়াতলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথ অনুসন্ধান চালালে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

অন্য এক প্রবাসী শাহিন আহমদ বলেন, প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করার জন্য কমিউনিটিতে যাদের নাম আসছে, তাদের বক্তব্যও সামনে আসা প্রয়োজন।

প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শিপন আহমদ বলেন, ‘বেনজীরের অনুসারী একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক এখানেও সক্রিয় রয়েছে। স্বচ্ছ তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’

অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীরের অস্ট্রেলিয়ায় কালো টাকা পাচারের বিষয়সহ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত অনেকেই এখন অস্ট্রেলিয়ায় এসে ভিন্ন কৌশলে কালো টাকা সাদা করছেন। 
সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবি, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এসব ব্যক্তিদের আইনগতভাবে শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক।’

সচেতন মহলের মতে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষমতা, জবাবদিহি ও প্রবাসী রাজনীতির এক জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে।