• ই-পেপার

পচা সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন, সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু অর্থায়নে জাতীয় বাজেটে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু অর্থায়নে জাতীয় বাজেটে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় বাজেটে জলবায়ু অর্থায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও উন্নয়নকর্মীরা। তাদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়। তাই জলবায়ু অর্থায়ন বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

শনিবার (১৪ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ও জলবায়ু বরাদ্দ : উপকূলীয় সুরক্ষার অগ্রাধিকার কতটা?’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি তুলে ধরেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস ও ইক্যুইটিবিডি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান এম. এ. হাসান।

তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পৃথক অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রথমত, উপকূলীয় সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ, স্লুইস গেট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ পানি অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং পুরোনো পোল্ডার ও বাঁধ সংস্কার। দ্বিতীয়ত, নিরাপদ পানি ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর খনন, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, পানি-সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং লবণাক্ততা-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। তিনি লবণাক্ততা, নদীভাঙন, পানি সংকট ও জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতিকে উপকূলীয় জনগণের জীবিকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, পানি-সম্পর্কিত দুর্যোগ ও পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি ও পানীয় জলের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ, পুকুর খনন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ক্ষুদ্রঋণ নীতি ও অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বাজেট ঘাটতি কমাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি দমনে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি।

আরডিআরএস বাংলাদেশের পরিচালক তারিক সাঈদ হারুন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের জিডিপিতে প্রায় ২২ শতাংশ অবদান রাখলেও এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়ন সহায়তা প্রয়োজন।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক জাতীয় বাজেটে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক অর্থায়ন ব্যবস্থার দাবি জানান। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নিয়ন্ত্রণ এবং সিআইবি ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আহসানুল ওয়াহেদ, ইক্যুইটিবিডির ওমর ফারুক ভূঁইয়া, বিডিসিএসও প্রসেসের ইকবাল উদ্দিনসহ অনেকে।

সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যা নিয়ে বিশেষ আলোচনা স্থগিত, সংসদে ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যা নিয়ে বিশেষ আলোচনা স্থগিত, সংসদে ক্ষোভ

 

সীমান্তে অবৈধ পুশ ইন এবং বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা

ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশ ইন এবং বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৪) মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। 

বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, দ্রুতই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এর ওপর আলোচনা হবে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশ ইন তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদের মূলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে তাকে জানানো হয়েছিল যে, আজ রবিবার বিষয়টি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মূলতবি হওয়ার পর রবিবারের মূল কার্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজ সকালে দেওয়া নতুন কার্যসূচি থেকে রহস্যজনকভাবে বিষয়টি বাদ দেওয়া হয় এবং মূলতবি শাখা থেকে তাকে জানানো হয় অনিবার্য কারণবশত প্রস্তাবটি স্থগিত করা হয়েছে। 

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা নয়, তাকে অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো? একই সঙ্গে এটি পরবর্তীতে কবে আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে, সেই সুনির্দিষ্ট তারিখও জানতে চান তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং নোটিশটি তার সামনেই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। বর্তমানে সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে এবং তাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বা ফান্ডামেন্টাল পার্ট হিসেবে স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, খুব শিগগিরই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নোটিশের ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে।
 

প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক স্কুলে সংগীত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ অসম্মতি দিয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠতম দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেই বিতর্ক সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী?

জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে জাতীয় সংসদকে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দল ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান জানিয়ে আসছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

এদিকে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সঙ্গীত শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, ধর্মপ্রাণ মুসলিম অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে সংগীতশিক্ষা চালু করা হলে তা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করবে।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে গত নভেম্বরে বিধিমালা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে শুধু প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তখন বিধিমালা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান : ববি হাজ্জাজ

অনলাইন ডেস্ক
দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান : ববি হাজ্জাজ
সংগৃহীত ছবি

বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে যে বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। শিক্ষাব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের ‘নোংরা মনোভাব’ নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী নতুন বাজেটকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ‘জনগণবান্ধব’ এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

বিগত ২০ বছরের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে।

সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন বাবি হাজ্জাজ বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।