• ই-পেপার

‘আজীবন সঙ্গ দেবে’—নতুন এআই রোবট আনল চীনা প্রতিষ্ঠান

এআই ডিভাইসের জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন

অনলাইন ডেস্ক
এআই ডিভাইসের জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন
সংগৃহীত ছবি

প্রযুক্তিপণ্য আরো উন্নত করতে নিজস্ব এআই চিপ তৈরি করছে অ্যামাজন। কম্পানিটি তাদের ইকো, ফায়ার টিভি এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন ডিভাইসে এসব চিপ ব্যবহার করবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যামাজনের ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান প্যানোস পানাই এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অ্যামাজন ইতিমধ্যে নিজেদের কিছু ডিভাইসের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (এন্ড-টু-এন্ড) নিজস্ব সিলিকন বা চিপ তৈরি করছে। ইকো শো ৮, ইকো শো ১১ এবং ফায়ার টিভি-তে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্যানোস পানাই জানান, নিজস্ব চিপ ব্যবহারের ফলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় আরো ভালো হবে। পাশাপাশি ডিভাইসেই দ্রুত ও নিরাপদভাবে এআই সুবিধা চালানো সম্ভব হবে।

গত বছরের অক্টোবরে অ্যামাজন এ জেড ৩ (AZ3) ও  এ জেড ৩  প্রো (AZ3 Pro) নামে দুটি চিপ উন্মোচন করে। এসব চিপ ক্লাউডের বদলে সরাসরি ডিভাইসেই এআই মডেল চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে এআই আরো দ্রুত কাজ করবে এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তাও বাড়বে।

পানাই আরো বলেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে অ্যাপ ও স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে আসতে পারে। তখন কথোপকথন ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারবে এআই।

অ্যামাজন এমন নতুন এআই ডিভাইস নিয়েও কাজ করছে, যেগুলো ব্যবহারকারীরা সব সময় সঙ্গে রাখতে পারবেন। এসব ডিভাইস ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।

নতুন এসব পণ্য খুব শিগগিরই বাজারে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যামাজনের ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান প্যানোস পানাই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে অ্যামাজনের অ্যালেক্সা+ সেবা চ্যাটজিপিটি ও গুগল জেমিনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। তাই ব্যবহারকারীদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিতে নতুন এআই প্রযুক্তি ও ডিভাইস তৈরি করছে অ্যামাজন।

মানুষের মতো শেয়ার লেনদেন করতে পারবে এআই এজেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
মানুষের মতো শেয়ার লেনদেন করতে পারবে এআই এজেন্ট
ছবিঃ রয়টার্স

খুব শিগগির এআই এজেন্ট মানুষের মতো দক্ষভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম রবিনহুডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ভ্লাদ তেনেভ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে একজন মানুষ শেয়ারবাজারে যা করতে পারবেন, প্রায় সবই এআই এজেন্ট করতে সক্ষম হবে।

এআই এজেন্ট হলো এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে।

ভ্লাদ তেনেভ বলেন, বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরেই স্বয়ংক্রিয় ও এআইনির্ভর ট্রেডিং ব্যবহার করছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এমন প্রযুক্তি এতদিন সহজলভ্য ছিল না।

রবিনহুডের লক্ষ্য হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো একই ধরনের এআইভিত্তিক ট্রেডিং সুবিধা দেওয়া।

গত মে মাসে রবিনহুড এমন কিছু নতুন টুল চালু করে, যার মাধ্যমে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে শেয়ার কেনাবেচা এবং বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটাও করতে পারে।

এদিকে, বুধবার রবিনহুড যুক্তরাজ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

বর্তমানে রবিনহুড ৩৮টি দেশে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আরো দক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। তবে সিইও ভ্লাদ তেনেভের দাবি, রবিনহুডের ব্যবসা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

‘এআই শিল্পের কিছু অংশ পাগলামি’—প্যালান্টির সিইও

অনলাইন ডেস্ক
‘এআই শিল্পের কিছু অংশ পাগলামি’—প্যালান্টির সিইও
ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের প্রধান নির্বাহী (সিইও) অ্যালেক্স কার্প এআই খাতের বর্তমান ব্যবসায়িক পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের টোকেনভিত্তিক মূল্য নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্প বলেন, এআই শিল্পের কিছু অংশ এখন ‘একেবারেই পাগলামি’ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়। 

বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক ব্যবহারকারীর কতটুকু এআই ব্যবহার হয়েছে, অর্থাৎ টোকেনের পরিমাণ হিসাব করে টাকা নেয়। টোকেন বলতে এআই যে ছোট ছোট শব্দ বা লেখার অংশ পড়ে ও তৈরি করে, সেগুলোকে বোঝায়।

কার্পের দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠান টোকেনের জন্য অনেক টাকা দিচ্ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজের ফল পাচ্ছে না। বরং তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক তথ্য এআই কম্পানিগুলোর কাছে তুলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের মেধাস্বত্ব (আইপি) ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যেতে পারে। সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উচিত নিজেদের ব্যবহৃত এআই মডেলের ওপর নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ রাখা। পুরো নিয়ন্ত্রণ এআই কম্পানির হাতে থাকা উচিত নয়।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ বাইরের কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য, প্যালান্টির ও অ্যানথ্রপিকের মধ্যে এআই ব্যবহারের নীতিমালা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। অ্যানথ্রপিক তাদের প্রযুক্তি গণনজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ব্যবহার করতে চায় না। অন্যদিকে, প্যালান্টির যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে সফটওয়্যার সরবরাহ করে এবং সম্প্রতি ইলন মাস্কের এক্স এআই-এর মতো বিকল্প এআই মডেলের ব্যবহারও বাড়িয়েছে।

কার্পের ভাষায়, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করছে এআই নিয়ে যতটা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে ততটা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা বর্তমান ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে।

কম খরচে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
কম খরচে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল
ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র দ্রুত এবং কম খরচে তৈরি করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপ কম্পানিগুলো। এ জন্য তারা গাড়ি, তেল-গ্যাস (ফ্র্যাকিং) এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ কাজে লাগাচ্ছে।

বুধবার (১ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 


রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানের কারণে রকেট মোটরের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত বড় প্রতিরক্ষা কম্পানিগুলোর পাশাপাশি নতুন স্টার্টআপগুলোও দ্রুত উৎপাদন ও কম খরচে অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য রকেটচালিত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট উৎপাদন বাড়াতে সরকার ৫৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়াও সহজ করছে।

তবে বিশ্বের বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো—লকহিড মার্টিন, বোয়িং এবং আরটিএক্স—আগেই সতর্ক করেছে, রকেট মোটরের সংকটের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

গাড়ি ও তেল-গ্যাস শিল্পের যন্ত্রাংশ ব্যবহার

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ ক্যাস্টিলিওন ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত উন্নতমানের ইলেকট্রনিক চিপ ব্যবহার করছে। কম্পানিটির দাবি, এসব চিপ মহাকাশ শিল্পের সমমানের যন্ত্রাংশের তুলনায় প্রায় ১০ ভাগ দামে পাওয়া যায় এবং সংগ্রহ করতেও প্রায় ছয় গুণ কম সময় লাগে।

এ ছাড়া কম্পানিটি তেল ও গ্যাস শিল্পে ফ্র্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত উচ্চচাপ সহনশীল ধাতব পাইপ ব্যবহার করছে। এগুলো রকেট মোটরের প্রয়োজনীয় তাপ ও চাপ সহ্য করতে পারে, আবার দামও কম এবং সহজে পাওয়া যায়।

ওষুধ শিল্পের প্রযুক্তিতে রকেট জ্বালানি তৈরি

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্দুরিল রকেট মোটরের জ্বালানি তৈরিতে ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত বিশেষ ব্লেডবিহীন মিক্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই বড় পরিমাণ জ্বালানি মেশানো সম্ভব, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। কম্পানির দাবি, এতে উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে।

থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে উৎপাদনের সময় কমছে

রকেট মোটর তৈরিতে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান -এর এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রচলিত ধাতব যন্ত্রপাতির বদলে থ্রিডি প্রিন্টেড টুল ব্যবহার করলে নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করতে প্রায় এক বছরের বদলে মাত্র ছয় সপ্তাহ সময় লাগে।

নিউ মেক্সিকোভিত্তিক এক্স-বো সিস্টেমস থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে কম খরচে রকেট মোটর তৈরি করছে। কম্পানিটির দাবি, নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপনের সময় তিন থেকে ছয় বছর থেকে কমে প্রায় এক বছরে নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে তারা পেন্টাগনের কাছ থেকে ১৯১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেয়েছে।

অন্যদিকে ফায়ারহক অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তিতে রকেটের জ্বালানি তৈরির সময় ৬০ দিন থেকে কমে মাত্র ৭ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় এক-দশমাংশ খরচে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব।

এখনো রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার হলেও রকেট মোটর উৎপাদনে এখনো কাস্টিং, কিউরিং, বেকিং, এক্স-রে পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এ ছাড়া কিউরিং ওভেন ও এক্স-রে যন্ত্রপাতির সীমিত সংখ্যা এখনো উৎপাদন বাড়ানোর বড় বাধা।

এ ছাড়া স্টার্টআপগুলোর সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা। বর্তমানে তারা বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারেনি। পাশাপাশি পেন্টাগনের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি না থাকায় নতুন কম্পানিগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।