নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভেজালমুক্ত খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস এবং ফুড সেফটি মুভমেন্টের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত। রাজধানীতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি সাঁড়াশি অভিযানই যথেষ্ট নয়; বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় বাধা। উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলোচনা কেবল সীমিত পরিসরে না রেখে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং উন্মুক্ত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে ফুড কোর্ট, ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এসব সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, আগে সমাজে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্লাব ও পাঠাগারের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমে যাওয়ায় সামাজিক সচেতনতা ও মানবিকতাও কমেছে। মানুষকে মানবিক করে তুলতে পারলে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রিও অনেকাংশে কমে আসবে।
ফুটপাত ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, রাজধানীতে ফুড কোর্টের পাশাপাশি ভ্যানে করে খাবার বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। এসব খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পানির গুণগত মান এবং ধোয়া-মোছার প্রক্রিয়া তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। ব্যবসা চলবে, তবে তা অবশ্যই একটি সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থার মধ্যে হতে হবে।
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নগরবাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, তদারকি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, আমি তার সঙ্গে শরিক হতে চাই। আপনারা আন্দোলন করুন, সিটি করপোরেশনের সহকর্মী হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ফুড সেফটি মুভমেন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কার্যকর তদারকি ও কঠোর আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান।




