ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশিয় প্রযুক্তি ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধায় তৈরি। এমনকি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ব্যয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবকও চুয়েটের একজন শিক্ষার্থী। চুয়েট এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানের শিক্ষার্থীরা বিশ্বব্যাপী বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমি আশা করি শিক্ষার্থীরা চুয়েট থেকে পাস করে বাংলাদেশকে এবং বিশ্বকে আলোকিত করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক কোর্সের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চুয়েটে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে তারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হয়েছেন। এই যাত্রাকে অর্থবহ করতে হলে কঠোর অধ্যবসায়, গবেষণার মনোভাব এবং আত্মোন্নতির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্যের সঙ্গে কাজ করতে দেখেছি। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স, স্যামসাংসহ বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বর্তমান নবীন শিক্ষার্থীরা একদিন ঠিক এইভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দেবেন।’
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ভূমি সেবার বেশিরভাগ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হচ্ছে। ‘ভূমি অ্যাপ’ এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি, ই-পর্চাসহ বিভিন্ন সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর একটি অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা থাকবে; তবে কোনো অবস্থাতেই মাদকের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। মাদক কখনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি মেধা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়।’ তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়চেতা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার, মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, ‘পৃথিবী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কেবল ভালো ফলাফল যথেষ্ট হবে না। তোমাদের দরকার হবে বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, গবেষণার মনোভাব, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং নৈতিক নেতৃত্ব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজ তোমাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিশ্বমানের গবেষক, সফল উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিল্পনেতা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে।’





