• ই-পেপার

চুরি ঠেকাতে পুকুরের চারপাশে অরক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ, ভ্যানচালকের মৃত্যু

যশোর

নিরুপায় হয়ে মায়ের অভিযোগ, ছেলের ১ বছরের কারাদণ্ড

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
নিরুপায় হয়ে মায়ের অভিযোগ, ছেলের ১ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন মা। অভিযোগের পর প্রশাসনের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের সরঞ্জামসহ শরিফুল ইসলাম (২৮) নামে ওই ছেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত উপজেলার বুইকারা গ্রামের মৃত শেখ আয়ুব আলী ও নাছিমা বেগমের ছেলে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়. শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি প্রায়ই তার মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বুইকারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের সরঞ্জামসহ অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম নামে মাদকাসক্ত এক ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তার মা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। শুনানি শেষে ইয়াবা ট্যাবলেট সংরক্ষণ ও পরিবহনের অপরাধে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব কেদারপুর গ্রাম থেকে মো. আলাউদ্দিন খান (৩৭) নামের এক যুবককে গাঁজাসহ আটক করেছে পুলিশ। তিনি মো. আফসার উদ্দিনের ছেলে এবং কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনতার বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনার আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।’

লালপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে অবৈধভাবে জমি থেকে ভরাট বালি উত্তোলনের অভিযোগে একটি ট্রাক্টর জব্দসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পুলিশের এক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন– সাব্বির আহম্মেদ (২৩) ও বাপ্পি আলি (২৯)। তারা উভয়ই লালপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের লুকমান ব্যাপারীর ছেলে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাকনাই কদমতলা মোড় এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর জব্দসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের নামে লুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘কেউ আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।’

বগুড়া

কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না ১০ শিক্ষার্থীর

বগুড়া প্রতিনিধি
কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণায় এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না ১০ শিক্ষার্থীর
সংগৃহীত ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে ফরম পূরণ করলেও তারা প্রবেশপত্র পাননি। ফরম পূরণের নামে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। গতকাল বুধবার থেকে ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। 

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা 

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিন বিভাগে মোট ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪-৫ হাজার টাকা করে নেন।

গত ২৪ জুন কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি। সে সময় শাওন শিক্ষার্থীদের জানান, দেরিতে ফরম পূরণ করায় তাদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড আসতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর ২৮ জুন কলেজের বিদায় অনুষ্ঠান চলে গেলেও তারা প্রবেশপত্র পাননি। ৩০ জুন ও ১ জুলাই দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন শাওন। একপর্যায়ে ১ জুলাই (বুধবার) রাত ৯টার পর থেকে মুঠোফোন বন্ধ করে নিখোঁজ তিনি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত কলেজে অপেক্ষা করে প্রবেশপত্র না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরীক্ষা না দিতে পেরে বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, ‘শাওন আমাদের বলেছিল সে কলেজের স্টাফ, স্যারদের বলে সব ব্যবস্থা করে দেবে। এই বিশ্বাসে আমরা তাকে টাকা দিই। কিন্তু সে শুধু আজকে-কালকে বলে ঘুরাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে কলেজে এসে যখন প্রিন্সিপাল স্যারকে জানাই, স্যার বলেন, এখন আর কিছু করার নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া স্টাফ যদি এই প্রতারণা করে, তবে এর দায় কি কলেজ এড়াতে পারে? আমাদের একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল, আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হাসর বলেন, ‘ফরম পূরণের সময় পার হয়ে যাওয়ায় আমি চিন্তিত ছিলাম। তখন শাওন নিজ থেকেই স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং ৪ হাজার টাকা নেয়। পরে কার্ড চাইলে একটু সময় লাগবে বলে জানায়। এমনকি সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আছে—এমন ভিডিও পাঠিয়েও আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে তার ফোন বন্ধ। আমার মতো কোনো শিক্ষার্থী যেন আর এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি বুধবার বিকেলে জানতে পেরেছি। দুজন শিক্ষার্থী এসে আমাকে জানালে আমি তাদের বলি যে আমাদের কলেজের সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। ফরম পূরণের জন্য আলাদা কমিটি আছে, হাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। শাওন এখানে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করত। ঘটনার পর তাকে ফোন দেওয়া হলেও সে রিসিভ করেনি, এখন ফোন বন্ধ।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দুই দিন আগেও বিষয়টি আমাদের জানাত, তাহলেও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা যেত। একেবারে শেষ মুহূর্তে জানানোয় অফিশিয়ালি আর কিছু করার ছিল না। মহাস্থান কলেজ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, এখানে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’