• ই-পেপার

দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কুমিল্লায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত

খুলনা

এতিমখানার খাবার শর্করানির্ভর, পুষ্টিহীনতায় ৭৬ শতাংশ শিশু

কৌশিক দে, খুলনা
এতিমখানার খাবার শর্করানির্ভর, পুষ্টিহীনতায় ৭৬ শতাংশ শিশু
ছবি : সংগৃহীত

হাফিজুর ইসলাম মহানগরী খুলনার একটি বেসরকারি এতিমখানার শিক্ষার্থী। ১২ বছর বয়সী শিশুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে হারায়। পরে তার আশ্রয় হয় এমিতখানায়। তার ভাষ্য, ‘বাসার কথা মনে হলে কষ্ট লাগে। অনেক সময় ইচ্ছে না হলেও কষ্ট করে এতিমখানার খাবার খেতে হয়। এখানে নেই খেলাধুলার ব্যবস্থা।’

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযাযী, খুলনার সরকারি-বেসরকারি এতিমখানার শিশুদের জন্য মিলছে না সুষম খাবার। এতিমখানার প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে। পুষ্টির এই চরম অসামঞ্জস্যতার কারণে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। 

এদিকে সুষম খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাও। তাদের শর্করাগ্রহণের হার ২৪ শতাংশ। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন ও খুলনা সিটি করপোরেশন উইমেন্স কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিহা মাহাজাবিন।

গবেষকরা বলছেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য শুধু শর্করা নয়, খাবার তালিকায় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদেরও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বন্ধ করতে হবে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এতিমখানার প্রায় ৮৯.৬ শতাংশ শিশুই প্রধানত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত গ্রহণ করে। আমিষ পাওয়ার হার ৮ শতাংশ। অপরদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারে ৬০ শতাংশ শিশু পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলেও শর্করা গ্রহণ করছে ২৪ শতাংশ। ফলে এতিমখানার শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতিমখানার ২২.৪ শতাংশ শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতায় এবং ৫৩.৬ শতাংশ শিশু মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতার শিকার। তাদের হাঁড়ের গঠন বা বুদ্ধি বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা আমিষ জোটে মাত্র ৮ শতাংশের ভাগ্যে। সব মিলিয়ে পুষ্টিহীনতার শিকার ৭৬ শতাংশ এতিমখানার শিশু। এছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৩.৬ শতাংশ শিশু তীব্র ও ৩২ শতাংশ শিশু মাঝারি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এসব পরিবারের ৫২.৮ শতাংশ শিশু স্বাভাবিক পুষ্টির অধিকারী হলেও ১.৬ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় আক্রান্ত।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এতিম শিশুদের জন্য খুলনায় চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হলো সরকারি শিশু পরিবার বালক, সরকারি শিশু পরিবার বালিকা, সরকারি ছোটমনি নিবাস এবং সমন্বিত শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে মোট ৫০০টি। এসব শিশুদের প্রত্যেকের  জন্য প্রতিমাসে বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা, যার মধ্যে শিক্ষা খাতে এক হাজার টাকা। বাকি টাকা তিন বেলা খাবারের জন্য ব্যয় হয়। 

এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৭০টির বেশি বেসরকারি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে।

গবেষণার জন্য ১২৫ জন এতিম, ১২৫ জন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুলগামী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সাক্ষাৎকার, শারীরিক পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, এতিমখানায় আসা শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি (৫০.৪ শতাংশ) মাত্র তিন থেকে ছয় বছর বয়সেই সেখানে আশ্রয় নেয়। তাদের ৩১ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ৭ থেকে ১০ জন, ২৪ শতাংশের বেশি এক কক্ষে ১৫ জন গাদগাদি করে বসবাস করে। 

এতিমখানার ৪০ শতাংশ শিশুই অসুস্থতার সময় ভালো চিকিৎসা সুবিধা পায় না, ৭৯ শতাংশ শিশু অসুস্থ অবস্থায় কোনো বিশেষ খাবার বা বাড়তি যত্ন পায় না। এছাড়া তারা খেলাধুলা বা বিনোদন বঞ্চিত এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।

গবেষণায় মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পরিবারের শিশুরা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে বেকারি পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এসব শিশু।

গবেষকদলের প্রধান তোহরা সাফা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে শুধু শর্করা নয়, খাবার তালিকায় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে তাদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এতিমখানাগুলোতে পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদেরও ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বন্ধ করতে হবে।

খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর খাবারের জন্য চার হাজার টাকাসহ মাসে মোট বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে সাধ্য অনুাযায়ী তাদের পুষ্টি চাহিদা  মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছি। বাড়লে শিশুদের পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার আটপাড়ায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহ্ নূর রহমানের বিরুদ্ধে। কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ রাস্তাটির নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ৫ সদস্য কমিটির বিপরীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিধান অনুযায়ী কাজের পূর্বের ৫০ শতাংশ টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। কিন্তু ওই বরাদ্দে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রকল্প সভাপতি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১০-১৫ হাজার ঘনফুট পরিমাণ সাদা ভিটি বালু ইতোমধ্যে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার তীব্র বাঁকের কারণে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। 

স্থানীয়দের মতে, সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। তবে উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় বৈধ কোনো বালুমহাল না থাকলেও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু উপজেলার ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। কম খরচে বালু সংগ্রহের জন্য ওই এলাকার নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রাস্তা নির্মাণ হলেও অন্যদিকে নদীর তীর ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে ১৯ টাকা খরচ হবে। কিন্তু প্রশাসন ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু নিতে চায়। পরে তাদের জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে সরবরাহ করছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের রাস্তার কাজের দোহাই দিয়ে রাতের বেলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দুই থেকে তিনটি নৌকায় বালু উত্তোলন করছেন সেলিম মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখে নিজ তত্ত্বাবধানে এই কাজটি করছেন। শুধু এই কাজ নয় উপজেলার একাধিক কাজ কাগজে কলমে কমিটি ঠিক রেখে নিজ ঠিকাধারীতে কাজ সম্পাদন করেন ইউএনও।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, আমাকে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও এই বাজেটে কাজ করা সম্ভব নয় বলে অনাগ্রহ প্রকাশ করি। আমি কাগজে কলমে সভাপতি থাকলেও তারা (প্রশাসন) নিজ উদ্যোগে কাজটি করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ৫০ শতাংশ টাকা ছাড় করা হয়েছে। কাজ সমাপ্ত হলে পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হবে।  

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নূর রহমানের কার্যালয়ে একাধিকবার গেলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলে মো. সিফাত ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক গোলাম কবির এ রায় দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গাংনী উপজেলার নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মনির উদ্দীন রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নিহতের ছেলে সিফাত ফকিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এস এম বুলবুল আহাম্মেদ। পরে সিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

 

২০১৯ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সিফাত ফকিরকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি মো. নজরুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন এ কে এম শফিকুল আলম।

দেবীদ্বারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চার হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক অশোক বিক্রম চাকমা এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৩০৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজের এন-৫৩ জাতের বীজ, হাইব্রিড মরিচ বীজ, রোপা আমন ধানের (উফশী) বীজ, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির (উফশী ও হাইব্রিড) বীজ, পেঁয়াজের এয়ার ফ্লো মেশিন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও কলম, লেবুর চারা এবং ১০ মেট্রিক টন রাসায়নিক ও জৈব সার বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। এ সময় অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় কৃষকদের আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, বিনা মূল্যে পাওয়া বীজ, সার ও চারা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন ও লাভ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।