• ই-পেপার

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে তরুণীকে বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে তরুণীকে বিয়ে
চীনা নাগরিক লি বিং ও বাংলাদেশের তরুণী তন্দ্রা খাতুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা ও হাজারো মাইলের দূরত্ব পেরিয়ে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে যশোরের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক লি বিং। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন নবদম্পতি।

তরুণী তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে। তিনি যশোর সদর উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চীনা জামাইকে একনজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় করছে আশপাশের এলাকার কৌতূহলী মানুষ।

তন্দ্রা খাতুন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যালোটক-এর মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে উইচ্যাট-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আট মাসের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘লি বিং গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আগে সে কোনো ধর্ম অনুসরণ করত না। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতেই রয়েছে। ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আমি তার সঙ্গে চীনে চলে যাব।’

লি বিং জানান, তিনি চীনের বেইজিং শহরের বাসিন্দা এবং একটি স্মার্ট লক (তালা) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

বাংলাদেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার বউ ভালো, খুব ভালো। বাংলাদেশের বাতাস খুব ভালো, আমার বউয়ের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনও খুব ভালো এবং দয়ালু। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি তোমাদের দেশটাকে খুব পছন্দ করছি। বিয়ের পর অনুভূতি খুব ভালো।’

তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েকে বিয়ে করার জন্য সে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে দিয়েছি।’

প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো বিদেশি, বিশেষ করে চীনের কোনো ছেলে এসে বিয়ে করেছে—এমন ঘটনা দেখিনি বা শুনিনি। তাই বিষয়টি নিয়ে মানুষের বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে চীনা জামাইকে দেখতে আসছেন।’

বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর বাগমারায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্প (দ্বিতীয় ফেজ)-এর আওতায় উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে দেখা গেছে, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন না করেই ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অন্তত ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে।

দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি নথি সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রকল্পের আওতায় ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা দাখিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে পায়, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ উপকারভোগীর বাড়িতে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এ প্রকল্পের কোনো সুবিধাই পাননি।

তদন্ত শেষে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন সই করা এক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা দাখিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রস্তুত করেন। তাদের মাধ্যমেই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুর থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুর থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর নাছির উদ্দিন প্রধান ওরফে আলমাছ প্রধানীয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার কাশিমপুর পূরণ গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির পাশের একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাছির উদ্দিন প্রধান নারায়ণপুর ইউনিয়নের পূরণ গ্রামের ওসমান আলী প্রধানীয়ার ছেলে। তিনি বিএ পাস ছিলেন। কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৯ জুন ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন রাতে তাঁর পরিবার মতলব দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

নিহতের ভাতিজা মামুন প্রধানীয়া জানান, দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান মেলেনি। সোমবার বিকেলে বিল্লাল হোসেন প্রধানীয়ার ছেলে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে একটি লুঙ্গি দেখতে পান। পরে সেখানে নাছির উদ্দিনের গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

কাশিমপুর পূরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র বলেন, নাছির উদ্দিন প্রধান বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির একাধিকবার সদস্য ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। মঙ্গলবার আছরের নামাজের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা
মঙ্গলবার বিকেলে ফুলবাড়িয়া পৌরসভা অডিটরিয়ামে বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক শেখ তাকী তাজওয়ার।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ১৩১ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার বিকালে ফুলবাড়িয়া পৌরসভা অডিটরিয়ামে বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে এ বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক শেখ তাকী তাজওয়ার। 

বাজেটে রাজস্ব বাজেট ধরা হয়েছে ৭ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ২৪৭ টাকা, উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৪ টাকা। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, পৌর ইঞ্জিনিয়ার প্রদীপ কুমার দেবনাথ, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার, পৌরসভার কার্য সহকারী খাইরুল ইসলাম, পৌর হিসাবরক্ষণ আরিফুর রহমান।

এ ছাড়া বাজেট ঘোষণার সময় জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।