নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসৌজন্যমূলক আচরণ, মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. জিসানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জিসানুর রহমান বলেন, গত রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মাছের প্রদর্শনী প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে তিনি নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের সঙ্গে প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তিনি দাবি করেন, চারটি ইউনিয়নে মাছের প্রদর্শনী প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। পরে একটি প্রকল্প দেওয়া হলেও বাকি তিনটি না পাওয়ায় তিনি সেই তিনটির টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন।
জিসানুর রহমান আরো অভিযোগ করেন, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তাদের কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়েছে—এমন সন্দেহে আবু রায়হান তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মেঝেতে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। পরে অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে মারধর করেন। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।
তিনি বলেন, ‘মাছের প্রদর্শনী প্রকল্পে কারা সুবিধাভোগী হবেন, তা নির্ধারণের জন্য আলাদা যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে। আমি এককভাবে কাউকে এ প্রকল্প দিতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার নামে মামলা করায় আমাকে বিপদে ফেলতেই তিনি এসব অভিযোগ করছেন।’





