মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে ৬ নারী ও ১ শিশুকে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৪টার দিকে আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তাদেরকে ঠেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন ভোরে দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে এক শিশুসহ ৭ নারী বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তারা জানান, ভারতের একটি কারাগারে তারা প্রায় ২৫ দিন আটক ছিলেন। আজ ভোরে চোখ বেঁধে তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ।
জহির আহমেদ নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আমি নিজে তাদেরকে আটক করে আমাদের মেম্বার ও কমলগঞ্জ থানায় জানাই। কিন্তু থানা থেকে আমাকে বলা হয়, তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিতে। পরে মেম্বার এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে দেই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোরে ব্রাজিলের খেলা ছিল। সবাই দোকানে বসে খেলা দেখছিলেন। এসময় আনসার সদস্যও ছিলেন। তখন হঠাৎ স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে তারা আমাকে জানালে আমি সেখানে দ্রুত পৌঁছাই। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তবে একেকজন একেক রকম বলে, কারো বাড়ি, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার- এভাবে তাদের ঠিকানা জানায়। পরে আমি তাদের রেখে চা খাইতে আসলে স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয়। তারা একটি অটোরিকশাযোগে চলে আসে।’
প্রতিবেদক ইউপি সদস্যকে প্রশ্ন করেন টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো দোকানে চা খাইতে আসছি, যারা ছিল তাদের পাশে তারা হয়তো টাকা-পয়সা খেয়ে ছেড়ে দিতে পারে।’
আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু জানান, বিষয়টি তিনি জানার আগেই স্থানীয়রা তাদেরকে ছেড়ে দেয়। পুশইনের শিকার নারীরা সবাই বাংলাদেশি এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভারে বলে জানা গেছে।
কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে দুই-আড়াই বছরের এক শিশুসহ ৭ নারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে সংবাদ পাই। তবে পুলিশ খোঁজ নেওয়ার আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আটকের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানানো হলে হয়তো আমরা তাদের আটক করতে পারতাম’।
এদিকে, এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদের মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোন ধরেননি।




