• ই-পেপার

৪৩তম বিসিএসের নন ক্যাডারের ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

চেক ডিজঅনার মামলায় আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে এসে আটক আরেক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চেক ডিজঅনার মামলায় আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে এসে আটক আরেক নারী

২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের এক মামলায় মুল আসামির পরিবর্তে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে আটক হয়েছেন আরেক নারী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ -৪ এর বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম প্রক্সি দিতে আসেন। শুনানির সময় আসামিকে দেখে বিচারকের সন্দেহ হলে তাকে এজালসে আটকের আদেশ দেন। এ সময় প্রক্সি দিতে আসা আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ইব্রাহীম খলিল অপু জানান, এজাহারভুক্ত মূল আসামি নাসরিন শিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগম আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। পরবর্তীতে বিচারকের কাছে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে কোর্টের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, প্রক্সি দিতে আসা ওই নারীকে কোর্টের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত মুল আসামি, প্রক্সি আসামি ও আইনজীবীসহ সবার বিরুদ্ধে আদালত থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক আসামি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ও অফিসে পরিস্কারের কাজ করেন। এই মামলায় প্রক্সি দেওয়ার জন্য মূল আসামির আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন তাকে নিয়ে আসেন। ঘটনার বিষয় বিচারকের নজরে এলে এই আইনজীবী কৌশলে পালিয়ে যান। 

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চেয়ে আসামি নাসরিন শিকদারের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই, দেখতে হবে। পরে কল দিয়ে জানাচ্ছি।

এজলাসে আটকের পর মনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পরেন। কান্নার ফাঁকে ফাঁকে তিনি বলতে থাকেন, আমি কিছু জানি না, ঢাকার জজ কোর্টের আগর বাতি গলির এক আইনজীবী আমাকে নিয়ে এসেছে। আমার কোনো অপরাধ নেই, আপরাধ তো ওই আইনজীবীর। আমাকে ছেড়ে দেন। তাকে গ্রেপ্তার করেন। আমি বিভিন্ন আইনজীবীদের চেম্বারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি; এতসব বুঝি না। যে স্যার (আইনজীবী) ডাকছে আমি এখানে এসেছি। আমি বুঝতে পারিনি, এটা অপরাধ। 

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ দোহাই, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খায়। আমি কিছু জানি না। আমার দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আসামি নাসরীনের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করেন। আসামির সঙ্গে বাদীর পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বমোট ২৯ লাখ টাকা দেন। এর পরিবর্তে গত বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে আসামি বাদীকে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক দেন। 

পরবর্তীতে বাদী তার নামে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ বলে চেকটি ডিজঅনার হয়। ওই ঘটনায় তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইনে ১৩৮ ধারায় মামলাটি করেন।

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৬ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৬ জুলাই

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় মো. হোসেন নামে এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৬ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার  বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত এ দিন নির্ধারণ করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম মঈনউদ্দীন চিশতী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই মামলায় অন্যান্য আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চার্জগঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আগামী ২৬ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল। আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।

আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা তোলার স্লোগান, গ্রেপ্তার ৫ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা তোলার স্লোগান, গ্রেপ্তার ৫ জন রিমান্ডে
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মহাখালীর বাস টার্মিনালসংলগ্ন রাস্তায় আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন স্লোগান ও নাশকতার অভিযোগে তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার মো. মনিরুজ্জামান মনিরসহ পাঁচজনকে ১ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে  ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা. তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ উপপরিদর্শক মো. সোহেল সরকার আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামি মনিরুজ্জামানের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

রিমান্ডপ্রাপ্ত বাকি ৪ জন হলেন সাদমান শাহরিয়ার খান সবুজ, মো. সাগর শেখ, মাহমুদুল হাসান নাইম, মো. নজরুল ইসলাম। এসব আসামিদের ছাত্রলীগ- যুবলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন রাস্তা ওপরে আসামি মনিরুজ্জামান মনিরসহ পাচজন এবং অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়াসহ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু চলছে লড়াই চলবে,শেখ হাসিনা লড়বে 'স্লোগান দিয়ে নাশকতা করেন। পরে তাদেরকে গতকাল ২৩ জুন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নাশকতার ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য এবং তাদের হেফাজতে থাকা অবৈধ ককটেল বোমা উদ্ধারের জন্য আসামিদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফারহানের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফারহানের বাবা
সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন ট্রাইব্যুনালের কাছে।

এর আগে গত ১০ মে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৫ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। গতকাল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল উল্লেখ করে সাক্ষ্যে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমণ্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে অবস্থান নেয়। তারা ছিল নিরস্ত্র। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয় জানিয়ে সাক্ষী বলেন, ‘তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক আমাকে ফোন করে জানান যে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি তখন মালিবাগে আমার অফিসে অবস্থান করছিলাম। একমাত্র ছেলের গুলির খবর শুনে আমি তখন প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

সাক্ষী জানান, লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বীভৎস অবস্থা দেখতে পান। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে দেখেন ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। এক পর্যায়ে ডাক্তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফারহানের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন।

সাক্ষী বলেন, ‘তাতে আমি বুঝলাম আমার ছেলে আর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যু সনদ দিয়েছিল তাতে লেখা ছিল সে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে।’

হাসপাতালের পেছনের গেট দিয়ে ফারহানের লাশ নিয়ে আল মারকাজুল লাশ দাফন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে সাক্ষ্যে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সেখানে লাশের গোসল দেওয়ার পর ফারহানের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫ প্রথম নামাজে জানাজা হয়। জানাজা শেষে লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রথমে রাজধানীর কাকরাইল মোড় ও যাত্রবাড়ী মোড়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন বলে জানান সাক্ষী।

শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া আরো বলেন, ‘তারা সম্ভবত লাশটা নিয়ে যেতে চেয়েছিল। লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছার পর সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী বাহিনী লাশ দাফন করার জন্য আমাদের মাত্র ৪০ মিনিট সময় দিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে বরপা সামাজিক কবরস্থানে কবরস্থ করি। আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।’

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।