ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেয়। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এর আগেও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।
অন্যদিকে এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি পক্ষ তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাস্টারবাড়ি এলাকায় গোলযোগের কোনো ঘটনার বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। তবে এ ঘটনায় কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।




