ঈশ্বরদীতে দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মহিলাসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ মে গড়গড়ি গ্রামের কদম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ভোলা তার ৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে একই এলাকার মুদি দোকান ব্যবসায়ী রাহাত আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় রাহাত আলী প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাহাত আলী প্রামাণিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোমবার দুপুরে তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন আনোয়ার হোসেন ভোলার বাড়িতে দোকানের প্রায় ৫ হাজার টাকা বকেয়া চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন ভোলা, তার মা রুনি বেগম ও ভাবী রিমি খাতুন মিলে কল্পনা খাতুনকে মারধর করেন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফারুক হোসেন, আব্দুল মমিন, তরিকুল ইসলাম তুষারসহ অন্তত ৭ জন আহত হন। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ নিজেদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’ করেছে। তাদের দাবি, এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ভোলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করছে।






