নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ মার্চ সাহাপুর ইউনিয়নের তফদার বাড়ির মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সঙ্গে একই ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ বেপারী বাড়ির মৃত কবির হোসেনের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিফার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরব থেকে তার স্বামী ফয়সাল পরিবারের সদস্যদের রিফাকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে মেয়ের সঙ্গে কথা বললে তাকে আতঙ্কিত মনে হয়। কিছুসময় পর সেখানে গিয়ে তারা রিফার মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের দেবর আকাশ জানান, সৌদি প্রবাসী ভাইয়ের ফোন পেয়ে তিনি রিফার কক্ষের সামনে যান। সেখানে গিয়ে ঘরের দুটি দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে নামিয়ে উদ্ধার করা হয়।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




