• ই-পেপার

নাটোরে বিপুল ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ, বিক্রেতাকে জরিমানা

সোনারগাঁ

পানাম সেতু সংস্কারে মানা হচ্ছে না স্থাপত্যরীতি

স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অভিযোগ  তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ দাবি

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
পানাম সেতু সংস্কারে মানা হচ্ছে না স্থাপত্যরীতি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি পানাম সেতুর সংস্কারকাজ চলছে। রবিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম নিদর্শন পানাম সেতু। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের দাবির মুখে সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তবে সংস্কার কাজে স্থাপত্যরীতি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে  চুন-সুরকির পেস্ট তৈরি করে সংস্কারকাজ করছেন কারিগররা। কিন্তু  পুরনো ইটের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বর্তমান সময়ের মানহীন ইট। অথচ পানাম সেতুতে ব্যবহার করা হয় মোগল আমলের লাখোরি ইট বা বাদশাহি ইট। সাধারণ ইটের চেয়ে পাতলা লাল রঙের এই ইট আগুনে পুড়িয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হতো। মানহীন ইট ব্যবহারে সেতুর ওজন যাওয়ায় তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সানজিদা আক্তার বলেন, মুঘলরা শাসনকাজ পরিচালনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সোনারগাঁয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। তখন যে কয়েকটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা হয়,  পানাম সেতু তার মধ্যে অন্যতম। তিন খিলান বিশিষ্ট সেতুটি দৈর্ঘ্যে ১৭৩ ফুট এবং প্রস্থে ১৪ ফুট। এতে খাঁড়া ইটের গাথুনি বৃত্তাকারে সন্নিবেশিত। সেতুর মধ্যবর্তী খিলানটি অপর দুটি অপেক্ষা উঁচু ও প্রশস্ত। ফলে নিচ দিয়ে ছোট জলযান চলাচল করতে পারতো।

​সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস কালের কণ্ঠকে বলেন, মুঘল আমলের এ স্থাপত্যকীর্তির সংস্কার কাজে বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে, সেতুর পিলারের নিচে কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না, যা সেতুটির স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক নীতি মেনে যে প্রক্রিয়ায় সেতুটি সংস্কার করার কথা ছিল, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সোনারগাঁ শাখার কাস্টরিয়ান তানজিলুর রহমান বলেন, মোঘল আমলের তিন খিলান বিশিষ্ট সেতুর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। ইতিহাসের অংশ হিসেবে সেতুটি সংরক্ষণ করতে এটি সংস্কার করা হচ্ছে।

বাংলাটদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক আফরোজা খান মিতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক রীতি মেনেই সংস্কার কাজ হচ্ছে। এর পরও কোনো ত্রুটি থাকলে জানাবেনম সংশোধন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ 

শিবির নেতার ধর্ষণ ও গুমের নাটকের বিরুদ্ধে রাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

রাবি প্রতিনিধি
শিবির নেতার ধর্ষণ ও গুমের নাটকের বিরুদ্ধে রাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা ও ‘গুমের নাটক’ সাজানোর অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি ফলক চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গুম ও অপহরণের ‘নাটক’ সাজিয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা করা হচ্ছে এবং অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুপ্ত নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা শিবিরের বিরুদ্ধে , 'বাহ শফিক চমৎকার ধর্ষকের পাহারাদার', 'ধর্ষকের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না', 'তুই ধর্ষক তুই ধর্ষক জামাত-শিবির ধর্ষকসহ' বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম।

সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বলেন, ‘১৯৭১ সালে রাজাকার বাহিনী যারা বাংলাদেশের লাল-সবুজের ভূখণ্ডকে বিশ্বাস করে না এবং দেশের উন্নয়নকে মেনে নিতে পারে না, সেই ধর্ষক রাজাকারেরা ২০২৬ সালে গুপ্ত বাহিনী হয়ে ইসলামের মুখোশ পরে আবারও আত্মপ্রকাশ করেছে এবং ঘরে ঘরে ধর্ষণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।’

সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দোসরদের বিরুদ্ধে যে কঠোর আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে যারা পরিচয়হীন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ করছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ছাত্রদল সর্বদা তৎপর থাকবে।’

উল্লেখ্য, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা হয়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের দাবি, জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি। নিজের আসল নাম-পরিচয় গোপন করে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের পর আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে। 

জীবননগর সীমান্তে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
জীবননগর সীমান্তে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীন জীবননগর সীমান্তের গোয়ালপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানের পাশের কাঁচা রাস্তা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে ভারতে যাওয়ার পথে সিকান্দার আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭৯৩ দশমিক ৬৯ গ্রাম ওজনের চারটি সম্পূর্ণ স্বর্ণের বার এবং চারটি টুকরো স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

এ ছাড়া চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা মালামালসহ জীবননগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাতক্ষীরা

খোলপেটুয়া নদীতে বিজিবির অভিযানে দুটি কার্গো জব্দ, আটক ৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
খোলপেটুয়া নদীতে বিজিবির অভিযানে দুটি কার্গো জব্দ, আটক ৫
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঝাঁপার চর এলাকা থেকে দুটি বালুভর্তি কার্গো জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব, পিএসসির নেতৃত্বে খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপার চর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. ইব্রাহিম গাজী, মো. নাঈম ইসলাম, মো. আজারুল ইসলাম, মো. সজিব শেখ এবং মো. জামিরুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ সংকটাপন্ন এই এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। জব্দ হওয়া একটি কার্গোর মালিক জামিরুল ইসলাম বলে জানা গেছে।

অভিযানের বিষয়ে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহারিয়ার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুটি বালুভর্তি কার্গো জব্দ এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।