• ই-পেপার

সোনারগাঁ

পানাম সেতু সংস্কারে মানা হচ্ছে না প্রত্নতাত্ত্বিক রীতি

  • স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অভিযোগ 
  • তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ দাবি

হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির
রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। পাশে বসে তার আছেন স্ত্রী হাসনা বানু। ছবি : কালের কণ্ঠ।

রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। জীবনের প্রায় ৫০ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন, দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন। অথচ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. নকির ও তার স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের একমাত্র ভরসা তার স্ত্রী।

হাসনা বানু জানান, দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করেন। স্বল্প আয়ের কারণে তারা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় ৬ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। একটি হুইলচেয়ারের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি, অনেককে বলেছি, কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। মনে হয় আমাদের কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।’

হাসনা বানু আরো জানান, মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই অর্থের বেশির ভাগই স্বামীর ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়ে যায়। বাকি টাকায় কোনোমতে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘নকির চাচা ও হাসনা চাচি দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। হাসনা চাচি এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। আমাদের সামর্থ্যও সীমিত। না হলে আমি নিজেই একটি সেকেন্ড হ্যান্ড হুইলচেয়ার কিনে দিতাম।’

তিনি সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মাঝেমধ্যে আমরা প্রতিবেশীরা যে যেমন পারি, কাঁচা বা রান্না করা খাবার দিয়ে সাহায্য করি। কিন্তু তাদের প্রয়োজন আরো বড় ধরনের সহায়তা।’

স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে পাবে।

দীর্ঘ ৬ বছর ধরে একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায় থাকা এই বৃদ্ধ রিকশাচালকের জীবনসংগ্রাম সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিই যেন নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে।

টেকনাফে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকনাফে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার (১৩ জুন) রাতে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া এলাকায় নাফ নদসংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

রবিবার (১৪ জুন) কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, নাফ নদ ও বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর আসে, জাদিমুড়া এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও গোলাবারুদ মাটির নিচে মজুত করে রেখেছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২টি হ্যান্ড গ্রেনেড (৩৬ এমএমকে-আই), ৮টি এইচইডিপি গ্রেনেড (৪০ মিলিমিটার), ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি (৭.৬২ মিলিমিটার) এবং ২ কেটি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোনো অসাধু বা সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পড়লে সাধারণ মানুষের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। সময়োপযোগী এই অভিযানের ফলে একটি বড় ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

চরফ্যাশনে অবৈধ ট্রলিং বোট ও ৮০০ কেজি মাছসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
চরফ্যাশনে অবৈধ ট্রলিং বোট ও ৮০০ কেজি মাছসহ আটক ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার চরফ্যাশনে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, ৭ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল ও ৮০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে তিন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চরফ্যাশন থানার সুলতান ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চরমানিকার সদস্যরা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একটি সন্দেহভাজন অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট আটক করা হয়। পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি অবৈধ ট্রলিং জাল এবং ৮০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বোটে থাকা তিন জেলেকে আটক করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এই নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতেও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জব্দকৃত ট্রলিং বোট, জাল, মাছ এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চ্যাম্পিয়ন বালিকা ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চ্যাম্পিয়ন বালিকা ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আন্তঃস্কুল বালিকা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জনকারী আখাউড়ার হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিয়েছে ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশন।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।

এ সময় কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ‘নতুন কুঁড়ি’ এখন তাদের জন্য একটি বাতিঘরে পরিণত হয়েছে। নতুন কুঁড়ির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গৌরবময় উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রীরা জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে বিদ্যালয় ও এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।

তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে এবং সুস্থ-সবল জাতি গঠনে অপরিসীম অবদান রাখে। গ্রামের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং খেলাধুলায়ও পারদর্শী। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জয়নাল আবেদীন আব্দু, সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আখতার খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ খান, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. জিল্লুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. মহসিন ভূঁইয়া, নবীনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার এবং ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ আনন্দ।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে জেলার চ্যাম্পিয়ন বালিকা ক্রিকেট দল ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন অতিথিরা।