নরসিংদীর রায়পুরায় সালিশের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার করে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরাঞ্চলের পাড়াতলী ইউনিয়নের সোনাবালুয়া এলাকায়।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২৯ মে কদম ফুল পাড়া নিয়ে সোনাবালুয়া গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে সজল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথার বাম পাশে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১২ জুন সজল মারা যান। শনিবার রাতে তার মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সজলের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত মোক্তার ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে। একই সঙ্গে থানায় মামলা না করার জন্য বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মরদেহ দাফনের আগেই সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মিলে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা প্রদানের শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ঘটনায় মামলা না করার পরামর্শ দেন।
নিহত সজলের বড় বোন জেসমিন বলেন, আমার ভাইকে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে মোক্তার হোসেন। মেম্বার ও এলাকার লোকজন ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছে। তবে এখনো আমরা কোনো টাকা হাতে পাইনি।
তিনি বলেন, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কি আমার ভাইকে ফিরে পাব? আমার ভাই বেঁচে থাকলে এর চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারত। তার জীবন তো সবে শুরু হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন ও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়া। তিনি বলেন, আমি ও এলাকার কয়েকজন মিলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। তবে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো আইনি বৈধতা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। হত্যার ঘটনা আপোষ যোগ্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




