• ই-পেপার

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেড উদ্ধার

বগুড়ায় বিএনপির এমপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ায় বিএনপির এমপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
ছাত্রলীগ নেতা সাকিব শাহরিয়ার খান বিজয়। সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থীর গাড়িবহরে ককটেল হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় সাকিব শাহরিয়ার খান বিজয় (৩০) নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার বিজয় ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী গ্রামের বাসিন্দা এবং পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম আজাদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার রাতে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগে বের হলে ধুনট শহরের কলাপট্টী এলাকায় তার গাড়িবহরে ককটেল হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

‘ব্রাজিলের ড্র আমাদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে’

কুবি প্রতিনিধি
‘ব্রাজিলের ড্র আমাদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে’
ছবি : কালের কণ্ঠ

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ করতে আনন্দ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টেনে আর্জেন্টিনার সমর্থক সাইফ মাশরাফি বলেন, ‘মরক্কোর সঙ্গে ব্রাজিলের ড্র হওয়ায় আমাদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দিন দিন তলানির দিকেই যাবে। আর এটাই আমরা আজকে বেশি করে উদযাপন করব।’

আর্জেন্টিনার আরেক সমর্থক মোহাম্মদ নাঈম খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করি। দলের প্রথম ম্যাচের জয়-পরাজয় দিয়ে আমাদের ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ান হয়েছি। এবারও লিওনেল মেসির ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে এবং আমরাই ট্রফি জিতব।’

আর্জেন্টিনার সমর্থক শাহাদাত তানভীর রাফি বলেন, ‘২০২২ সালেও ব্রাজিল হেক্সা মিশনের স্বপ্ন দেখেছিল, এবারও দেখছে, যা ২০৩০ সালেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে।’ 

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

দুই দেশের মাঝখানে এক মায়ের কান্না

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
দুই দেশের মাঝখানে এক মায়ের কান্না
ছবি : কালের কণ্ঠ

বারবার কেঁদে উঠছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন। হয়তো সে জানে না সীমান্ত কী, জানে না রাষ্ট্রের সংজ্ঞা। সে শুধু জানে ক্ষুধা, রোদ আর মায়ের বুকের উষ্ণতা। কিন্তু সেই মা সুমি খাতুনও যেন অসহায়। কোলে শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, আর নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছেন।

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত। মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই শূন্যরেখাতেই আটকে আছে একটি পরিবারসহ মোট ৯ জন মানুষ। রবিবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।

অনিশ্চয়তার ভার যেন সবচেয়ে বেশি এসে পড়েছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা আর চার বছরের ফাতেমা খাতুনের ওপর। ছোট বোনের কান্না থামছে না। বড় বোন ফাতেমাও ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বারবার কাঁদছে। দুই মেয়ের এমন অসহায় অবস্থা দেখে মা সুমি খাতুনের বুক ফেটে যাচ্ছে। কখনো ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরছেন, কখনো বড় মেয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন। কিন্তু একজন মা হয়েও যেন কিছুই করতে পারছেন না।

পাশেই দাঁড়িয়ে বাবা বিল্লাল। তার মুখে কোনো ভাষা নেই। শুধু অসহায় দৃষ্টি নিয়ে কখনো সন্তানদের দিকে, কখনো সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে থাকছেন। হয়তো একজন বাবার সবচেয়ে বড় কষ্ট এটাই—সন্তানের কান্না শুনেও কিছু করতে না পারা।

মাথার ওপর তপ্ত সূর্য। কোথাও কোনো ছাউনি নেই। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি বানানোর চেষ্টা করছেন। লুঙ্গির সেই সামান্য ছায়াতেই একটু স্বস্তি খুঁজছে শিশুরা।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে ছুটে আসেন। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে তারাও অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো সমাধান আসেনি।

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ। দুই বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থানে। মাঝখানে ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে ৯টি জীবন।

সীমান্তে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল। কারণ রাষ্ট্রের সীমারেখা মানুষ টানে, কিন্তু শিশুর কান্নার কোনো সীমান্ত নেই। পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা জানে না সে কোন দেশের নাগরিক। চার বছরের ফাতেমাও জানে না কেন তাকে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। তারা শুধু জানে, তাদের ক্ষুধা লেগেছে, তাদের রোদ লাগছে, তারা মায়ের কোলে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়।

জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতীয় বৃদ্ধকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতীয় বৃদ্ধকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ভারতীয় এক বৃদ্ধ নাগরিককে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হাটখোলা বিওপির আওতাধীন ২৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২১ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন এলাকা এবং ভারতের মথুরাপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাইমুল ইসলাম জানান, দুপুরে এক বৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানান। তবে তিনি নিজের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।

পরে গ্রামবাসী ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের ২৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২১ নম্বর সাব-পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতের দিকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে অবস্থান নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএসএফ সদস্যদেরও ওই বৃদ্ধকে নিয়ে সীমান্তের ভারতীয় অংশে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় উভয় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত হাটখোলা বিওপির নায়েক সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় হাটখোলা বিওপির ক্যাম্প কমান্ডারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।