লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার মধ্যেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান খান নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ২৮ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিলের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতির সই করা ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত আব্দুর রাকিব মুরাদকে শাখা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে সাংবিধানিক শপথ পাঠ করান সিবগাতুল্লাহ সিবগা। পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে ইমরান খানকে সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেন নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ।
এদিকে জুলাই আন্দোলনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের (ছাত্রশিবির, ছাত্রদল) সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের একাংশ।
সাবেক সমন্বয়ক আশিকুর রহমান আশিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ প্রশাসনের নেই। কারণ, আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, তার কার্যকর ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই আইন দৃশ্যমানভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
আশিক বলেন, প্রশাসন যদি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা কঠোর ও সমানভাবে বাস্তবায়ন করত, তাহলে এভাবে আইন অমান্যের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়াই কাম্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও কমিটি ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রশিবির একটি গতিশীল ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন। সাধারণত বছরের শুরুতেই সকল ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়েও সেটআপ হতে পারে। বেরোবিতে সিন্ডিকেট কর্তৃক লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছাত্রশিবির লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করে না, বরং শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে।
মুরাদ আরো বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠন এবং সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য বেরোবি শাখার সাংগঠনিক সেটআপ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, আজ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে ছাত্রউপদেষ্টা, সহকারী প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বেরোবি ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।





