• ই-পেপার

ঢাবি’র রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল মালির

ডিজিটাল নকলকে প্রতিহত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ডিজিটাল নকলকে প্রতিহত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘নকল’ শব্দটির কবর দিয়ে এসেছি অনেক আগেই। এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। কিন্তু এখন নকল হচ্ছে ডিজিটালি। সেটাকে সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্নাতক চালুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু উচ্চ শিক্ষা আর উচ্চ শিক্ষা, সবাই খালি অনার্স খুলতে চায়। এর কি দরকার?’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে খাতা দেখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব বোর্ডের খাতা আমরা রেন্ডমলি চেক করে দেখবো, কেউ কম বা বেশি নাম্বার দিয়ে দিলো কিনা।’

শিক্ষক নিয়োগ

নিয়োগ বাণিজ্যের কলঙ্ক মুছতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আশ্বাস ইবি উপাচার্যের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
নিয়োগ বাণিজ্যের কলঙ্ক মুছতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আশ্বাস ইবি উপাচার্যের
সংগৃহীত ছবি

বিগত আওয়ামী আমলে ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগে টাকা লেনদেনের অডিও ফাঁস, ভাঙচুর, আন্দোলন, সংঘর্ষ, হট্টগোল ও উপাচার্য পদত্যাগসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য শিরোনাম হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যায়ের বিএনপিপন্থী প্রাশসন নতুন শিক্ষক নিয়োগের দিকে আগাচ্ছে। বিগত সময়ের নিয়োগ বাণিজ্যের কলঙ্ক মুছতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এদিকে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন বিভাগে ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ছাড়া বিগত আওয়ামী আমলের অধিকাংশ নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ নিয়ে অসংখ্যবার বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা লেনদেনের অডিও ফাঁস, ভাঙচুর, আন্দোলন, সংঘর্ষ, হট্টগোল ও উপাচার্য পদত্যাগসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি খবরের শিরোনাম হলেও দলীয় প্রভাবের কারণে কখনোই চূড়ান্ত শাস্তির আওতায় আসেনি অভিযুক্তরা। এই শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ উপাচার্য তাদের মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।

 

জানা যায়, ২০০৪ সালে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু হয় অষ্টম উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সময়ে। তৎকালীন শিক্ষক সমিতির নেতারা তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুললে মাত্র দুই বছরের মাথায় আন্দোলনের মুখে পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নবম উপাচার্য অধ্যাপক ফয়েজ সিরাজুল হক তাঁর মেয়াদে কোনো নিয়োগই দেননি। এরপর ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রত্যেকের দায়িত্বের সময়েই নিয়োগসহ নানা বিষয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দশম উপাচার্য ড. এম আলাউদ্দিন ও একাদশতম উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় ইউজিসির দুর্নীতি তদন্ত এবং শিক্ষক সমিতির আন্দোলনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে দ্বাদশ উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশীদ আসকারী যোগদানের পর তিন দফায় নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। ১৩তম উপাচার্য ড. শেখ আবদুস সালামেরও নিয়োগ বাণিজ্য ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ১৪টি অডিও ফাঁস হয়েছিল। নিয়োগকে কেন্দ্র করে অফিস ভাঙচুর, উপাচার্যের কার্যালয়ে হট্টগোল, গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়াসহ শিক্ষকদের ওপর হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। এছাড়া তৎকালীন প্রশাসনগুলোর আমলে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী আমলের ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া মোট ১৮৪ জন শিক্ষকের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সর্বশেষ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাদের সবার নাম পাওয়া গেছে।

এদিকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পরে ১৪তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ দায়িত্বগ্রহণের পরে ১৬জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। তবে এই নিয়োগকেও ‘দলীয় নিয়োগ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ১১জনই বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের সদস্য হওয়ার আবেদন করেছেন। এই সময়ে ট্যুরিজম বিভাগের নিয়োগ ঠেকাতে বিভাগের সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। 

এছাড়াও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অসহযোগিতায় বিভাগটির শিক্ষক নিয়োগবোর্ড স্থগিত হয়। পরে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতা ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। দায়িত্বগ্রহণের পর  তিনি পূর্বের দুর্নীতি-অনিয়মের ইতিহাস ভুলে ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ (২৩ জুন) থেকে পূর্বে স্থগিত হওয়া সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের মধ্য দিয়ে নতুন নিয়োগ শুরু করতে যাচ্ছে তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এছাড়াও আগামী ২৪ ও ২৫ জুন সমাজকল্যাণ ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে জোর লবিং ও তোড়জোড় চলছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভাগগুলোতে প্রচুর শিক্ষক সংকট এবং নতুন বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ২-৩ জন। বিভাগগুলোতে একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি। অ্যাকাডেমিক ও নিয়োগ নির্বাচনী কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং অ্যাকাডেমিক দক্ষতার মধ্য দিয়ে যারা বিবেচিত হবেন তাদেরকেই চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়ে বোর্ড সুপারিশ করবে। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, নিয়োগের বিষয়ে আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

অল্প লবণাক্ত পানিতে গলদা-রুইয়ের মিশ্র চাষে সাফল্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
অল্প লবণাক্ত পানিতে গলদা-রুইয়ের মিশ্র চাষে সাফল্য
ছবি: কালের কণ্ঠ

উপকূলীয় অঞ্চলের অল্প লবণাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি ও রুই মাছের মিশ্র চাষে সাফল্য পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিনের একদল গবেষক।

ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-ট্রফিক অ্যাকোয়াকালচার (আইএমটিএ) নামের এই নতুন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মাছে বেড়েছে পুষ্টিগুণ। 

সাধারণ পুকুরে মাছ বা চিংড়িকে দেওয়া বাড়তি খাবার ও মলমূত্র পচে পানি দূষিত হয়। তবে অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মিশ্র চাষ পদ্ধতি আইএমটিএ মূলত ‘একের বর্জ্য, অন্যের খাবার’ নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে মূল মাছ ও গলদা চিংড়ির পাশাপাশি পুকুরে প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে মিঠা পানির ঝিনুক এবং ক্ষতিকর উপাদান শুষে নেওয়ার জন্য পদ্ম ও গুপি ঘাসের মতো জলজ উদ্ভিদ রাখা হয়।

গবেষকরা সাধারণ পুকুরে শুধু চিংড়ি ও মাছ চাষের বদলে আইএমটিএ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, যেখানে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ১২০ বর্গমিটারের ১২টি মাটির পুকুরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এই পদ্ধতিতে মাছ ও চিংড়ির পাশাপাশি পুকুরে জলজ উদ্ভিদ হিসেবে পদ্ম ও গুপি ঘাস এবং মিঠা পানির ঝিনুক ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে আইএমটিএ পদ্ধতিতে চাষ করা পুকুরে বেশ কিছু অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। এই পদ্ধতিতে চাষ করা পুকুরে গলদা চিংড়ি এবং 'জি-৩ রুই' মাছের বৃদ্ধি, বেঁচে থাকার হার এবং সামগ্রিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেশি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে খামারিদের লাভের পরিমাণও অনেক বেশি। যেখানে সাধারণ পদ্ধতিতে লাভের হার ছিল ৪১ শতাংশ, সেখানে আইএমটিএ পদ্ধতির সবচেয়ে সফল প্রয়োগটিতে (ট্রিটমেন্ট ৩) লাভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশ। 

এছাড়া এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ও চিংড়িতে মানবদেহের জন্য উপকারী এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ সাধারণ মাছের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে। পুকুরে পদ্ম, গুপি ঘাস ও ঝিনুক ব্যবহারের ফলে পানির গুণগত মান ভালো ছিল এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের বৈচিত্র্য বেড়েছে, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের চমৎকার উৎস।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. লিফাত রাহী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়েই চলেছে, যা মিঠা পানির মাছ চাষের জন্য একটি বড় হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে অল্প লবণাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি ও রুই মাছের এই পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক আইএমটিএ চাষ পদ্ধতি দেশের প্রান্তিক খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করবে। 

পাশাপাশি, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ও চিংড়িতে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকায় এটি ভোক্তা পর্যায়েও নিরাপদ ও পুষ্টিকর আমিষের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন ড. লিফাত। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (এফএমআরটি) ডিসিপ্লিন পরিচালিত এই গবেষণায় ১০ জন গবেষক অংশ নেন। দলের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. লিফাত রাহী। এতে আরো যুক্ত ছিলেন মো. মুসফিকুর রহমান সরকার, ওয়াসিম আকরাম, নুর ফাতেমা এবং তানভীর শাহরিয়ার সোহাগ। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশ থেকে অংশ নেন মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. ইকবাল হোসেন। ইএফজি অ্যাকোয়া ফার্মের পক্ষ থেকে যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ শওকত আলী ও মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল মামুন। 

কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কুশল সাহা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কুশল সাহা
কানাডায় পুরস্কার হাতে বাবা মায়ের সঙ্গে কুশল সাহা

বাংলাদেশি ক্ষুদে শিক্ষার্থী কুশল সাহা (৯) এ বছর কানাডার ছয়টি প্রভিন্সের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা-২০২৬, ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ক্ষুদে অদম্য মেধাবী এই কুশল সাহা কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়ার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সুভাষ সাহার দৌহিত্র (একমাত্র মেয়ে সুস্মিতা সাহার পুত্র)।

তবে গত বছর ২০২৫, ইউসিএমএএস গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করেছিল একজন চাইনিজ শিক্ষার্থী।

কানাডায় অনুষ্ঠিত শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে এই মেধা অন্বেষণ মূলক প্রতিযোগিতায় এবার কানাডায় বসবাসরত বিভিন্ন দেশের  শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কুশল সাহা গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে গোটা কানাডায় রীতিমত তাক লাগিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলো।

কুশল সাহার বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে ফাইনান্সে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) করেন। এছাড়া আমেরিকার ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএফএ এবং সিএমটি (চার্টার্ড ফাইনান্সিয়াল এনালিস্ট এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান) উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমান কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এমবিএ সম্পন্ন করে ম্যাথে পিএইচডি করছেন।

আর কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির হেল্থকেয়ারে কর্মরত আছেন।

নবীনগরের বিটঘরে জন্মগ্রহণকারী কুশল সাহার দাদু কালের কণ্ঠের সাংবাদিক সুভাষ সাহা বলেন, ‘কানাডায় ইউসিএমএএস মানে হল ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল এরিথমেটিক সিস্টেম, এটি শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ এবং মানসিক গণনার (মেন্টাল ম্যাথ) দক্ষতা বৃদ্ধির একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরীক্ষা। যেখানে ৮ মিনিটে ২০০ প্রশ্নের জবাব দিয়ে গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতে হয়। গত ৫ দিন আগে কুশল সাহা কানাডার ৬ টি প্রভিন্সে (রাজ্য) অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মিলিত গ্রুপের ইউসিএমএএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এবছর  ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সুভাষ সাহা তার দৌহিত্র কুশল সাহার জন্য সবার কাছে  আশীর্বাদ চেয়েছেন।’