• ই-পেপার

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

ঋণ নিষ্পত্তিতে বড় ছাড়, এক্সিট পলিসি জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঋণ নিষ্পত্তিতে বড় ছাড়, এক্সিট পলিসি জারি

ব্যাংক খাতে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ কমাতে এবং ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ এক্সিট পলিসি জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে পড়া কিন্তু ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন ঋণগ্রহীতারা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে তাদের দায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণগুলো এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই এক্সিট সুবিধা দেওয়া যাবে। 

নীতিমালার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদের একটি বড় অংশ মওকুফ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য পূর্বের কিছু কঠোর শর্তও শিথিল করা হয়েছে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের ছাড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া, ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে পুনঃতফসিল করা ঋণও এই সুবিধার আওতায় আসবে। বিশেষ করে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণকে এই সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে খেলাপি ঋণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ প্রেক্ষাপটে এই এক্সিট পলিসি চালু করা হয়েছে, যাতে একদিকে ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা অর্থ আদায় সম্ভব হয়, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। এর ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের সুবিধা প্রকৃত ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে নৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সার্কুলার অনুযায়ী, এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের এ বিষয়ে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণের একটি রেকর্ড এবং মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ।

আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান হবে ৪ শতাংশ : বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান হবে ৪ শতাংশ : বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকঋণের সুদহার কমিয়ে আনতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) আবারও সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এখন থেকে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে আমানত ও ঋণের গড় সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না। ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদের ব্যবধান বর্তমানে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ রয়েছে।

আজ সোমবার এসংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। ফলে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের অর্থায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উৎপাদনশীল খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। কোনো কোনো ব্যাংকে এই ব্যবধান ৭ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এর ফলে ঋণের ব্যয় বেড়ে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক ব্যাংক আমানতে তুলনামূলক কম সুদ দিলেও ঋণের ক্ষেত্রে বেশি সুদ নিচ্ছে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক কম সুদে আমানত সংগ্রহ করেও সেই অনুপাতে ঋণ বিতরণ করছে না। এসব কারণে স্প্রেডে আবার সীমা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যাংক যদি গড়ে ৮ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করে, তাহলে তারা সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। এতে ধীরে ধীরে ঋণের সুদহার কমে আসবে এবং ঋণগ্রহীতাদের ব্যয়ও কমবে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালুর অংশ হিসেবে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধানের ওপর থাকা ৪ শতাংশের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় সুদহারকে বাজারভিত্তিক করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ সীমা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বর্তমানে সেই সীমা পুনর্বহাল করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি–সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কমিটিও সম্প্রতি স্প্রেড আবার সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে সীমিত করার সুপারিশ করে। কমিটির মতে, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও অতিরিক্ত সুদ ব্যবধানের কারণে ঋণের ব্যয় বেড়েছে। স্প্রেডে সীমা আরোপ করলে ঋণের সুদহার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন সহজ হবে।

৪৫ মাস পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৫ মাস পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বেড়ে ৪৫ মাস পর গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আজ সোমবার দিন শেষে রিজার্ভ উঠেছে ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে দীর্ঘদিন পর গত বুধবার (২৪ জুন) রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছিল। 

এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। সেখান থেকে কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়নে নেমে যায়।

গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। গত বুধবার যা ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এর আগে গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল।

আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সঙ্গে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর বেড়ে উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। 

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। 

জুনের ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৫৯ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুনের ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৫৯ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।