• ই-পেপার

কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন বহাল দাবি

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। মে মাসে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার হলেও মোটের ওপর হিসাব করলে এ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি ভালো ছিল। ওই বছর রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই প্রবৃদ্ধি মূলত বেশি দামের কারণে হয়েছে, ক্রয়াদেশের পরিমাণ বাড়ার কারণে নয়। মে মাসের পুনরুদ্ধারেও সামগ্রিক ধীরগতি কাটেনি এপ্রিলের ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে রপ্তানি বেড়ে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এতে মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। জানুয়ারির ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের পর এটি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয়।

তবে এ পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও বছরের বড় অংশজুড়ে রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ছিল। জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার থেকে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নামে। পরে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তা আবার কমে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ও ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে রপ্তানির পতন বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইইউ বাজারে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চাহিদা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থবছরের বাকি সময়েও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

এপ্রিলের ৩১৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে জার্মানিতে রপ্তানি বেড়ে ৪০৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রপ্তানি এখনো জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৪৭১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে; এতে বোঝা যায়, চাহিদা এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি।

মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশই গেছে জার্মানিতে। স্পেন দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। মে মাসে দেশটিতে ৩০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা এপ্রিলের ২৮৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।

‘ব্যবসায়ীদের এখন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘ব্যবসায়ীদের এখন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজেটের একটি বিশাল অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস সরবরাহে ভর্তুকি দিতে চলে যায় উল্লেখ করে প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এখন কৌশল বদলাতে হবে। বাংলাদেশে যদি আর সস্তা গ্যাস না থাকে, তবে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করেই কিভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে।’

বনানীর হোটেল শেরাটনে সোমবার (১৫ জুন) বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এই সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘মোট বাজেটের শতকরা হিসাবে এবার কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। আমরা এখনো কৃষিতে একই ধরনের খরচ করে যাচ্ছি, যার একটা বড় অংশই চলে যায় সার ভর্তুকিতে। কিন্তু সরকারকে আমরা বারবার বলে আসছি যে, কৃষি মানেই শুধু সার বা বিদ্যুৎ ভর্তুকি নয়।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন বাজেট কি দেশে ব্যবসা করা সহজ করার কোনো উত্তর দিতে পেরেছে? উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই বলেন, ‘আংশিকভাবে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ব্যবসায়ীরা এখনো আগের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে হবে, যাতে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।’

বাংলাদেশকে একটি বড় রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, চীন থেকে যে বিনিয়োগগুলো অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বাজেটের মূল মনোযোগ সেখানেই হওয়া উচিত ছিল।

দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশ এখন ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট কি উত্তর দিয়েছে যে, কিভাবে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে দক্ষ করা যাবে? ফিলিপাইনের একজন কর্মী যে আয় করেন, আমাদের কর্মীরা কেন তার চেয়ে কম পাবেন? আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রেমিট্যান্সকে ১৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’

গতবারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার আরো বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করায় তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের মতো মানুষদের হয়তো আরো বেশি কর দিতে হবে। তবে জ্বালানি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কিভাবে জিডিপির আকার বড় করা যায়, বাজেটে সেই উত্তর থাকা প্রয়োজন ছিল।’

বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক দিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই সরকার আগের তুলনায় মানুষের কথা বেশি শুনছে। বাজেট ঘোষণার আগে আমরা যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম, তার কিছু প্রতিফলন বাজেটে দেখা গেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া পরামর্শের গুরুত্বও এবার বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরও একজন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তা করা উচিত। আমাদের ব্যবসায়ীদের যখন বিক্রি কমে যায়, তখন আমরা খরচ কমাই, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিই। তখন আমরা আরো বেশি ঋণ নিতে ব্যাংকে যাই না, বা বিদেশ থেকেও ঋণ আনার চেষ্টা করি না।’ গত বছরের মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথায় ভুল ছিল, বাজেট সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
সংগৃহীত ছবি

সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে আরো কমানো হয়েছে সোনার দাম। রবিবার (২১ জুন) নতুন দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়ে জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৮ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

অন্যদিকে, দেশে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

খেলাপির চাপে ব্যাংক

আয়ে ধস মুনাফা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
খেলাপির চাপে ব্যাংক

দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা, খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার কারণে সুদ আদায় স্থগিত থাকায় দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল আয়ের উৎস নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ছিল ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর সুদ আয় ৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে আমানতের সুদসহ সুদ-সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকগুলোর আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, যা খাতটির মুনাফা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যাংকাররা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দুই ধারবিশিষ্ট তলোয়ারের’ সঙ্গে তুলনা করছেন। একদিকে অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে ঋণ বিতরণ ও সুদ আয় কমছে, অন্যদিকে আমানতকারীদের নির্ধারিত সুদ পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। ফলে ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান বা নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশের তহবিল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি সংকটে থাকা উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার আওতায় দুই বছর পর্যন্ত সুদ আদায় স্থগিত রাখার সুবিধাও ব্যাংকগুলোর সুদ আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে আমানতের একটি বড় অংশ আটকে থাকলেও ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের অন্যান্য লাভজনকতার সূচকেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ সময়ে খাতটির রিটার্ন অন অ্যাসেটস নেমে হয়েছে ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং রিটার্ন অন ইকুইটি কমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।

তার ভাষ্য, সম্পদের গুণগত মানের অবনতি, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি, দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের দুর্বল প্রয়োগের কারণে ব্যাংকগুলোর লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কোনো আয় পাচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটি ব্যাংকগুলোর জন্য ভালো লক্ষণ নয়। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকিং ব্যবসার টেকসইতা এখন ঝুঁকির মুখে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণও বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণের পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণগ্রহীতাদের ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আয় নিশ্চিত করতে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে ঝুঁকছে।

মাহবুবর রহমানের ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার কারণে বিদ্যমান সংকটাপন্ন ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে দুই বছর সুদ আদায় স্থগিত রাখতে হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর মূল আয়ের উৎস নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয় বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ব্যাংকিং খাতের মুনাফা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন