আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) বললেন, তোমরা কি জানো, গরিব-সম্বলহীন কে? তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে গরিব হলো ওই ব্যক্তি, যার কোনো দিরহাম, দিনার ও মাল-সামানা নেই। তখন মহানবী (সা.) বললেন, প্রকৃত সম্বলহীন তো ওই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, জাকাত, সিয়াম নিয়ে উপস্থিত হবে ঠিকই; কিন্তু এটাও সঙ্গে আনবে যে সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ গ্রাস করেছে, হত্যাকাণ্ড করেছে, কাউকে প্রহার করেছে। ফলে সেদিন মাজলুম ব্যক্তিকে এই জালিম থেকে সাওয়াব দেওয়া হবে। আর যদি সাওয়াব শেষ হয়ে যায়, তাহলে মাজলুমের গুনাহ এই জালিমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অবশেষে তাকে জাহান্নামের অতলে ফেলে দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭৯, মুসনাদে আহমাদ, ৮০২৯)
শিক্ষা ও বিধান
১. মানুষ সাধারণত অর্থ-সম্পদহীন ব্যক্তিকে গরিব বা নিঃস্ব মনে করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত নিঃস্ব হলো সেই ব্যক্তি, যে অনেক নেক আমল নিয়ে কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে, কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করার কারণে সব সাওয়াব হারিয়ে ফেলবে।
২. নামাজ, রোজা, জাকাত ইত্যাদি মহান ইবাদত হলেও মানুষের প্রতি জুলুম করলে এসব আমল বিপদের কারণ হতে পারে। তাই ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও আচরণও শুদ্ধ হওয়া জরুরি।
৩. আল্লাহ তাআলা নিজের হক ক্ষমা করতে পারেন; কিন্তু বান্দার হক আদায় না করে ক্ষমা পাওয়া কঠিন। এ জন্য মানুষের অধিকার নষ্ট করা থেকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
৪. কারো সম্মানহানি করা, গালি দেওয়া, অপবাদ দেওয়া বা কুৎসা রটানো কিয়ামতের দিন কঠিন ক্ষতির কারণ হবে।
৫. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কবিরা গুনাহ। প্রতারণা, ঘুষ, সুদ, জবরদখল, আত্মসাৎ বা অন্যের হক নষ্ট করা আখিরাতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, শুধু বেশি বেশি নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়; বরং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ, জুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং উত্তম চরিত্র গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি বান্দার হকও যথাযথভাবে আদায় করবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম হবে। আর যে মানুষের ওপর জুলুম করে, সে যত বড় ইবাদতকারীই হোক না কেন, কিয়ামতের দিন প্রকৃত দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের মানুষের হক আদায়কারী, জুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং আখিরাতের প্রকৃত সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।




