• ই-পেপার

নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়

খেলাধুলায় কোনো দেশকে সমর্থন করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
খেলাধুলায় কোনো দেশকে সমর্থন করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

খেলাধুলা মানুষের বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তির একটি বৈধ মাধ্যম। যুগে যুগে মানুষ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসব করেছে এবং প্রিয় দল বা দেশের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ, অলিম্পিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-ফুটবল প্রতিযোগিতার সময় দেশ-সমর্থনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—খেলাধুলায় কোনো দেশ বা দলকে সমর্থন করা কি শরীয়তসম্মত? এটি কি বৈধ ভালোবাসা ও স্বাভাবিক আগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, নাকি তা অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ও গুনাহের পর্যায়ে পড়ে?

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করে না; বরং তা সঠিক নীতিমালার মধ্যে পরিচালিত করতে শিক্ষা দেয়। তাই খেলাধুলায় দেশ-সমর্থনের বিষয়টিও ইসলামের মূলনীতি, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এবং ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ডে বিচার করা প্রয়োজন।

ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার বৈধতা
ইসলাম উপকারী ও কল্যাণকর খেলাধুলাকে বৈধ ঘোষণা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘোড়দৌড়, তীরন্দাজি, কুস্তি ইত্যাদি উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)
এ থেকে বোঝা যায়, শরীরচর্চা ও উপকারী খেলাধুলা ইসলামে প্রশংসনীয়।


দেশকে সমর্থন করার হুকুম
কোনো খেলায় একটি দেশকে সমর্থন করা মূলত নাজায়েজ নয়। কারণ এটি মানুষের স্বাভাবিক পছন্দ ও আবেগের বিষয়। কেউ নিজের জন্মভূমি, সংস্কৃতি কিংবা পছন্দের খেলোয়াড়ের কারণে একটি দলকে সমর্থন করতে পারে। তবে এই সমর্থন তখনই বৈধ থাকবে, যখন তা শরীয়তের সীমার মধ্যে থাকবে এবং অন্ধ পক্ষপাতিত্বে পরিণত হবে না। কেননা ইসলাম অন্ধ দলীয় পক্ষপাতিত্ব নিষিদ্ধ করেছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনরা! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)
এই আয়াত শিক্ষা দেয় যে, কোনো ব্যক্তি, দল বা দেশের প্রতি ভালোবাসা যেন আমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না করে।

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়বিচার করো; এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৮)
অতএব, খেলার মাঠেও ন্যায়-অন্যায়ের বিচার হারিয়ে ফেলা যাবে না।

কাফিরদের ধর্ম ও আদর্শের প্রতি ভালোবাসা নিষিদ্ধ
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতাকারীদের প্রতি হৃদ্যতা পোষণ করে।’ (সুরা : মুজাদালাহ, আয়াত : ২২)
এ আয়াতের অর্থ হলো, একজন মুসলিম কাফিরদের কুফর, ইসলামবিরোধিতা বা আল্লাহ-রাসুলের বিরোধিতাকে ভালোবাসতে পারে না। তাই মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে বিধর্মীদের পরিচয়ে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত ঘৃণিত একটি কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের (অন্তরঙ্গ অভিভাবক ও আনুগত্যের কেন্দ্র হিসেবে) গ্রহণ কোরো না।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৫১

মুফাসসিররা ব্যাখ্যা করে, এখানে সাধারণ সৌহার্দ্য বা লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং এমন বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও সমর্থন নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা মুসলিম পরিচয় ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। এভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও উত্তম আচরণ করেছেন; কিন্তু তাদের কুফর ও বাতিল বিশ্বাসকে কখনো সমর্থন করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা দ্বীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।’ (সুরা : মুমতাহিনাহ, আয়াত : ৮)

পক্ষপাতিত্বের ব্যাপারে সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোত্রবাদ বা অন্ধ পক্ষপাতিত্বের দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫১২১)
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব পরিত্যাগ করো; এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৪)
সুতরাং কোনো দেশের সমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেলে যে, অন্যদের গালি দেওয়া, ঝগড়া করা, শত্রুতা সৃষ্টি করা বা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করা শুরু হয়, তাহলে তা হারাম বা অন্তত গুরুতরভাবে নিন্দনীয় হয়ে যায়।

খেলাধুলায় সমর্থনের ক্ষেত্রে মুসলিমের করণীয়
১. খেলাকে খেলাই মনে করা। খেলাকে জীবনের প্রধান বিষয় বানানো যাবে না। এটি বিনোদনের একটি মাধ্যম মাত্র।
২. ফরজ ইবাদত অবহেলা না করা। কোনো ম্যাচের কারণে সালাত, কোরআন তিলাওয়াত বা অন্যান্য দ্বীনি দায়িত্ব অবহেলা করা বৈধ নয়।
৩. গালি ও কটূক্তি পরিহার করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন গালি দেয় না এবং অভিশাপও দেয় না।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)
৪. ভ্রাতৃত্ব নষ্ট না করা। একটি খেলার কারণে বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা অত্যন্ত অনুচিত।
৫. জুয়া ও হারাম কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা। খেলার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা, জুয়া খেলা বা অর্থ লেনদেন করা স্পষ্ট হারাম।


অত্খএব, লাধুলায় কোনো দেশ বা দলকে সমর্থন করা নাজায়েজ বা অবৈধ কোনো বিষয় নয়। তবে তা হতে হবে সীমিত, শালীন এবং শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে। যদি সমর্থন অন্ধ পক্ষপাতিত্ব, গালিগালাজ, বিদ্বেষ, মারামারি, অহংকার, জুয়া কিংবা দ্বীনি দায়িত্ব অবহেলার কারণ হয়ে যায়, তাহলে তা গুনাহে পরিণত হবে।

একটি ম্যাচের ফলাফল কখনো মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, নৈতিকতা বা আল্লাহর আনুগত্যের চেয়ে বড় হতে পারে না। তাই একজন মুমিন খেলাকে বিনোদনের পর্যায়ে রাখবে, অন্ধ পক্ষপাতিত্ব থেকে বেঁচে থাকবে এবং সর্বদা কোরআন-সুন্নাহর আদর্শকে নিজের আবেগের ওপর প্রাধান্য দেবে। তাহলেই তার আনন্দও হবে বৈধ, আর তার চরিত্রও থাকবে ইসলামের সৌন্দর্যে অলংকৃত।

ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহে জড়িয়ে পড়ে—এটাই মানবজাতির স্বভাব। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের দরজা সব সময় খোলা। বান্দা যখন আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে নিজের পাপের জন্য লজ্জিত হয়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং চোখের অশ্রুতে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।  তাই একজন মুমিনের উচিত তাওবার পর এমন দোয়া করা, যা তার হৃদয়কে পবিত্র করবে, ঈমানকে দৃঢ় করবে এবং তাকে পুনরায় গুনাহে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। তেমনি একটি দোয়া হলো-

 رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফির লানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’

অর্থ : হে আমাদের রব। আপনি আমাদের জ্যোতিতে পরিপূর্ণতা দান করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর শক্তিমান। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

অনলাইন ডেস্ক
কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
সংগৃহীত ছবি

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির সূচনালগ্নে পবিত্র কাবা শরীফে  স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ (কিসওয়া) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিসওয়া উন্মোচন করা হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত হজের সময় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহররম মাসের শুরুতে এটি পরিবর্তনের রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পুরনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা তা দেখার জন্য ভিড় করেন।

সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্সে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় কাবার গিলাফ তৈরি করা হয়। প্রায় ১১ মাসের পরিশ্রমে শতাধিক দক্ষ কারিগর এটি প্রস্তুত করেন এবং সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া।

নতুন কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৭ খণ্ড উচ্চমানের রেশমি কাপড়। এতে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের সূতার ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রৌপ্য ব্যবহৃত হয়েছে এই অলঙ্করণে। পুরো গিলাফটির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধিসহ মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নতুন কিসওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো গিলাফ ছোট ছোট অংশে কেটে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্মারক হিসেবে বিতরণ করা হয়।

কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রা
সংগৃহীত ছবি

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু পবিত্র কাবা শরীফ। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রতীক। তাই এই পবিত্র ঘরের গিলাফ বা আবরণ (কিসওয়া) শুধু একটি কাপড় নয়; বরং এটি ইসলামের ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন। আর এই গিলাফ তৈরির ইতিহাসে সৌদি আরবের শাসকদের অবদান এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ-এর হাত ধরেই আধুনিক যুগে কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৩৪৫ হিজরিতে (১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে) তিনি পবিত্র কাবার জন্য টেকসই ও উন্নতমানের নতুন গিলাফ তৈরির নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরীর ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়।

এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৩৪৬ হিজরিতে, তিনি মক্কার আজিয়াদ এলাকায় কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির জন্য প্রথম সৌদি কর্মশালা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। ছোট্ট সেই কর্মশালাই পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত ইসলামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

পরবর্তীকালে সৌদি শাসকদের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতায় গিলাফ তৈরির এই ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হয়। বাদশাহ সাউদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ উৎপাদন ও এর সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এরপর বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ-এর আমলে কারখানার সংস্কার এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়।

খালিদ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে গিলাফ শিল্পের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল হয়। পরে ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ-এর সময়ে কারখানাটিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হয় এবং এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে উন্নত করা হয়।

এরপর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামলে উম্মুল-জৌদ এলাকায় অবস্থিত ‘কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য কাবা কভার’-এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়। তিনি এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন, পৃষ্ঠপোষকতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্তমানে সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কাবা শরীফের গিলাফ তৈরির কাজে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তাঁর শাসনামলে ব্যবহৃত রেশমি কাপড়, স্বর্ণ ও রৌপ্য সুতা এবং সহায়ক প্রযুক্তির মান আরও উন্নত করা হয়েছে। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গিলাফের সৌন্দর্য, স্থায়িত্ব ও শৈল্পিক মান নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আজিয়াদের একটি সাধারণ কর্মশালা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ উম্মুল-জৌদে অবস্থিত বিশ্বমানের এক বিশেষায়িত কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা শুধু কাবা শরীফের গিলাফ নির্মাণের ইতিহাসই নয়, বরং পবিত্র দুই মসজিদের খেদমতে সৌদি আরবের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধেরও উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে। পবিত্র এই ঘরের সেবা ও পরিচর্যা শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা এক সম্মানিত আমানত, যা ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।