• ই-পেপার

আদালতের রায় শুনে হাসলেন ইনু

ইনুর রায়ে অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ

আপিল করা হবে জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইনুর রায়ে অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, ক্ষুব্ধ আসামিপক্ষ
হাসানুল হক ইনুকে আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ছবি : সংগৃহীত।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখকে হত্যাসহ অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে উসকানি, ষড়যন্ত্র, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ৮টি অভিযোগের মধ্যে তাঁকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বাকি ৫ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রায় ঘোষণার আগে ইনুকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। রায় ঘোষণা শেষ হলে তিনি হেসে ওঠেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। হাসানুল হক ইনুর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

৩০ বছর সাজা হলেও ইনুকে খাটতে হবে ১০ বছর : 

মামলার ৩ নম্বর অভিযোগের কথা উল্লেখ করে রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এই অভিযোগের সাক্ষী রাইসুল হকসহ অন্য ভুক্তভোগীদের গুরুত্বর আহত তথা নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ণ করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) (ক) (জ), ৪(১) ৪(২), ২০(২) ও ২০(ক) ধারায় আসামি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।’

এ ছাড়া ষড়যন্ত্র, সংঘটিত অপরাধে প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে ৬,৭ নম্বর অভিযোগে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছর করে মোট ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেওয়া কথা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ‘আসামির বিরুদ্ধে আরোপিত সকল সাজা যুগপৎভাবে (একসঙ্গে) চলবে।’ ফলে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হলেও হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর সাজা খাটতে হবে।

এটা প্রহসনের বিচার : ইনু

রায় ঘোষণা শেষে ট্রাইব্যুনালের এজলাশ থেকে নামিয়ে সেলে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের দেখে গলার স্বর চড়িয়ে কথা বলতে শোনা যায় জাসদ সভাপতিকে। তিনি বলছিলেন, ‘১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল, আজ তাঁর ছেলে সাজা দিল। প্রহসনের আদালতে তারেক জিয়ার ফরমায়েশি রায়। এটা প্রহসনের বিচার।’ এরপর তিনি এও বলেন, ‘যাক বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি হলো।’

যে তিন অভিযোগে সাজা

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে আন্দোলন দমন ও আন্দোলনকারীদের আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেন ইনু।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেন। একই সভায় জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে তিনি মূলত আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড-নির‌্যাতনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আর দোষী সাব্যস্ত করা সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট বিকালে আন্দোলনকারীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে কারফিউ জারির মাধ্যমে গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে অধস্তনদের নির্দেশনা দেওয়া।

এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, আপিল করা হবে : চিফ প্রসিকিউটর

রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। যে ৩টি অভিযোগে ১০ বছর করে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই সাজা বাড়াতে এবং যেসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেই খালাসের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।’  

নিকৃষ্টতম অবিচার-ইনুর স্ত্রী

রায়ের পর সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দণ্ডিত হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আফরোজা হক রীনা। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মনে করি আইনের নিকৃষ্টতম অপব্যবহার এবং নিকৃষ্টতম অবিচার। আমরা এই রায়কে প্রত্যাখান করি। এটি একটি ফরমায়েশি রায়। মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে মতবাদ, সেই মতবাদের প্রতিফলনেএই রায়ের মধ্যদিয়ে ঘটেছে। এই মতবাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সাল থেকে আমাদের যুদ্ধ। আইনজীবী এবং দলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মামলা বৃত্তান্ত

গত বছর ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। সাড়ে পাঁচ মাস তদন্তের পর ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার‌্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ হিসেবে তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শুরু হয়। গত বছর ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের পর ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুইজন। গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিচারের তৃতীয় ধাপ। এদিন থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। তা শেষ হয় গত ১৪ মে। এদিন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২২ জুন মামলাটি ফের ট্রাইব্যুালের কার‌্যতালিকায় তোলা হয়। সেদিন আদালত ৩০ জুন রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করে দেন। সে অনুযায়ী রায় ঘোষণা করলেন ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ইসতি মেডিক্যালের এমডি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাগ্নিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ইসতি মেডিক্যালের এমডি কারাগারে
পুলিশের সঙ্গে আসামি মোহাম্মদ ফয়সাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভাগ্নিকে যৌন পীড়নের অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণের পর ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ফয়সাল। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন।

আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জমিসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে আসামির জামিন চেয়ে শুনানি করেন তারা।

অন্যদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। এ সময় তারা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আসামির জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ভিক্টিমের বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি মোহাম্মদ ফয়সাল বাদীর শ্যালক। ২০২৫ সালের ২১ জুন বিভিন্নভাবে বাদীর মেয়েকে (আসামির ভাগ্নি) ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। আসামি আপন মামা হওয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরী তার কথায় রাজি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। এই সময়ে আসামি নিজে ধূমপান করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীকেও ধূমপান করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে ধূমপানে অস্বীকৃতি জানায়।

এজাহারে বলা হয়, এ ঘটনার তিন দিন পর ২৪ জুন কিশোরীকে দুপুরে আসামি গুলশান থানাধীন কনকর্ড সিলভি হাইটস (৪র্থ তলা) ইসতি মেডিক্যাল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলেন। তার কথায় রাজি হয়ে সে সেখানে যায় এববং লাঞ্চ করে। পরে আসামি তার অফিসের ব্যালকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, ওই রাতে গাড়িতে করে কিশোরীকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হন আসামি। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে তাকে গাড়ি চালানো শিখানোর কথা বলেন আসামি ফয়সাল। এ সময় ফয়সাল ওই কিশোরীকে ড্রাইভিং সিটে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন এবং তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিকটিম বিষয়টি কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করে এবং অসুস্থতার ভান করে বাসা যাওয়ার কথা বলে। পরে তাকে বাসায় পৌঁছে দেন ফয়সাল।

সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেনি ভুক্তভোগী কিশোরী। পরে গত ১৭ এপ্রিল ভিকটিমের বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় এলে তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠে এবং গালাগাল করে। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এ ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা ফয়সালকে বাদী করে মামলা করেন।

আদালতে ভাগ্নের সাজার রায় শুনে মামার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতে ভাগ্নের সাজার রায় শুনে মামার মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামি মো. মিঠুনসহ নয় আসামির পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ৩০ জুন ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় রায় শুনে আদালতে উপস্থিত থাকা মিঠুনের মামা আইয়ুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পার্শ্ববর্তী ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান বলেছেন, এই মামলার নয় আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র মিঠুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ সময় আদালতে উপস্থিত মিঠুনের মামা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। 

সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামিরা হলেন মুরাদ, ছাবির, রাজা, মাসুম হোসেন, মিঠুন, বিল্লাল, রাজা, ওয়াহিদুল সনু ও জুম্মন মিয়া। তারা সবাই পলাতক থাকায় সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে অভিযান চালায় র‍্যাব-২। এ সময় এক হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনার দিন পুলিশ পরিদর্শক ইকরামুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সাজেদুল হক। এতে আসামি মিঠুনসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরে ২০১৯ সালের ২৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ

অনলাইন ডেস্ক
হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। এদিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম।

এর আগে ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আর ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।

গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।

মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।