• ই-পেপার

মানবসেবায় বসুন্ধরা গ্রুপের অনন্য উদ্যোগ

  • মনজুর এলাহী
  • সংসদ সদস্য
  • নরসিংদী-৩ (শিবপুর)

নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছেন লুনা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছেন লুনা

পড়াশোনা শেষ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশা ছিল খৈনকুট গ্রামের বাসিন্দা লুনা বেগমের। সে সময় তাঁর জীবন ছিল নানা স্বপ্নে পরিপূর্ণ। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়ে যায় লুনার। শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটে। স্বামী ইকবাল হোসেন প্রবাসী হওয়ায় সংসারজীবনও বেশ ভালোভাবেই চলছিল। তবে হঠাৎ স্বামীর মৃত্যু লুনার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। আট বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। সংসার চালাতে গিয়ে আর্থিক সংকট এতটাই বেড়ে যায় যে ভাইয়ের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করতে হচ্ছিল। তবু সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি লুনার। নিজে আয়-রোজগারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন লালন করলেও সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি। সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে একটি নতুন সেলাই মেশিন পান। এতেই খুলে যায় সম্ভাবনার নতুন দ্বার। লুনা বলেন, জীবনের কঠিনতম সময়ে বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিন আমাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। আমার স্বপ্নের পথ মসৃণ হলো। এখন আমি নিজে কিছু করতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের জন্য অনেক দোয়া করি। শিগগিরই ঘরে বসেই সেলাইয়ের কাজ শুরু করতে পারব। আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিজের উপার্জনে ছেলেকে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করা। কথার মাঝখানে লক্ষ করা যাচ্ছিল, লুনার চোখে এখন হতাশার বদলে আত্মবিশ্বাসের ঝলক।

 

স্বাবলম্বী হওয়ার পথ পেলেন জুলেখা

মো. শাফায়াত হোসেন
স্বাবলম্বী হওয়ার পথ পেলেন জুলেখা

বছরখানেক আগেও শিবপুরের গাছেরদিয়া গ্রামের জুলেখার জীবন ছিল হাসিখুশিতে ভরা। স্বামী খবির মিয়া ছিলেন একজন পরিশ্রমী কাঠমিস্ত্রি। তাঁর উপার্জনেই চলত পুরো সংসার। কিন্তু হঠাৎ স্ট্রোক করে স্বামীর মৃত্যুতে মুহূর্তেই বদলে যায় জুলেখার জীবনের বাস্তবতা। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়। হাসিখুশি আর আনন্দের বদলে কঠিন সংগ্রামের নতুন এক অধ্যায় শুরু হয় তাঁর জীবনে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন তিনি। সংসারের খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়াবহ রকমের দুশ্চিন্তায় কাটতে থাকে জুলেখার দিন। তবু ভেঙে পড়েননি জুলেখা। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প নেন। এমন একটি কাজ শিখতে চেয়েছিলেন, যা দিয়ে ঘরে বসেই আয় করা সম্ভব। জুলেখার সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় তিনি বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ হলে উপহার হিসেবে একটি নতুন সেলাই মেশিন হাতে পান জুলেখা। নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেন তিনি। বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর মনে হয়েছিল, জীবন চলার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে, আমি আবার নতুন করে শুরু করতে পারব। এই সেলাই মেশিন দিয়ে আয় করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে চাই। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া এখন আমার একমাত্র স্বপ্ন। মনে হচ্ছে, স্বাবলম্বী হওয়ার পথ পেয়েছি। আমার মতো অসহায় নারীর পাশে দাঁড়িয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ যে সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছে, তা কোনো দিন ভুলব না।

মানবিক কর্মকাণ্ডে দৃষ্টান্ত গড়ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ

মাহবুবুর রহমান মনির আহ্বায়ক নরসিংদী স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম

মানবিক কর্মকাণ্ডে দৃষ্টান্ত গড়ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ

তরুণদের সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বসুন্ধরা শুভসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব সময় তারা তরুণদের ভালো কাজে নিয়োজিত রেখেছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সারা দেশে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন মানবিক কাজের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। শিবপুরে দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। আমরা লক্ষ করেছি, বসুন্ধরার সেলাই মেশিন পেয়ে দরিদ্র নারীরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই সহায়তা তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথকে আরো সহজ করবে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন মহতী ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা কামনা করছি এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটি সমাজের উন্নয়নে আরো বৃহত্তর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

 

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করছে বসুন্ধরা গ্রুপ

ফারজানা ইয়াছমিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবপুর, নরসিংদী

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করছে বসুন্ধরা গ্রুপ

বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের কার্যক্রমগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে হলে তাঁদের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়তে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ শুভসংঘের মাধ্যমে সারা দেশে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন। তাঁদের পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজে তাঁদের মর্যাদা আরো সুদৃঢ় হবে। এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে আজকে সেলাই মেশিন বিতরণে উপস্থিত হয়েছেন প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি আমাদের সবার খুবই পছন্দের মানুষ। ইমদাদুল হক মিলনের মতো মানুষ যে সংগঠনের নেতৃত্বে থাকবেন, সেই সংগঠন মানুষের কল্যাণে সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ সারা বছরই সমাজের কল্যাণে এমন জনবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেএমনটাই আশা রাখছি।