চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অটোরিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) হাতিয়ে নিতে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান। এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আনোয়ারার চেনামতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর মেয়ে প্রিয়নী বড়ুয়া (১৬)। ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছরের শিশু পিয়াস বড়ুয়া আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায়। পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের বারান্দা ও কক্ষ থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।
জীর্ণ ভবনে সেটলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম
ঋণ থেকে বাঁচতে মা মেয়ে খুন, গ্রেপ্তার ১

সালিশে জীবনের মূল্য ২০ লাখ টাকা

রায়পুরায় সালিশের মাধ্যমে যুবক সজল মিয়া (১৮) হত্যার বিচার করে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের সোনাবালুয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, ২৯ মে কদমফুল পাড়া নিয়ে সোনাবালুয়া গ্রামের সজল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১২ জুন সজল মারা যান। গত শনিবার রাতে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সজলের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত মোক্তার ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে। মরদেহ দাফনের আগেই সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। জানা যায়, পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মিলে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা প্রদানের শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং এ ঘটনায় মামলা না করার পরামর্শ দেন।
২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি ও এলাকার কয়েকজন মিলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’
সড়কে ঝরল ৫ প্রাণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-
চকরিয়া (কক্সবাজার) : আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) সড়কের পেকুয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অটোরিকশার পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে এবিসি সড়কের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের টৈটং বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়ি টিক্কাপাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে হাসান আলী (৬৫) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার শৈলজানা এলাকার তোতা বেপারীর ছেলে আফজাল সরকার (৪৫)।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ভালুকায় বন্ধুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বিল্লাল হোসেন (৩৫) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালার আফসার উদ্দিনের ছেলে। উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের ভরাডোবা হোম গার্ডেনের সামনে ভরাডোবা-ঘাটাইল সড়কে গতকাল সোমবার বিকেলে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের যাত্রী মো. তোরাব মোল্লা (৭১) নামের এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ সময় অটোভ্যানের চালক বজলু মৃধা (৪৫) আহত হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া হাসামদিয়া মহল্লায়। নিহত মো. তোরাব মোল্লা ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের চৌধুরীকান্দা মহল্লার বাসিন্দা।
কালকিনি (মাদারীপুর) : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি মিনি ট্রাক ও একটি বড় ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালীগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণপাড়া এলাকায় ফিলিং স্টেশনের পাশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন আবু নাঈম খান (৫৫)। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দী এলাকার মৃত আব্দুর সাত্তার খানের ছেলে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস
পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও বাড়ে না ডুবুরি
আট জেলার জন্য অনুমোদিত ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন সাড়ে পাঁচ মাসে মরদেহ উদ্ধার ২৩ জনের

চলতি মাসের ৫ জুন নগরের ঘাঘট নদে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিহাব শাহরিয়ার। অন্য বন্ধুরা সাঁতার কেটে উঠতে পারলেও শিহাব উঠতে পারেননি। ফোন করা হয় ফায়ার সার্ভিসে, ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিহাবকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়।
গত ৭ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার দশমাইল দক্ষিণ সাহেবীজোত এলাকায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই মাদরাসাছাত্র ও একই দিন নীলফামারীর ডিমলার উত্তর সোনাখুলী গ্রামে রুপাইয়া (৪) ও আশফিকা (৪) নামে আপন দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়। ওই দিনই লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো বিভাগের আট জেলার জন্য অনুমোদিত ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। কোনো একটি জেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে রংপুর থেকে সেখানে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজ ব্যক্তির বেঁচে থাকার আশা আর থাকে না।
সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সময়ে ২২টি কল (ডাক) পেয়েছে তারা। উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পানিতে ডুবে যাওয়া ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে তাদের ডুবুরিদল। তবে বাস্তবিক অর্থে এই সংখ্যা অনেক বেশি। গত এক মাসের ব্যবধানে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় অন্তত অর্ধশত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নগরের ঘাঘটপাড়ার বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই ডুবে যাওয়া লোকদের মৃত্যু হয়। তারা উদ্ধারের পর মরদেহ হস্তান্তর করে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ২৫ জন ডুবুরির একটি ইউনিট ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে তাঁদের রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় রংপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগ দেন দুজন ডুবুরি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে দুজন ডুবুরি দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানোর পর ২০১৯ সালে আরো তিনজন ডুবুরি যোগ দেন। সেই থেকে পাঁচজন ডুবুরি দিয়ে চলছে পুরো বিভাগের উদ্ধারকাজ। মূলত বিভাগের কোনো জেলা-উপজেলায়ই স্বতন্ত্র স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট নেই, বিভাগের কেন্দ্রীয় দলকেই সব জেলা-উপজেলায় ছুটতে হয়।
রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। পানির গাড়ি, ফোম গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের চেয়েও কম ডুবুরি থাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মূলত বিভাগের জেলা ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসগুলোতে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোনো ডুবুরি নেই।
রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে কর্মরত ডুবুরি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এমনও দিন যায়, পঞ্চগড়ে দুই-তিন ঘণ্টা ডিউটি শেষ করে গাইবান্ধা থেকে কল আসে। তখন ওই পথেই গাইবান্ধা চলে যেতে হয়। আবার গাইবান্ধায় কাজ শেষ হতে না হতেই লালমনিরহাট বা অন্য কোনো জেলা থেকে কল আসে। তখন সেখানেও ছুটতে হয়। এভাবে টানা পাঁচ-সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ছোটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।’
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাঁচজন ডুবুরির বাইরে যাঁরা ফাইটার আছেন তাঁদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ আমরা করে থাকি। ডুবুরি নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানে। পদ সৃজনের কাজও চলমান রয়েছে।’
